‘নদীটির চন্দন জল’ নিয়ে বইমেলায় নাজমীন মর্তুজা

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

‘নদীটির চন্দন জল’ নিয়ে বইমেলায় নাজমীন মর্তুজা


আবু রায়হান মিকাঈল :

এবারের একুশে বইমেলায় কবি, গবেষক ও কথাসাহিত্যিক নাজমীন মর্তুজা’র ছোটগল্প সংকলন বই “নদীটির চন্দন জল” প্রকাশিত হয়েছে। এ সপ্তাহে বইটি মেলায় এসেছে বলে জানিয়েছেন বইটির প্রকাশক মোহম্মদ রশিদুর রহমান।

বইটি প্রকাশ করেছে ইছামতি প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন- অপু মাহাবুব। মূল্য রাখা হয়েছে ১২০ টাকা। বইটি পাওয়া যাচ্ছে ইছামতি প্রকাশনীর ৪৩৭-৪৩৮ নম্বর স্টলে।

নির্বাচিত পাঁচটি ছোটগল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো বইটি। মানুষের রোজকার দৈনন্দিন ঘটনা প্রবাহের আলোকে নাজমীন মর্তুজা’র ছোটগল্পের ঝুলিতে অনেক অনেক ঘটনার ঘটন এবং নানান চরিত্রের সমাগম হয়েছে। লেখক এই বইয়ে কাব্যিক ভঙ্গিতে ঘটনার সুতো দিয়ে চরিত্র গুলোকে গেঁথেছেন গল্পের আঙ্গিকে ।

বাজার চলতি গল্পের জগত থেকে বেশ দূরের এক ছায়া মহলে বসে আখ্যান বুনে চলেছেন এই গ্রন্থের লেখক। একটা কষাটে ভাব, সত্যের নির্মম মুখটার দিকে ঝুঁকে থাকা কম্পাস, এই গল্পগুলোকে স্বতন্ত্র করেছে।

বইটির প্রকাশক মোহম্মদ রশিদুর রহমান বলেন, ‘নদীটির চন্দন জল’ বইটি মূলত একটি ছোটগল্পের সংকলন। এর আগেও আমরা লেখকের (নাজমীন মর্তুজা) বই প্রকাশ করেছি। আগের বইগুলোর মতো এবারের বইটিও পাঠকনন্দিত হবে বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, নাজমীন মর্তুজা বর্তমানে স্বামী-সন্তানসহ সাউথ অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করলেও তার কবিসত্তা মিশে আছে বাংলার মাটি-মানুষের সঙ্গে। দূর প্রবাসে থেকেও তিনি জয় করেছেন অজস্র পাঠকের হৃদয়।

নাজমীন মর্তুজা সৃজনশীল সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ক্ষেত্র সমীক্ষাধর্মী মৌলিক গবেষণায়ও নিবেদিত। মূলত সাহিত্য ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির গবেষণায় ইতোমধ্যে তিনি যথেষ্ঠ নিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখেছেন। যৌথভাবে রচনা করেছেন- বাংলা সাহিত্যের অলিখিত ইতিহাস, ফোকলোর ও লিখিত সাহিত্য : জারি গানের আসরে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ আত্তীকরণ ও পরিবেশন-পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র।

এছাড়া বাংলা পুথি সাহিত্য নামে একক ভূমিকা ও সম্পাদনায় সংকলন করেছেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমূখ গবেষকের পুঁথি-সাহিত্য সম্পর্কিত প্রবন্ধমালা।

তিনি ফোকলোর ও লিখিত সাহিত্য : জারি গানের আসরে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ আত্তীকরণ ও পরিবেশন-পদ্ধতি শীর্ষক গ্রন্থের জন্য অর্জন করেছেন সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০১২।

২০১১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে ফোকলোর বিষয়ে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি ভাবনগর ফাউন্ডেশন- এর নির্বাহী পরিচালক।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

কাব্যগ্রন্থ : গুরুপরম্পরা, শ্রীরাধার উক্তি, মহামায়া কঙ্কাবতী, বাস্তবের লুকোচুরি;

উপন্যাস : নোনাজলের চোরাবালি;

গবেষণাগ্রন্থ : ফোকলোর ও লিখিত সাহিত্য : জারিগানের আসরে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ আত্তীকরণ ও পরিবেশন-পদ্ধতি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, বাংলাদেশের ফোকলোর, সাইদুর রহমান বয়াতি : সাধকের স্বদেশ ও সমগ্র, বাংলা পুথি সাহিত্য।

ছড়িয়ে দিন