দেড়দিনের ঘুম

প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৮

দেড়দিনের ঘুম

শেলী সেনগুপ্তা
ঝির ঝিরে বৃষ্টির ঝাপটা মুখে এসে পড়তেই অলকের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। চমকে উঠলো বদ্ধ ঘরের মধ্যে বৃষ্টির জল এলো কী করে। ধরফর করে উঠে বসলো। মাথার কাছে জানালাটা খোলা। বেশ একটু অবাক হলো, রাতে নিজ হাতে জানালা বন্ধ রেখে ঘুমিয়েছে। খুললো কে? বাড়িতে চোর আসেনি তো? বিছানা থেকে নেমে চারদিক ভালো করে দেখে আবার জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। কিন্তু ঘুম আসছে না। বার বার মনে হচ্ছে জানালাটা খুললো কে। বিছানায় শুয়ে শুধু এপাশ ওপাশ করছে। আর একটানা ভেবে যাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেলো। মন খারাপ নিয়েই অলকের ঘুম ভাঙ্গলো।
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরে দেখতেই মন ভালো হয়ে গেলো। চারপাশটা খুব সুন্দর লাগছে। সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে গাছগুলো সদ্যস্নাতা যুবতীর মতো ঢলোঢলো ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাল্কা বাতাস লেগেও টুপটাপ করে জল পড়ছে। জলের তোড়ে বাড়ির সামনের মাটির রাস্তায় ছোট ছোট বেশ কয়েকটা বাঁক দেখা যাচ্ছে। কোথা জল জমে নেই, শুধু বাঁকগুলো দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে ওর মন ভালো হয়ে গেলো। বেশিরভাগ সময় ওর ভাল থাকে না।
অলকের মন ভালো হয়ে যেতেই সে খুব ভয় পাচ্ছে। মন ভালো হওয়াকে ভয় পায় সে। কারণ মন ভালো হলেই নিজেকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে। তখন নিজেকে আয়নায় দেখে আর অন্যদের সাথে তুলনা করে। দেখে আর আনন্দিত হয়। আনন্দিত হয়ে লেজওয়ালা ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায়। উড়তে উড়তে যদি ওর চেয়ে সুন্দর বা গুণবান কেউকে দেখে তখনই মন খারাপ হয়ে যায়, আর যা মন চায় তা ই করে । কী করে তা সে বলতে পারেনা। কিন্তু তার পরে আশেপাশের মানুষগুলোকে কষ্ট পেতে দেখে। কেউ বোঝে না কে করেছে, শুধু তারা নিজেদের কষ্টে হাহাকার করে।
এইতো সেদিন ওর খুব আদরের ছোটবোনকে একটা ছেলের সাথে ঘুরে বেড়াতে দেখলো। ছেলেটা দেখতে খুব সুন্দর। মার্জিত আর শিক্ষিত। ওদের মেলামেশা অল্পদিনের মধ্যেই সবাই জেনে গেলো। ওর প্রতি নির্দেশ হলো ছেলেটার পরিবার যেন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। যথারীতি এলো। পরিবারের সবাই ওকে পছন্দ করেছে। বিয়ে পাকা হয়ে গেলো। ছয়মাস পরেই ছোটবোনের ফাইনাল পরীক্ষা। সিদ্ধান্ত হলো পরীক্ষার পরেই বিয়ে হবে। সব ঠিক হয়ে গেলো কিন্তু অলককে কেউ জিজ্ঞেস করলো না। ওর আদরের বোন, কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো তাহলে কী নিষেধ করতো? করতো না। আরো আনন্দের সাথে রাজি হয়ে যেতো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মেনে নিতে পারলো না। চুপচাপ নিজের রুমে গিয়ে বসে থাকলো। ওর রুমটা ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির পাশে। দেখলো ছেলেটার সাথে ছোটবোন ছাদে যাচ্ছে। ছাদে ওর একটা বাগান আছে, ছেলেটাকে দেখবে। তখনই ওর মনের মধ্যে কেউ গুনগুন করে উঠলো। কেউ ওকে বললো, ‘এইতো সুযোগ’। ওরা ছাদে যেতেই অলক দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকলো। হঠাত শুনে বাবা বোনকে ডাকছে। বোন ছাদ থেকে দ্রুত ড্রইংরুমে চলে গেল। অলকের ঘরের দরজাতে একটা পলিথিন পড়েছিলো। সেটা নিয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল। উপর দিক থেকে তৃতীয় সিঁড়ির উপরে একটা পাতলা পলিথিন রেখে নেমে গেলো। পড়ার টেবিলে বসে সেদিনের খবরের কাগজে মন দিলো। এরপর একটা পতনের শব্দ শুনলো, ড্রইংরুমের সবাই ছুটে এলো। বোনের হবু বর সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পরে গেছে। এম্বুলেন্স, হাসপাতাল সবাই ব্যস্ত হয়ে গেলো। সবাই হাসপাতালে, বাড়িটা একদম নিরব হয়ে গেলো। সিঁড়ির নিচে খানিকটা জায়গা জুড়ে জমাট রক্ত। অলক রুম থেকে বের হয়ে রক্তের দিকে তাকিয়ে রইলো। কেমন যেন শান্তি শান্তি লাগছে। মাথার ভেতর হালকা একটা বায়ু্প্রবাহ হয়ে গেলো। ঘুম পাচ্ছে। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। পুরো দেড়দিন টানা ঘুমিয়েছে।
ঘুম ভেঙ্গে জানলো, ছেলেপক্ষ বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে। বিয়ের কথা পাকা করতে গিয়ে এই দূর্ঘটনাকে ওরা অশুভ বলে ধরে নিয়েছে। বোনটা ক’দিন বেশ কান্নাকাটি করলো। ওর কান্না দেখে অলকের মন খারাপ হয়ে গেলো। একসময় বোন সব কিছু মেনে নিলো। সবাই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
সেদিন দেখলো মা কোথা থেকে যেন একটা বেড়াল এর বাচ্চা নিয়ে এসেছে। ওটাকে বোতলে নিপল লাগিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছে। পাশে বসে বোন আর বাবা দেখছে। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। অলক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে চুপচাপ অপেক্ষা করছে। ওকে কেউ খেয়াল করছে না। গুরুগম্ভীর বাবা বলছে, কী সুন্দর দেখতে, যেন সাদা উলের গোলা’। সাথে সাথে অলকের মাথার মধ্যে আগুন ধরে গেলো। চুপচাপ নিজের রুমে চলে এলো। বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে সারা ছাদ জুড়ে শুয়া পোকা হাঁটাহাঁটি করছে। মাথাটা ঝিম ঝিম করে উঠলো। সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলো। ঘর থেকে বের হয় না। এখন সারাদিন বিছানায় শুয়ে ছাদের শুয়া পোকা গোনে। রুমে বসেই বেড়ালের বাচ্চাটার মিউ মিউ শব্দ শুনতে পায়।
ছোটখালার বাসায় নিমন্ত্রন আছে সবার। সবাই যাচ্ছে। অলককে অনেকবার বলার পরও গেলো না। মা মন খারাপ করলো। ওকে রেখেই চলে গেলো সবাই। মা যাওয়ার সময় রান্নাঘরের একপাশে একটা বাটিতে দুধ রেখে গেলো। বেড়াল এর বাচ্চাটা এখন নিজে নিজে দুধ খেতে পারে।
সবাই চলে যাওয়ার পর অলক সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ালো নিজের মনে। ওকে দেখে বেড়াল এর বাচ্চাটা মিউ মিউ করে ডাকছে। ভাব জমানোর চেষ্টা করছে। অলক কাছে এসে ওকে কোলে নিলো, মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক আদর করলো। দুধের বাটির কাছে নিয়ে গেলো। চুক চুক করে দুধ খেলো। অলকের হাতের উপর বেড়ালছানাটা শুয়ে আছে। ওর মাথার মধ্যে হঠাত করে ছাদের শুয়াপোকাগুলো নড়াচড়া শুরু করেছে। একপা একপা করে গ্যাস ওভেন এর কাছে চলে এলো। এক হাতে চুলা জ্বালালো,আর অন্যহাতে বেড়ালছানাটাকে চুলার মধ্যে ঠেসে ধরলো। মুখটা নিচের দিকে দেয়াতে শব্দও করতে পারলো না। একটু ছটফট করে থেমে গেলো। এবার অলক ধীরে সুস্থে গ্যাসওভেন অফ করলো। বেড়ালছানার নিথর দেহটা নিয়ে বসে আছে রান্নাঘরের মেঝেতে। পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওর মাথার মধ্যে একটা শান্তির বায়ু বয়ে গেলো। দেহটাকে কমোডে ফেলে ফ্লাস করে দিলো। ঘুম এসে যাচ্ছে। শরীর জুড়ে ঘুম।
এবার নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লো। কখন ওরা ফিরেছে সে জানে না নিজেরাই চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো। এসেই বেড়ালছানাকে খুঁজছে। নাপেয়ে সবার সে কী মন খারাপ।
অলক দেড়দিন ঘুমিয়ে কাটালো। দেড়দিন পর ঘুম থেকে জেগে ওঠা অলক এর সব কিছু স্বাভাবিক চলছে। কিন্তু বাবামা আর বোন এর খুব মন খারাপ। অলক আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছে। নিজের মতো চলাফেরা। ঘরে ফিরেই মা আর বোনের সাথে গল্প করে। একসাথে খেতে বসে। বাবার সাথে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করে। দিনগুলো ফুরফুর করে চলে যাচ্ছে।
আজকাল পাশেই ফ্ল্যাটে একটা পরিবার এসেছে। ওরা স্বামীস্ত্রী, একটা ছোট বাচ্চা। ওদের সাথে ভদ্রলোকের শ্যালিকা। কলেজে পড়ে। খুব সুন্দরী। পরিবারটি এসেই অলকদের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ট হয়ে গেলো। সারাক্ষন এবাসা ওবাসার যাতায়াত চলছে। চলছে খোশগল্প। ছোট ছেলেটা সারাক্ষণ বোন অথবা মায়ের কোলে। অফিস থেকে ফিরে বাবাও ওর খোঁজ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে সিঁড়িতে দেখা হয় প্রতিবেশিনীটির সাথে। খুব ইচ্ছে হয় গল্প করতে। বেশ কিছুদিন যেতেই সুযোগ হলো। একদিন একই সময় একসাথে বের হয়ে মেয়েটি যাচ্ছিলো কলেজে। অলকের যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। ওকে রিক্সা ঠিক করে দিলো। জানা হলো মেয়েটার নাম মায়া।
সেদিন থেকে ওরা মাঝে মাঝে একসাথে ছাদে গিয়ে গল্প করে। মায়া ফুল ভালোবাসে। ছাদে ফুলগাছ লাগিয়েছে টবে। দু’জন মিলে পরিচর্যা করে। বেশ ভাল সময় কেটে যায়।
হঠাত একদিন মায়া আর ছাদে আসে না। পরদিনও না। তারপর দিনও এলো না। অলকের মন খারাপ লাগছে । খুব অস্থির লাগছে। কেউকে জিজ্ঞেস করাও যাচ্ছে না।
বেশ ক’দিন পরে এলো। জানলো, বাচ্চাটা অসুস্থ ছিলো তাই ওকে দেখাশুনা করতে হতো। অলকের মাথার মধ্যে একটানা মৌমাছির গুঞ্জন শুরু হলো। কিছুতেই থামিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চাটাকে দেখলে এ গুঞ্জন আরো বেড়ে যায়। নিজেকে অনেক কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখে। বিকেলে ছাদে যায়, গাছের পরিচর্যা করে আর মায়ার সাথে গল্প করে। একদিন ওরা গল্প করছিলো তখনই নিচ থেকে ওর বোন ডাকলো,
‘ মায়া, নিচে আয়, আমি রান্না করছি, তুই খোকাকে দুধ খাইয়ে দে’।
‘ আপুনি, আসছি আমি’।
মায়া নিচে নেমে গেলো। অলকের কের মাথার মৌমাছিগুলো ওকে আর ঠিকতে দিচ্ছে না। সেও চুপচাপ নিচে নেমে এলো।
আজকাল অলক আর ছাদে যায় না। নিজের রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করে। মায়াও আর ছাদে যায় না।
মা রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত। ছোটবাচ্চাটা বোনের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। বোন বাথরুমে। হঠাত অলকের কী হয়ে গেলো। বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে সোজা বেলকনিতে চলে এলো। মাত্র একহাত পরেই একটা রাস্তা। শহরের ব্যস্ত রাস্তা। সাঁই সাঁই করে ট্রাক যাচ্ছে। বাচ্চাটাকে দু’হাতে বেলকনির ওপারে নিয়ে গেলো। হঠাত একটা হ্যাঁচকা টান। বাচ্চাটা এখন বাবার কোলে। অফিস থেকে ফিরে বাবা দেখে ফেলেছে অলক বাচ্চাটাকে বেলকনি দিয়ে বাইরে ফেলে দিচ্ছিলো। বাচ্চাটাকে ওর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলো। বাচ্চাটা কাঁদছে। বাবা অলককে বকছে।
অলকের মাথার মধ্যে আগুন জ্বলছে। চিৎকার করছে। দেয়ালে মাথা ঠুকছে। সবাইকে মারতে চাইছে। বাচ্চাটাকে ছিনিয়ে নিতে চাইছে। মা আর বোন ওকে জোর করে রুমের রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিলো।

এরপর ডাক্তার, এম্বুলেন্স, বেশ ক’জন গাট্টাগোট্টা লোক, একটা ইঞ্জেকশান, অলকের চোখজুড়ে ঘুম। যখন জাগলো একটা সাদা দেয়ালের একরুমের মধ্যে বসবাস। ডাক্তার আসে, ঔষধ খাওয়ায়, ঘুমিয়ে পড়ে। আবার ডাক্তার আসে। তবে ডাক্তার কখনো একা আসে না। দু’পাশে দু’জন মোটা তাগড়া লোক থাকে।
অলক জানে না কতদিন কেটে গেছে। জীবন কাটছে একই নিয়মে। তবে আজকাল একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। হাসপাতালের বুড়ো ডাক্তারটা আর আসে না। এখন আসে একটা মেয়ে। সাদা এপ্রোনপরা খুব সুন্দর একটা মেয়ে। ফর্সা গায়ের রং,একপাশে একটা দাঁত সামান্য উঁচু। হাসলে দেখা যায়। অলকের খুব ভাললাগে। এই দাঁতটা যেন ওর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ সামনে থাকে দু’চোখ ভরে দেখে। চলে গেলে মনের আকাশে মেঘ জমে। তবে যে বিষয়টা অলকের ভালোলাগে না তাহলো ওর দু’পাশে থাকে দু’জন তাগড়া লোক। বেশ গাট্টগোট্টা। অলকের দিকে খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এতোদিন পর তার খুব ভালোলাগা শুরু হলো। অলক ভয় পাচ্ছে। এই ভালোলাগাটা আসলে ভালোলাগে না। মনের মধ্যে কিসের যেন প্রস্তুতির তাগাদা আসে। চাইলেও এড়াতে পারেনা।
আজকাল সব কিছুই মেনে নিচ্ছে অলক। ডাক্তার যা বলে শোনে। চুপচাপ ঔষধ খেয়ে নেয়। কিছু বই পত্র পড়তে দেয়া হয়েছে। পড়ে আর ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে। ডাক্তার খুব খুশি। ভাবছে ওকে খুব তাড়াতাড়ি একটা গ্রুপ টেষ্ট দিতে পাঠাবে। তাতে পাশ করে গেলে রিলিজ করে দেয়া হবে।
এখন সেই সুন্দরী ডাক্তার আর সাথে করে তাগড়া গার্ডদের আনে না। একায় আসে। ওপরমহল থেকে নিষেধ করা হয়েছে। শুনে না। নিজের চিকিৎসার উপর অগাধ আস্থা! অলকের ভালোলাগার তীব্রতা বাড়ছে। মুগ্ধতাও বাড়ছে।

অলক জানে সে কিছু দিনের মধ্যে রিলিজ পেয়ে যাবে। তখন আর লেডি ডাক্তারকে দেখা হবে না। মাথার মধ্যে লাল পিঁপড়ের নড়াচড়া টের পাচ্ছে। আজ আর ঘুম আসছে না। রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছে। অপেক্ষা অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
দরজা খুলে গেলো। লেডি ডাক্তার প্রবেশ করলো। হাসছে, হাসির সাথে সাথে একপাশের একটু উঁচু দাঁতটা বের হয়ে এসেছে। আজ যেন আরো বেশি সুন্দর লাগছে। অলকের মাথার মধ্যে লাল পিঁপড়ের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেলো। কামড়াচ্ছে। কুটকুট করে কামড়ে মগজ খেয়ে নিচ্ছে। অলকের মাথার ভেতরে অসহ্য যন্ত্রণা। বাতাস চায় , অনেক বাতাস দরকার।

লেডি ডাক্তার এখন অলকের বিছানায় শুয়ে আছে। চোখ বন্ধ। একটা চাদর দিয়ে ওর শরীরটা ঢাকা। কপালের চুলগুলো সরিয়ে একটা চুমু খেলো অলক। সব কিছুই আগের মতো, শুধু গলার দু’পাশে আঙ্গুলের কালো দাগ।

অলক এর মাথার ভেতরে এখন শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। কেমন যেন সুখ সুখ ভাব। খুব ঘুম পাচ্ছে। এখন ঘুমাবে সে। ধীরে ধীরে মেঝেতে শুয়ে পড়লো। হাতটাকে বালিশের মতো মাথার নিচে রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো। এ ঘুম দেড়দিন আগে ভাংবে না। অলকের নিশ্বাস গভীর হচ্ছে। ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। খুব নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে অলক।

Calendar

February 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28  

http://jugapath.com