দুধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন আতা

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১, ২০১৮

দুধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন আতা

সাদ্দাম হোসেন
সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীর ভাষাণটেক এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে সাভারের শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা নিহত হয়।
আতার সম্পর্কে রয়েছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো যেনো পাকিস্তানের দাউদ ইব্রাহিমকেও হার মানিয়ে দেয়। দুধর্ষ এই মাদক ব্যবসায়ীকে সাভারের মাদক সা¤্রাজ্যের ডন বলা যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ২০ টি মাদক মামলা রয়েছে। কিন্তু এরপরও পুলিশ তার বিরুদ্ধে তার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অর্থ আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলত আতার মাদক ব্যবসা। কিন্তু তার শেষরক্ষা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিচালিত মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুুদ্ধে আতার মৃত্যু হয়েছে।
আতা বিভিন্œ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করত। তার পৈতৃক নিবাস সাভারের মজিদপুরের ছোট বলিমেহের এলাকায়। আতার বাবার নাম ইসার উদ্দিন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিরুলিয়ার শীর্ষ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন মুক্তির সাথে আতার ছিল ব্যাপক সখ্যতা। তারা দুজনে মিলে সাভারে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। গত বছর মুক্তির মৃত্যু হলে আতা হয়ে ওঠে সাভারের মাদক সা¤্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি। একাই চালাতে থাকে ব্যবসা।
মঙ্গলবার( ২৯শে মে) দিবাগত রাত ৩ টায় ভাষাণটেক এলাকার দেওয়ানপাড়া লোহাগড়া ব্রীজের কাছে আতা ও তার সঙ্গীদের সাথে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় আতা, বাপ্পি ও মোস্তফা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সকলকে মৃত ঘোষণা করে।
এব্যাপারে র‌্যাব-৪ এর একটি সূত্র জানায়, আতার নামে ২০ টিরও অধিক মাদক মামলা ছিল। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করত। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে আতা সাভার থেকে পালিয়ে বেড়াতে শুরু করে। গোপনসূত্রে আমরা জানতে পারি আতা তার সঙ্গীদের নিয়ে রাজধানীর ভাষাণটেক এলাকায় অবস্থান করছে। পরে র‌্যাব- ৪ দেওয়ানপাড়া লোহাগড়া ব্রিজের কাছে কাছে অভিযান চালায়। সেখানে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব পাল্টা গুলি ছোড়লে আতা এবং তার দুই সঙ্গী বাপ্পি ও মোস্তফা গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।
আতার ব্যাপারে সাভার মডেল থানায় কয়টি মামলা রয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে সাভার মডেল থানার ওসি মোহসিনুল কাদির বলেন, আতাউর রহমার আতার নামে থানায় কয়টি মামলা রয়েছে তার যথাযথ তথ্য আমার কাছে এখন নেই। আর যেহেতু আতা র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে তাই র‌্যাবের কাছে তার সম্পর্কে ভালো তথ্য আছে এবং র‌্যাবেই তার সম্পর্কে ভালো বলতে পারবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ হতে জানা যায়, ইতিপূর্বে আতা পুলিশের সোর্স ছিল। পুলিশের সোর্স থাকাকালীন সময়ে মুক্তির সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং এরপরই আতা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে আতার মৃত্যুতে মজিদপুর ও রাজাশনসহ সাভারের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে আতার মতো এরকম মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করার জন্য এ জাতীয় অভিযান আরো আগেই শুরু করা উচিত ছিল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

August 2022
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031