দুর্নীতি প্রতিরোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৫

এসবিএন ডেস্ক:
দুর্নীতি মানবচরিত্রেরই একটি বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীতে মানবজাতির যাত্রা যখন শুরু হয়েছিল, ঠিক তখন থেকেই দুর্নীতির গোড়াপত্তন। বাবা আদম ও মা হাওয়া (আ.) নবী ও নবীপত্নী হওয়ার সুবাদে মহান আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষার অধীনে থাকায় দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকলেও তাঁদের সন্তানরা মুক্ত থাকতে পারেনি তা থেকে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হাবিল ও কাবিলের ঘটনা সে কথাই প্রমাণ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের ঘটনা যথাযথভাবে পাঠ করো! যখন তারা উভয়ে কিছু কোরবানি পেশ করেছিল। তখন তাদের একজনের কোরবানি গৃহীত হয়েছিল আর অন্যজনেরটা গৃহীত হয়নি। সুতরাং (যার কোরবানি গৃহীত হয়নি) সে বলল, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। সে বলল, নিশ্চয়ই আল্লাহ খোদাভীরুদের থেকেই (কোরবানি) গ্রহণ করে থাকেন। তুমি যদি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, তবে আমি কিন্তু তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি আমার হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা আমি সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। আমি চাই, তুমি আমার ও তোমার পাপ নিজেই একা মাথায় চাপিয়ে নাও, অতঃপর তুমি জাহান্নামিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।’ (সুরা আল-মায়েদা : ২৭-২৯) উদ্ধৃত আয়াতের প্রতি অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকালে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়। এখানে দুর্নীতির কারণ, পরিণতি এবং দুর্নীতিবিরোধীদের অবস্থা স্পষ্ট বিবৃত হয়েছে। (ক) দুর্নীতির কারণ একটাই আর তা হলো, সার্থপরতা। (খ) দুর্নীতির পরিণতি-নিজের ও মজলুম জনতার সব পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করা। (গ) আর শান্তিকামী মানুষের অবস্থা হলো, তাকওয়া বা খোদাভীতি নিয়ে অন্যায়-অবিচার আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া।

পৃথিবীতে দুর্নীতির প্রথম প্রকাশ হজরত আদম (আ.)-এর এক পুত্রের থেকে এবং আপন সহোদরকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও করেছিলেন হজরত আদম (আ.)-এর অপর পুত্র। নিজের জীবন দিয়ে তিনি শান্তিকামীদের মহৎ অবস্থান নির্দেশ করে গেছেন। পৃথিবীর আদিতে দুর্নীতির রাহুগ্রাসে পতিত হওয়া মানবসভ্যতা এ থেকে মুক্ত হতে পারেনি আজও। তবে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রচেষ্টা চলে আসছে সেই আদিকাল থেকে। আদিতে যেমন নীতির শান্ত-শালীন অবস্থানকে টপকে দুর্নীতির অশান্ত-অশালীন আস্ফালনটা বড় হয়ে উঠেছিল, আজও সেই একই অবস্থা বিরাজমান। সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির প্রকৃতি ও ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বলা যায়, দুর্নীতি থেকে বাঁচার চেষ্টায় মানুষ যতটা সচেষ্ট, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্নীতিবাজরা এগিয়ে চলেছে; বরং তারা একটু বেশি কৌশলী বলা যায়। তাই আজ দুর্নীতির সামাজিকীকরণ হতে চলেছে। কন্যাসন্তানের জন্মর পর থেকে জামাতার রাক্ষুসেক্ষুধা ‘যৌতুকের দাবি’ মেটানোর জন্য মেয়ের বাবার প্রস্তুতি, মেয়ের বিবাহের জন্য বাবার পছন্দের তালিকায় পুলিশ, ইনকাম ট্যাক্স, ভূমি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্যাডারের চাকুরে ছেলে প্রথম অবস্থানে থাকা, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগে উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ, সরকারি ভূমি ভুয়া নামে বরাদ্দ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ঘুষ, বদলিতে ঘুষ, ফাইল নাড়াচাড়ায় ঘুষ, ন্যায্য বিল তুলতে ঘুষ, চিকিৎসায় ঘুষ, বিচারে ঘুষ-এ সবই দুর্নীতির সামাজিক রূপ। দুর্নীতিবিরোধী আওয়াজটা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে,। কারণ দুর্নীতি দমনের লোকজনও অবৈধ উৎকোচ দিতে বাধ্য হচ্ছে এবং নিজেরাও নিচ্ছে-এমন খবরও বেশ পুরনো।

দুর্নীতির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচারে আইন ও দণ্ডের প্রচলন মানবসমাজে বেশ আগে থেকেই। তবে দুর্নীতিকে বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িত করে তাকে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা ১৮৬০ সাল থেকে শুরু হয়। ভারত উপমহাদেশে ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গণকর্মচারীদের ক্ষমতার দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭’ প্রণীত হয়। জারিকৃত প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে; কিন্তু তাতে কাক্সিক্ষত ফল অর্জিত না হওয়ায় দুর্নীতিসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্থায়ীভাবে ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ গঠন করা হয়। অতঃপর ১৯৫৭ সালে ‘দুর্নীতি দমন আইন ১৯৫৭’ বলবৎ করা হয় এবং ১৯৬৭ সাল থেকে দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে সরকারের একটি স্থায়ী দপ্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও চলতে থাকে দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত কার্যাবলি। তারপর দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম গতিশীল করতে ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ সরকার ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে ২০০৪ সালে। বাস্তবতা হলো, এযাবৎ দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত যত আইন প্রণীত হয়েছে এবং যত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার কোনোটাই কাক্সিক্ষত সাফল্য আনতে পারেনি। কারণ (ক) বর্তমানে বাংলাদেশের ২২টি জেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের দপ্তর রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল জনবল নিয়ে কমিশনকে একটি দপ্তরের অধীনে দু-তিনটি জেলা অঞ্চলে অনেক প্রতিক‚লতার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে দূরত্বের কারণে অনেক সময় দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট সংবাদ পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। (খ) যাঁরা দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাঁদের নির্ধারিত ছকের মধ্যে থেকেই তা করতে হয়। আর বিদ্যমান আইনে দুর্নীতি হিসেবে শুধু সরকারি চাকুরেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই কোনো সরকারি কর্মকর্তা যখন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন, এমন কারো মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কমিশনের করার কিছুই থাকে না। আবার যাঁরা কমিশনে চাকরি করেন, তাঁরা দুর্নীতি দমনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে। তাই সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের দুর্নীতির খোঁজ-খবর করতে অধিকাংশ সময় তাঁদের কোনো আগ্রহ থাকে না। আবার যাঁদের দুর্নীতির বিষয় চাউর হয়ে পড়ে, তাঁরা যখন খুঁটির জোরে কমিশনের লোকদের চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন, জীবনের ওপর চেপে বসেন, তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই ধরা পড়া ঘুষের টাকার বস্তা ‘চালের বস্তা’ হয়ে, ব্যাগভর্তি হেরোইন ‘পাউডার’ হয়ে, হাতেনাতে ধরা পড়া দুর্নীতিবাজ সরকারের বিশেষ অনুগত হিসেবে সনদসহ মুক্তি পাওয়াটা অস্বাভাবিক মনে করা যায় না। কিন্তু ইসলাম দুর্নীতি দমনে কোনো ব্যক্তি, শক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরওয়া করে না। সব ধরনের ভীতি আর দুর্বলতার ঊর্ধ্বে থেকে ইসলাম দুর্নীতিকে সমাজ থেকে নির্মূল করতে চায়। ইসলামের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম দুই পর্যায়ে বিন্যস্ত। (ক) মানসিক ও নৈতিক, (খ) বিচারিক মানুষ মূলত পার্থিব সম্পদের মোহে দুর্নীতির পথে ধাবিত হয়। তাই দুর্নীতি দমনে প্রথম পর্যায়ে ইসলামী কর্মধারার লক্ষ্য হলো, প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়কে দুর্নীতিবিরোধী প্রেরণায় উজ্জীবিত করে তোলা এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। সে লক্ষ্যে সম্পদ ও ঔশ্বর্যের কুফল, হারাম উপার্জনের ভয়াবহ পরিণতির কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পর একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ কোরো না। আর মানুষের ধন-সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকের সমীপে নিয়ে যেয়ো না, তোমরা তো (এর পরিণতি সম্পর্কে) জানো।’ (সুরা আল বাকারা : ১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘ওই শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যা হারাম রিজিক দ্বারা প্রতিপালন করা হয়েছে।’ (তিরমিজি) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা ঘর-বাড়ি নির্মাণে হারাম থেকে আত্মরক্ষা করো। কেননা এটি ধ্বংসের মূল।’ (মিশকাত, বায়হাকি-শুআবুল ইমান) হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ইয়েমেনের গভর্নর করে পাঠানোর সময় বলেন, ‘তুমি বিলাসী জীবনযাপন পরিহার করবে। কেননা আল্লাহর প্রিয় বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না’।’’ (মুসনাদে আহমাদ) হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার দোয়া করতে গিয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন অবস্থায় জীবিত রেখো এবং আমাকে মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দান করো আর আমাকে মিসকিনদের দলর্ভুক্ত করে কিয়ামতের দিন উঠিয়ো।’ তখন হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কেন?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘কেননা মিসকিনরা ধনীদের চেয়ে চলি­শ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি, বায়হাকি-শুআবুল ইমান)

মানবসমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ইসলাম দিয়েছে অত্যন্ত কঠোর দণ্ডের বিধান এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির ধরন, প্রকৃতি ও গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে ইসলামী আইনে দণ্ড নির্ধারিত হয়ে থাকে। সে মতে, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে বিভিন্ন মেয়াদের জেল বা জরিমানা যেকোনোটাই হতে পারে। ইসলামী আদালতের বিচারকের পক্ষে প্রভাবিত হয়ে দণ্ডযোগ্য অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া বা অপরাধীর পক্ষে প্রভাব-প্রতিপত্তি বা অর্থের জোরে শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া-কোনোটাই সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিচারক তিন ধরনের, দুইজন যাবে জাহান্নামে, আরেকজন যাবে জান্নাতে। যে সত্য অবগত হয়ে সে অনুযায়ী হক ফয়সালা করে, সে প্রবেশ করবে জান্নাতে। আর যে সত্য না জানার পরও মিথ্যা ফয়সালা করে জাহান্নামে যাবে এবং যে জেনে-ঝুঝে অন্যায় ফয়সালা দান করে, সেও যাবে জাহান্নামে। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর খিলাফতকাল ছিল দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী ব্যবস্থাপনার বাস্তব উদাহরণ। তিনি যোগ্যতর ব্যক্তিদের প্রজাতন্ত্রের পদগুলোতে নিয়োগ দান করতেন। তাদের জন্য উপযুক্ত বেতন নির্ধারণ করে দিতেন, তাদের সম্পদের তালিকা সংরক্ষণ করতেন এবং চৌকস গোয়েন্দা বাহিনী নিয়োগ করেছিলেন, যাতে কোনো সরকারি কর্মচারী দুর্নীতিপরায়ণ হতে না পারে। তার পরও যদি কারো দুর্নীতি প্রমাণিত হতো, তাহলে তার ওপর কঠিন শাস্তি কার্যকর করা হতো। একবার হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে মিসরের এক পদস্থ কর্মকর্তা ‘আয়াজ ইবনে গানাম’-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে তিনি তৎক্ষণাৎ মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাকে মিসরে প্রেরণ করেন এবং তাঁকে বলে দেন, আয়াজকে যে অবস্থায় পাবে ওই অবস্থায়ই মদিনায় নিয়ে আসবে।’ মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা গিয়ে দেখতে পান, অভিযোগ সঠিক। আয়াজের শরীরে মসৃণ পোশাক শোভা পাচ্ছে এবং তাঁর গৃহদ্বার দারোয়ান পাহারা দিচ্ছে। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা তাঁকে ঠিক ওই পোশাকেই খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী মদিনায় নিয়ে আসেন। হজরত ওমর (রা.) নিজ হাতে তাঁর শরীরের মসৃণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং তাঁকে মোটা পশমি জামা পরিয়ে দেন। অতঃপর একপাল ছাগল নিয়ে আসার নির্দেশ দেন, তারপর আয়াজকে বলেন, যাও এবার গিয়ে এগুলো চড়াও। (আল-ফারুক)

দুর্নীতি মানবচরিত্রের সহজাত প্রবৃত্তি, তাই পৃথিবীতে মানুষ যত দিন থাকবে, দুর্নীতিও তত দিন থাকবে। সমাজকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত করা আদৌ সম্ভব না হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সেটি একমাত্র ইসলামী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সম্ভব। যেমন হয়েছিল রাসুলে কারিম (সা.)-এর যুগে ও খোলাফায়ে রাশেদার যুগে। পরকালে জবাবদিহির ভয় মানুষের মনে যত বেশি কাজ করবে, সমাজের দুর্নীতিও তত কমে আসবে।

লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব

রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com