ঢাকা ১৭ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

নাগরপুরে শীতের মৌসুমে কদর বেড়েছে ভাঁপা ও চিতই পিঠার ; বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়

abdul
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৯, ২০২১, ০২:১২ অপরাহ্ণ
নাগরপুরে শীতের মৌসুমে কদর বেড়েছে ভাঁপা ও চিতই পিঠার ; বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসের মাঝে নাগরপুরে কদর বেড়েছে শীতের ভাঁপা ও চিতই  পিঠার। গরম আর সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে সবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পাড়া মহল্লায় এখন ভাঁপা পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে।
শীত এলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা সকাল-বিকেল, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত এ ব্যবসায় ব্যস্ত সময় কাটান। এই পিঠার স্বাদে ক্রেতারা মুগ্ধ। শীতের সময় এখানকার নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভাঁপা ও চিতই পিঠার ব্যবসা। একদিকে ভাপা ও চিতই পিঠার স্বাদ আর অন্যদিকে চুলার আগুন আর জলীয় বাষ্পের উত্তাপ যেন চাঙ্গা করে দেয় দেহমন। এ যেন শীতের আরেক আমেজ।
গতকাল বিকালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নাগরপুর সরকারি কলেজ গেট,নাগরপুর বাজার,গয়হাটা বাজার সহ  বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় স্বল্প আয়ের লোকজন গড়ে তুলেছেন পিঠার দোকান।
মূলত সেখানে ভাঁপা ও চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে।রিকশাচালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পিঠার দোকানের ক্রেতা। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেককে আবার পিঠা খেতে দেখা যায়। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন।
কথা হয় উপজেলার ডাংগা ধলা পাড়ার বাসিন্দা মো.আ.,গণি ভূইয়ার সাথে-তিনি জানান ২৮ বছর যাবত এই পিঠা ব্যবসার সাথে জড়িত। তার পূর্ব পুরুষ গণ এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না।তিনি শীত কাল আসলেই পিঠা ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকেন।
তিনি আরও জানান গড়ে প্রতিদিন  ১২ কেজি করে চাউল গুড়া লাগে। ভাঁপা পিঠা পিচ প্রতি ১০,১৫ ২০ টাকা এবং চিতই পিঠা পিচ প্রতি ১০ টাকা বিক্রি করে।গড়ে তিনি ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা বিক্রি করেন । শীতের মৌসুমি চলে গেলে তিনি কি করেন জানতে চাইলে তিনি জানান কৃষি কাজের পাশাপাশি  ইন্জিন  চালিত রিক্সা চালান।
গয়হাটা বাজারে পিঠা বিক্রেতা নাম বলতে ইচ্ছুক নয় তিনি বলেন, প্রতিদিন ৮ কেজি চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন। তিনি আরও জানান, তার দোকানে ভাঁপা ও চিতই দু’ধরনের পিঠাই বিক্রি হয়। তবে ভাঁপা পিঠার চাহিদা একটু বেশি। তিনি প্রতিটি পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করেন।
পিঠা কিনতে আসা এক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো.হাবিবুল্লাহ  বলেন, আগে আমরা বিকালে হোটেল থেকে পুরি, সিঙ্গারা ও পিঁয়াজু কিনে খেতাম। শীত আসার পর আমরা পিঠা কিনে খাই।
স্কুল শিক্ষিকা মোছা.ফাতেমা আক্তার  বলেন, সারাদিন পরিশ্রমের পর বাড়িতে আর পিঠা বানাতে ইচ্ছে করেনা। মাঝেমধ্যে ছেলেমেয়ের জন্য  ফুটপাত থেকে পিঠা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাই।
বাজারে পিঠা কিনে খাওয়া কতটা স্বাস্থ্য সম্মত জানতে চাইলে ডা.এম. এ.মান্নান বলেন – রাস্তার পাশে পিঠা তৈরী করা স্বাস্থ্য সম্মত নয় কারন খোলা আকাশে যেকোন খাবার তৈরী করলে ময়লা,ধোলা বালি পড়তে পারে। তবে যিনি পিঠা তৈরী করেন তিনি যদি পরিস্কার পরিছন্ন হয়ে পিঠা তৈরী করেন এবং পিঠা ঢেকে রাখেন তাহলে কোন সমস্যা হবে না।
এ ব্যাপারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞানের ছাত্রী মোছা.তাসলিমা আক্তার মুন্নী বলেন, পিঠা আমাদের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য। বর্তমান সময়ে এই ঐতিহ্যগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও  বলেন, রাস্তার পাশের দোকানগুলোয় মূলত ভাঁপা পিঠা ও চিতই পিঠা বিক্রি করা হয়।অন্য পিঠাগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।শীত কালে বাসায় মেহমান আসলে আনন্দ উল্লাস করে বাসায় বিভিন্ন আইটের পিঠা তৈরী করে মজা করে সবাই মিলে খাইতাম আর এখন বাজার থেকে কিনে এনে নিজেও খাই আত্বীয় স্বজনদেরও বিদায় করি।
এই গ্রাম বাংলার পিঠার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের সকল পরিবারে পিঠা তৈরী করার নীতি চালু রাখতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30