ঢাকা ২৫শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

নান্দাইলে লাউ চাষে কৃষকরা আগামীর স্বপ্ন বুনছেন, মুখে সাফল্যের হাসি

abdul
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২২, ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নান্দাইলে লাউ চাষে কৃষকরা আগামীর স্বপ্ন বুনছেন, মুখে সাফল্যের হাসি

 

 

 

 

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ লাউ ও লাউশাক ময়মনসিংহ অঞ্চলে শীতকালীন সবজি হিসেবে খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় পান্যা লাউ (সবুজ লাউ) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

 

 

 

 

 

ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় আর এক ধরণের লাউকে বলা হয় মিঠা লাউ (মিষ্টি লাউ বা মিষ্টি কুমড়া)।এই মিঠা লাউ (মিষ্টি লাউ বা মিষ্টি কুমড়া) খাবার তালিকায় দ্বিতীয় নাম্বারে। আবার পান্যা লাউ (সবুজ লাউ) এর শাক তো অঞ্চলের মানুষদের মজাদার খাবারের অন্যতম। সকল মহলের প্রিয় খাবার তালিকায় শীতকালীন সবজি ‘লাউ ও লাউশাক’ এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে এ অঞ্চলের বৌ,গৃহিণী থেকে শুরু করে কৃষকরা তাদের বাড়ির আঙ্গিনায়,পতিত জমিতে সময়মতো লাউ বীজ বপণ করতে কখনো ভুল করেননা।

 

 

 

 

 

এর মধ্যে লাউ ও লাউশাকের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় লাউ ও লাউশাক চাষে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। আবার বাণিজ্যিকভাবে লাউ শাক চাষের ক্ষেত্রে চাষিদের ব্যাপক আগ্রহ দিনে দিনেও বাড়ছে।

 

 

 

 

কম সময়,কম পুঁজিতে একটি লাউগাছ থেকে বারবার শাক (লাউ পাতা,ডগা)সংগ্রহ করতে পারায় অধিক লাভের আশায় লাউ শাক চাষের ক্ষেত্রে চাষিরা বেশি উৎসাহীত হচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় বাজারে লাউ ও শাক (লাউ পাতা,ডগা)’র আকাশচম্বী জনপ্রিয়তা,চাহিদার পাশাপাশি লাউ শাক (লাউ পাতা,ডগা)’র আর লাউয়ের বাজার দরও বেশ চড়া। তাই অধিক মুনাফার আশা করে চাষিরা আগাম(সময়ের আগেই) লাউ চাষে নেমে পড়েন।

 

 

 

 

তেমন কোন রোগ-বালাইয়ে সাধারণত লাউ গাছ আক্রান্ত হয়না। ফলে অল্প সময় ও কম পুঁজিতে ভালো ফলন ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবানের সুযোগে এ অঞ্চলের চাষিরা আগামী দিনের স্বপ্ন বুননের পথ আগলে ধরেছেন।এতে সহজেই তাদের মুখে সাফল্যের হাসি ফুটছে। আর অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লাউ,লাউ শাক (লাউ পাতা,ডগা)’র বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে বেশি লাভবান হচ্ছেন। এতে চাষাবাদে মনোযোগ বাড়ছে কৃষকদের।

 

 

 

 

 

চাষিরা জানান, আর লাউ এবং লাউশাক পেতে বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা ও সবজি বিক্রেতারা ভীড় জমান চাষীদের জমিতে। জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে তৈরি মাঁচায় বেয়ে তর তর করে বেড়ে উঠা গাছ প্রতিনিয়ত ফলনের উপযোগি হয়ে উঠছে। প্রতি এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করতে খরচ হয় পনের থেকে বিশ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৬০/৭০ হাজার টাকা। মৌসুমী এই ফলন নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত একাধারে লাউ গাছে উৎপাদন হয়ে থাকে। খরচের তুলনায় লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দেশী লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

 

 

 

 

 

এর মধ্যে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আচারগাঁও ইউনিয়নের ঝাউগড়া, গইছখালী,ধরগাঁও,সিংদই ,রাঙ্গামাটিয়া,সিংরইল, মুশুল্লি, খারুয়ার  চর এলাকা, বীরবেতাগৈর, চরবেতাগৈর সহ বিভিন্ন এলাকায় লাউ এবং লাউশাক চাষের ক্ষেত্রে চাষিদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্যনীয়।

 

 

 

 

চাষিরা জানান, লাউ,লাউ শাক চাষের জন্য বীজগুলো ঘনঘন করে লাগাতে (রোপন) করতে হয়। লাউ গাছের দ্রæত বৃদ্ধি ও ভালো শাক পেতে হলে বীজ রোপনের আগে গর্ত করে এতে এককেজি পরিমাণে শুকনো গোবর, একমুষ্টি পরিমান ইউরিয়া,টিএসপি ও এমওপি সার গর্তে রাখতে হবে। তবেই ভালো গাছ ,পাতা,ডগা ও  লাউ চাষে সফলাতা পাওয়া যায়।

 

 

 

 

লাউগাছ থেকে একবার গাছের ডগা কেটে নিলে প্রত্যেকটি লাউগাছে আবারো ২/৩টি করে নতুন শাখা বের হয়। পরে সেটাও কেটে বাজারে বিক্রি করেন তারা। বর্তমান বাজারে ২টি লাউয়ের ডগা (শাক) ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

 

 

গৈইছখালী গ্রামের শাজাহান জানান, ২ কাঠা (২০ শতক) জমিতে লাউ গাছ লাগাতে গিয়ে খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকা। আর এ পর্যন্ত লাউয়ের ডগা (শাক) বিক্রি করেছেন প্রায় ১৬ হাজার টাকা। তিনি আরো একমাস অর্থাৎ মাঘ মাস পর্যন্ত ডগা (শাক) বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

নান্দাইল উপজেলায় আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাও গ্রামের লুঃফুর রহমান ভূইয়া পাশের জেলা কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে সেরেস্তাদার হিসেবে চাকুরি জীবন থেকে অবসর নিয়ে এখন একজন সফল চাষি হিসেবে এলাকায় ভালো পরিচিতি পেয়েছেন। নিজের জমিতে অল্প ক’দিনেই বিষমুক্ত সবজি চাষ করে ভালো ফলনে এরই মধ্যে আলোচনায় চলে এসেছেন।

সফল কৃষক লুঃফুর রহমান ভূইয়া জানান, লাউ চাষে অল্প খরচে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তিনি দুই কাটা (২০ শতক) জমিতে লাউ চাষ করেছেন। মাঁচা সহ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৮হাজার টাকা। ত্রিশ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছেন। ওই জমি থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

 

 

 

তিনি আরো জানান, এ এলাকার বেশ কয়েকজন তাদের বাড়ির পাশে,বাড়ির আঙ্গিনায়,পতিত জমিতে লাউ গাছ লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

 

 

 

নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, নান্দাইলে আচারগাঁও,বীরবেতাগৈর, চরবেতাগৈর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় লাউ ও লাউশাকের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে শাক-সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30