দুদকের মামলা তাপসের প্ররোচনায় হয়েছে ঃ সাঈদ খোকন

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২১

দুদকের মামলা তাপসের প্ররোচনায় হয়েছে ঃ সাঈদ খোকন

অর্থপাচারের মামলা ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্ররোচনায় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটি আইনিভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করার কথাও বলেন।

সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক আচরণ করছেন তাপস। দুদকের এই কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছে।’

কেন এমনটি মনে হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস জন্মেছে তাপসের ক্রমাগত প্ররোচনায় এমন কাণ্ড ঘটেছে। আপনি দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলেই সেটি জানতে পারবেন।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন এই অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি জানান, তাঁর এবং পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাত কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ৬০৩ টাকা রক্ষিত রয়েছে।

সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই— দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনোরূপ নোটিশ প্রদান না করে, কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমার ও আমার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে সমস্যা হবে। আমার পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা বন্ধ হয়ে যাবে’, যোগ করেন সাঈদ খোকন।

দুদক গতকাল সোমবার জানায়, সাঈদ খোকনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি, স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি এবং মায়ের একটি ব্যাংক হিসাবসহ আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক বিপুল অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে যেন অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করা না যায়, সে বিষয় নিশ্চিত করতে ব্যাংক হিসাবগুলো জরুরি ভিত্তিতে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ স্থানান্তর করতে চেষ্টা করেছেন, যা তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্থাবর সম্পত্তি স্থানান্তর বা হস্তান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

ছড়িয়ে দিন