নতুন বছরের শুরুতেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে নামবে

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

নতুন বছরের শুরুতেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে নামবে

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে
নতুন বছরের শুরু থেকেই । বুধবার সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠেক শেষে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কৌশল প্রণয়নে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

মন্ত্রী বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১ অঙ্কের সুদের হার কার্যকর করার চেষ্টা করছি । কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন ইস্যু করবে।
বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ ও আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশে রাখতে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসায়ী মহলের দাবি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিকবার এবিষয়ে নির্দেশনা দেন।

গত অগাস্টে ঋণ ও আমানতের সুদহার যথাক্রমে ৯ ও ৬ শতাংশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।

এমন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কৌশল ঠিক করতে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

ব্যাংকগুলো এখন ছয় থেকে থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে আমানত সংগ্রহ করছে এবং ঋণের শ্রেণিভেদে সাড়ে ৯ সাড়ে ২০ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করছে।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দিলেও তা না কমে উল্টো বেড়ে যাওয়ায় মুস্তফা কামাল মনে করছেন, সুদ হার কমালে মন্দ ঋণ স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কয়েক দফা বসে কমিটি কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে, যা প্রকাশ করা হবে।

১ জানুয়ারির এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১ জানুয়ারি থেকে চেষ্টা করছি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে করতে হয়। আক্ষরিক অর্থে হবে.. পরে দেখা যাবে ৭ দিন পর হলো। এর মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন করবে এবং সবাই তো রেডি।”

সুদের হার সবার জন্য এক হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২ শতাংশ দিয়ে যারা রেজিস্ট্রেশন করছে তাদের জন্য এক রকম, আবার যারা ভাল তাদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া থাকবে। যারা ঋণখেলাপি তাদের বলা হতে পারে, তোমরা অর্ধেক টাকা দিয়ে স্বাভাবিক হও।

ছড়িয়ে দিন