ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ

প্রকাশিত: ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৬

ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ

এসবিএন ডেস্ক: দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে সেতুর ৭ নম্বর পিলারে দক্ষতার সঙ্গে একটি পাইল বসানো সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও একটি বসানো শুরু হয়েছে।এতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। একে একে ৭ নম্বর পিলারটিতে মোট ছয়টি পাইল বসানো হবে।

এ পিলারে প্রতিটি পাইল ৭০ ফিট মাটির গভীরে নেওয়া হবে। অন্য পিলারে কম-বেশি গভীরতা হতে পারে। এ ছাড়াও পদ্মা সেতুর ৬ নম্বর পিলারে পাইল বসানোর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানেও দু-এক দিনের মধ্যে পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের।

২০১৮ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতুতে সড়ক ও রেল সংযোগ চালু করার লক্ষ্য নিয়েই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতুর মূল কাজের অংশ হিসেবে ৭ নম্বর পিলারের পাইলিং উদ্বোধনের পর থেকেই রাত-দিন পুরোদমে কাজ চলছে। ওই দিন আড়াই হাজার টন ওজনের জার্মানির হাইড্রোলিক হ্যামার দিয়ে শুরু হয় এ সেতুর ৭ নম্বর পিলারের পাইলিং কাজ। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪২টি পিলার পদ্মাবক্ষে বসানো হবে। প্রতিটি পিলারে থাকবে ছয়টি করে পাইল। তবে দুই পাড়ের পিলার দুটিতে আরও ছয়টি করে বেশি পাইলসহ মোট ১২টি করে পাইল বসানো হবে।

পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে শিফটওয়াইজ কাজ চলছে এবং ড্রেজিংসহ নদীশাসনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। নদীশাসনের কাজের দায়িত্বে রয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর মূল নির্মাণকাজের জন্য চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যৌথভাবে বাংলাদেশি আবদুল মোনেম লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার হাইওয়ে কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কাজ করে চলছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

নির্মাণে বসুন্ধরা সিমেন্ট : ২০১৮ সালের মধ্যে জাতীয় অহংকারের এ সেতুটি চালু করতে বিপুলসংখ্যক চাইনিজ ও বাংলাদেশি প্রকৌশলী, পদ্মা সেতুর টেকনিক্যাল পরামর্শক বিশেষজ্ঞ প্যানেল, দক্ষ দেশি-বিদেশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক পদ্মা সেতু প্রতিষ্ঠার নানা সরঞ্জামাদি নিয়ে শিডিউলমাফিক কাজ সম্পন্ন করছেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরও জানান, এ প্রকল্পের প্রায় ২৯ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজের ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।
এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের বসুন্ধরা সিমেন্ট। নদীশাসনের জন্য প্রকল্প এলাকায় সিমেন্টের ব্লক তৈরি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো। প্রায় সোয়া কোটি সিমেন্টের ব্লক তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বসুন্ধরা সিমেন্ট। এ জন্য সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসুন্ধরা সিমেন্টর বেশ কয়েকটি সাইলো গড়ে তোলা হয়েছে। সংযোগ সড়ক, নদীশাসন ছাড়াও মূল সেতুতেও বসুন্ধরা সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান।

মোট ৪২টি পিলারের ওপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্ববৃহত্ এ সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। দুই তলাবিশিষ্ট এ সেতুর নিচতলা দিয়ে রেল ও ওপর দিয়ে সড়কযান চলাচল করবে। ১৫০ মিটার পর পর এ পিলার বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া দেড় কিলোমিটার করে উভয় পাড়ে তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতুর জন্য আরও ২৪টি পিলার করা হবে। মোট ৬৬ পিলার বসানোর কাজ হচ্ছে।
পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হলে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে এটি। বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন হবে পদ্মা সেতু প্রকল্প। এ প্রকল্পের কারণে স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ অঞ্চলকে ঘিরে আলাদা একটি টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে দক্ষিণবঙ্গের। পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে কাগজ-কলমের বন্দীদশা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। এ সেতুটি পৃথিবীর অন্যতম একটি সেতু হিসেবেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। কনক্রিট আর স্টিলের নিখুঁত গাঁথুনিতে তৈরি হতে যাচ্ছে বিশ্বের অতুলনীয় এ দোতলা সেতু। হাজার হাজার শ্রমিক আর প্রকৌশলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুর মূল নির্মাণকাজ।