নরেন্দ্র মোদী আরও শক্তিশালী হয়ে এবার ভারতের মসনদে বসছেন

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৯

নরেন্দ্র মোদী  আরও শক্তিশালী হয়ে এবার ভারতের মসনদে বসছেন

নরেন্দ্র মোদী আরও শক্তিশালী হয়ে এবার ভারতের মসনদে বসছেন ।
সাত ধাপের দীর্ঘ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার পর বুথ ফেরত জরিপের ফলাফলকে বিরোধীরা পাত্তা না দিলেও সেটাই সত্যি হতে চলেছে ।

দাংগাবাজ পরিচয় আড়াল করে নিজেকে ‘চায়েওয়ালা’ পরিচয় দিয়ে পাঁচ বছর আগে ভোটের লড়াইয়ে জিতে দিল্লির মসনদে বসেছিলেন মোদী । এবার ভোটের আগে শাসক পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেকে ‘চৌকিদার’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। তার এই বিনয় ইতিবাচক ফল এনেছে ।

বৃহস্পতিবার ভোট গণনায় দেখা যায়, ‘চৌকিদার’ মোদীতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার।

প্রাথমিক ফল দেখে উচ্ছ্বসিত মোদী বলেছেন, আবারও জিতল ভারত।

আমরা বেড়ে উঠেছি একসঙ্গে, সমৃদ্ধি এনেছি একসঙ্গে, এক সঙ্গে থেকেই আমরা শক্তিশালী ভারত গড়ব, যা হবে সবার জন্য। ভারত আবারও জিতে গেল,” টুইটারে লিখেছেন মোদী।

ভোটের পুরোটা সময় কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলো মোদীবিরোধী জোয়ার তৈরির চেষ্টা করলেও তা যে কাজে আসেনি তা দেখা যাচ্ছে ফলাফলে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে তামিলনাড়ুর একটি বাদে সবকটি আসনে এবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে পেতে হবে ২৭২টি আসন।

দুপুর নাগাদ যে ফল প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখলে মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ যে ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।

তিনশর বেশি আসনে জিতে যাচ্ছে এনডিএ জোট; ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে তারা। গতবার শুধু বিজেপির আসন ছিল ২৮২টি, এবার তাদের পদ্মফুল ৩০০’র বেশি আসনে জয়ী হচ্ছে, জোটের আসন ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে তিনশ।

এবার কংগ্রেস নেতৃত্বধীন জোট ইউপিএ ৯০টি আসনে এবং ১১৪টি আসনে অন্যান্য দল জয় পেতে পারে বলে আভাস মিলছে। ২০১৪ সালের চেয়ে কংগ্রেসের আসন বাড়লেও তা মোদীকে হটানোর মতো নয় কোনোভাবেই।

২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪টি আসন, যা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে পরাজয়।

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ফের জয়ের আভাসে এই কার্টুন নিজেদের ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করে বিজেপি নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ফের জয়ের আভাসে এই কার্টুন নিজেদের ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করে বিজেপি ।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে হারাতে একাট্টা হয়েছিল বিভিন্ন আঞ্চলিক দল, কংগ্রেস তো ছিলই। বিশেষ করে ভোটের প্রচারে রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোদীর কথার লড়াই বেশ জমে উঠেছিল।

কিন্তু সব বাক্যবাণকে পেছনে ফেলে শেষতক মোদী ম্যাজিকেই বাজিমাত। কয়েকটি আসনে হারলেও তার বিজেপি এবং জোট এনডিএই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছে, এই ফলাফলের মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে মোদী একাই যথেষ্ট।

যদিও সমালোচকরা বলছেন, মোদী অর্থনীতির যে ব্যাপক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হবে না । পাশাপাশি তার নেতৃত্বে ভারতে আরও বেশি ধর্মভিত্তিক মেরুকরণ ঘটবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব দূর করার ক্লান্তিকর লড়াই চালিয়ে আসা কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীই এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু তার দলের যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব ছিল না, সে বিষয়ে আগেই আভাস দিয়ে রেখেছিলেন বিশ্লেষকরা।

ভোটের আগে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে কার্যকর জোট গড়তে ব্যর্থতার মধ্যে দিয়েই মূলত শতবছরের বেশি বয়সী দলটির দুর্বলতা পরিষ্কার হয়ে যায়।

গান্ধী পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশের আমেথিতেই পিছিয়ে পড়েছেন রাহুল; যদিও কেরালার আসনে এগিয়ে তিনি।

বড় দুই দল জিততে না পারলে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। বুথ ফেরত বিভিন্ন জরিপে অবশ্য সে সম্ভাবনা একেবারেই উড়ে গিয়ে বিজেপির জয়ের আভাসই মেলে । মোদী বিরোধীরা সেই আভাস মানতে নারাজ ছিলেন।

ভারতের লোকসভা নিরবাচনে উত্তর প্রদেশ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে, উত্তর প্রদেশ জয় মানেই পুরো নির্বাচনেই জয়। ২০১৪ সালের মতো এবার অবশ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপির একচেটিয়া প্রাধান্য থাকছে না।

উত্তর প্রদেশে মোদীকে ঠেকাতে বহুদিনের তিক্ততা ভুলে বিস্ময়করভাবে একাট্টা হয়েছিল বহুজন সমাজপার্টি (বিএসপি) ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। মূলত তাদের ‘মহাজোটই’ এবার বিজেপির আসনে ভাগ বসাতে যাচ্ছে।

তবে তা যে মোদীকে ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হবে না তা ভোটের ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে।

২০১৪ সালে উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে বিজেপির ছিল ৭১টি। এবার সবশেষ খবর পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের ৫৬ আসনে এগিয়ে বিজেপি। বিএসপি ও এসপির জোট ২৩টি এবং কংগ্রেস একটি আসনে এগিয়ে।

যার সঙ্গে মোদীর বাকযুদ্ধ এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক হয়েছিল, সেই মমতার পশ্চিমবঙ্গেও এবার গতবারের তুলনায় বলতে গেলে অভাবনীয় ফল এসেছে বিজেপির। মমতার তৃণমূল আর কংগ্রেসের আসনে এবার ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি।

এ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালে বিজেপির ছিল দুটি, এবার সেখানে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে তারা। বিপরীতে মমতার তৃণমূলের আসন কমে আসছে ২২টিতে, গেলবার ছিল ৩৪টি। আর এবার কংগ্রেসের আসন তিনটি কমে একটি হচ্ছে। এ রাজ্যে প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট ২০১৪ সালে ২টি আসনে জিতলেও এবার ফিরছে শূন্য হাতে।

সারাদেশে জয়ের বিপরীতে দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যের চারটি- অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও কেরালায় হারতে হচ্ছে বিজেপির। এসব রাজ্যের ৯১টি আসনের মধ্যে শেষ খবর পর্যন্ত বিজেপি জোটের অর্জন আটটি আসন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

March 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

http://jugapath.com