দুদকের সাথে মতবিনিময় শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

দুদকের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী
অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদক একসাথে কাজ করবে

শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)  এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় দুদক কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ শিক্ষা ক্ষেত্রে   দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানিক টিম’ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিকট পেশ করেন। এসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুদকের সাথে মিলে লড়াই করবে।  আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য ভাল মানুষ তৈরি করা। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস রোধসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের এই প্রতিবেদন সময়োপযোগী, এর অধিকাংশ সুপারিশই আমাদের  নজরে রয়েছে। এই সমস্যাগুলো আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে দূর করবো।  তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা যারা সততা, নিষ্ঠা, ন্যায় এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত থাকবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে  রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনৈতিকতা রয়েছে, পিতা যখন সন্তানের জন্য ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সন্ধানে উদ্যোগী হন তা আমাদের অবশ্যই বিচলিত করে।
শিক্ষার মান নিয়ে মন্ত্রী বলেন,   শিক্ষিত জাতি গঠন করতে হলে প্রথমত সকল শিশুদের বিদ্যালয়ে আনাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল,  আমরা সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছি । এখন দেশের প্রায় ৯৯.৪৭ ভাগ শিশু বিদ্যালয়ে নাম লেখাচ্ছে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে মন্ত্রণালয়।
দুদক কমিশনার বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এর আইন অনুসারে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা রাষ্ট্রপতি কিংবা মন্ত্রণালয়ে পাঠনো কমিশনের আইনি ম্যান্ডেট। তিনি বলেন,  দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের জন্যই কমিশন শিক্ষা ক্ষেত্রে   দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে  ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানিক টিম’  গঠন করে । এই টিমের সদস্যরা নিরলস অনুসন্ধান করে এই প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছে। এই প্রতিবেদনে  প্রশ্নপত্র ফাঁস, নোট/গাইড, কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, নিয়োগ ও  বদলিসহ দুর্নীতির বিভিন্ন উৎস এবং তা বন্ধের জন্য   ৩৯ টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে ।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দিন খান ও চৌধুরী মুফাদ আহমেদ,  কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার ও এ কে এম জাকির হোসন ভূঞা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, জাতীয শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষা প্রকোশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালাসহ শিক্ষা মন্ত্রণায়ের অধীনস্ত দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগন সভায় উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান পূর্ণাঙ্গ