ধর্ম শিক্ষার দায়িত্বটি এখন থেকে আপনারা নিজেই পালন করুন

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

ধর্ম শিক্ষার দায়িত্বটি এখন থেকে আপনারা নিজেই পালন করুন

সাবিনা শারমিন

প্রিয় বাবা-মা,
ধর্ম শিক্ষার দায়িত্বটি এখন থেকে আপনারা নিজেই পালন করুন।

পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে ভয়ংকর নির্মমভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে দিলো এক লম্পট শিক্ষক ও তার পা চাটা দল। সাদা কাপড়ে মোড়ানো পোড়া দগদগে শরীর নিয়ে অপমানিত,লাঞ্ছিত হওয়া দ্রোহে ফেটে পরা কিশোরীর শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত ‘অন্যায়ের বিচার হবে’এই প্রত্যাশা নিয়ে প্রহর গুণতে গুণতে অবশেষে মৃত্যুকেই বরণ করে নিলো নুসরাত। কিন্তু তার প্রতি অন্যায়ের কথা গুলো পৃথিবীর সকলকে সত্যিই জানিয়ে গেছে আমাদের। মৃত্যু তাকে নিয়ে গেছে,কিন্তু আমাদের দেশ নুসরাতদের কাগজে কলমে সকলের মতো বেঁচে থাকার নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলো। সারা দেশ যখন নুসরাতের প্রয়াণে ব্যথিত তখন পুলিশ কাস্টডিতে হত্যাকারী সিরাজের হাসির কারণ বড়ই নির্মম,বেদনাদায়ক এবং হৃদয় বিদারক।

সিনেমার ধারাবাহিক দৃশ্যের মতো আমাদের কিন্তু অজানা নয়,যে এ ঘটনার পরের দৃশ্য কি।তারপরেও যেনো শেষ দৃশ্যের জন্য অপেক্ষায় থাকি,আমরা যেন উপভোগ করতে থাকি ঘটনার ধারাবাহিকতায় শেষ দৃশ্যের বেদনাদায়ক পরিসমাপ্তির জন্য।

মেয়েটি শিক্ষক সিরাজ দ্বারা লাঞ্ছিত হলো,তারপর পুলিশের কাছে বিচার দিলো,পুলিশ মেয়েটিকে মুখ থেকে হাত সরিয়ে কথা বলতে বলল । দৃশ্য ধারণ করলো,এরপর বৈঠক হলো,বৈঠকে নীল নকশা হলো,অতঃপর কয়েকজন নারীকে লেলিয়ে দিয়ে আরেকজন নারীকে নির্মম,নিষ্ঠুর এবং করুণ ভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে দেয়া হলো।অথচ এই ধারাবাহিকতায় ঘটনার মাঝখানে এসে কেউ এই পরিণতি ঠেকা্তে পারলোনা এবং হয়তো কেউ ঠেকাতে ইচ্ছা প্রকাশও করেনি।

বরং পুলিশের ভুমিকায় এবং আচরণে মনে হয়েছে সেই পুলিশও মেয়েটিকে অশোভন ভাবে আশা করেছিলো।অথচ পুলিশের পেশাই ছিলো জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া।যারা এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটালো,তারা সকলেই সমাজের কাছে ধার্মিক।পরিতাপের বিষয় ধর্মের মহৎ বাণী তাদের কাউকে এই নির্মমতা থেকে তাদের নিবৃত করতে পারেনি।

আল্লাহর কাছে আশা ব্যক্ত করে যৌন নির্যাতন কারী প্রিন্সিপালকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলো নুসরাত।যেনো আর কারো সাথে কেউ এমন অন্যায় আর না করে।কিন্তু আল্লাহ তাকে সাহায্য করেননি।করেনি নারী,করেনি কোন পুরুষ।করেনি পিয়ন,করেনি কোন প্রতিবেশী,করেনি মাদ্রাসার অন্য কোন শিক্ষক।সাহায্য করেনি তার কোন সহপাঠী,বোনের মতো বন্ধুরা,এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

বৈরী আবহাওয়া জেনেও জলে নেমে কুমিরের সাথে একাই যুদ্ধে নেমেছিলো মেয়েটি।তবে লাঞ্ছিত হলে আত্মহত্যা করতে হবে,পুরুষপাল নিয়ন্ত্রিত এবং প্ররোচিত এমন সংস্কৃতিকে পাত্তা না দিয়ে বিদ্রোহী হয়েছিলো মেয়েটি।তাই সে আত্মহত্যাকে ঘৃণা করেছে। প্রতিবাদী হয়ে আশা করেছিলো অন্যের জীবনে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। বরং সে বাঁচতে চেয়েছিলো।সে ধার্মিকের মুখোশ খুলতে চেয়েছিলো।সে সকলকে অত্যাচারের সব কথা জানাতে চেয়েছিলো।ছোট কিশোরী বলেছিলো আমার যা হয় হোক তার যেনো শাস্তি হয়।

প্রিয় বাবা-মা,
এরপরেও কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠাবেন?ধর্ম শিক্ষার দায়িত্বটি না হয় আপনি নিজেই পালন করুন।

লাইভ রেডিও

Calendar

May 2024
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031