দুর্নীতির কারণে জনগণের ভ্যাকসিন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে : বিএনপি

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

দুর্নীতির কারণে জনগণের ভ্যাকসিন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে : বিএনপি

করোনার ভ্যাকসিন আমদানির প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে জনগণের ভ্যাকসিন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই অভিযোগ করেন।

করোভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি সুবিধাভোগী মধ্যস্বত্ত্বভোগী নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নীতিগতভাবেই শুধু নয়, আইনগতভাবেও অপরাধমূলক একটা কাজ হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন আমদানি প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ফলে জনগণের এই টিকাপ্রাপ্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ভ্যাকসিন কবে আসবে—এটা নিয়ে গোটা জাতির সঙ্গে আমরাও চরমভাবে উদ্বিগ্ন। এখন পর্যন্ত সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ও নির্ধারণ করতে পারেনি।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘ভারত থেকে যে রপ্তানি করা হবে তার কোনো নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। কারণ ভারতের হাইকমিশনার বলেছেন, ভারতের চাহিদা মেটানো হবে, তারপর তাঁরা নির্ধারণ করবেন। তাঁদের পররাষ্ট্র সচিবও একই কথা বলছেন। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি যে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তাঁরা চুক্তি করেছেন যে, শ্রীলঙ্কাকে তাঁরা অগ্রাধিকার দেবেন। এই বিষয়গুলো অস্পষ্ট এবং এটা পুরোপুরিভাবে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে আবার প্রতারণার শিকার করা হচ্ছে।’

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘ভ্যাকসিনটা হচ্ছে জীবন রক্ষার করার একট বিষয়। এটা একটা অগ্রাধিকার। সেই ভ্যাকসিন নিয়েও তারা দুর্নীতি করছে, যেটা আমরা পত্রপত্রিকায়ে দেখছি। এই সরকার যে পুরোপুরিভাবে দায়িত্ব জ্ঞানহীন সরকার এবং জনগণের প্রতি যে তাদের কোনো রকম দায়দায়িত্ব নেই সেটাই এখানে প্রমাণিত হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামী ১৩ জানুয়ারি সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের লক্ষ্যে সংবিধান সম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করে বেআইনি সেনা সমর্থিত সরকার গঠন করা হয়। ১১ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় বিএনপির উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হবে।’

গতকাল শনিবারের স্থায়ী কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সভায় আগামী ১৯ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৮৫তম জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।