নারীদের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে অপেক্ষাকৃত বেশি

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮

নারীদের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে অপেক্ষাকৃত বেশি

শেলী সেনগুপ্তা

সমাজ বা দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি বা কখনো পুরুষের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে যিনি ভূমিকা রাখতে পারেন তিনিই নারী। তাই নারীশিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান।  সমাজ বা দেশের উন্নয়নে নারীকে সুশিক্ষিত জনগোষ্টির একজন করে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার যেকোন ধারায় হতে পারে। তারই একটি ধারা হলো কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা আমাদের ভবিষ্যত, তাই প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দক্ষ জনবল তৈরি করার জন্য করিগরি শিক্ষার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এটি শুধু পুরুষের ক্ষেত্রে নয়, নারীদের ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। উন্নত দেশগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কারিগরি ক্ষেত্রে শিক্ষায় অনেক এগিয়ে আছেন।
পৃথিবীর বিভিন্নদেশের বিভিন্নজাতি যেভাবে এগিয়ে গেছে ও যাচ্ছে, এই অগ্রসরণে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিশিক্ষা ভুমিকা রাখছে। নারীকে সে সুযোগ গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। দ্রুত বিকাশমান উন্নয়নের গতিধারার সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে না পারলে নারীর কর্মক্ষেত্রেও সম্মানজনক অবস্থা তৈরি হবে না। এ জায়গা তৈরি করে দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে প্রত্যেক সমাজ সদস্যের এবং সরকারের। এজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এজন্য সমাজে এর অনুকূল অবস্থা তৈরি করতে হবে এবং এবিষয়ে উৎসাহী করতে প্রণোদনামূলক উদ্যোগও হাতে নিতে হবে। এর ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত নারীর সংখ্যাগত পরিমাণ বাড়বে, তেমনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রগুলোয় নারীরা নেতৃস্থানীয় পদে নিয়োজিত হতে পারবে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ক্রমগ্রসর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কাজের মূল ভিত্তি শিক্ষা, শুধু শিক্ষা নয় কারিগরি শিক্ষা। এজন্য দেশের একটা বিশাল জনগোষ্টিকে শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী , তাই নারীদের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে অপেক্ষাকৃত বেশি। কারণ সামাজিক-অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার জন্য আমাদের দেশের সিংহভাগ নারীই প্রযুক্তিগত শিক্ষা থেকে দূরে থাকে। সময়ের সাথে কর্মক্ষেত্রে নারীর বিচরণ বেড়েছে কিন্তু প্রযুক্তিক্ষেত্রেও তা আরো বাড়াতে হবে।
একইভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের সংযুক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশার কথা এইযে, শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে এই সংযুক্তি আশাব্যঞ্জক। এখন বাংলদেশের প্রায় প্রত্যেক শহরে সরকারি ও বেসরকারি অনেক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সব প্রতিষ্ঠানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা শিক্ষাগ্রহণ করছে। বর্তমান প্রযুক্তিবান্ধব সরকার এবিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে হোস্টেলব্যবস্থা আছে যেন দূরদূরান্ত থেকে এসে নারীরা নিরাপদে অবস্থা করতে পারে এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।
বর্তমান সরকার বিভিন্ন খাদ থেকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ‘নারী উদোক্তা’, এই বিষয়টিকে উৎসাহিত করছে। একমাত্র কারিগরি শিক্ষাত পারে সফল নারী উদোক্তা সৃষ্টি করতে। আমাদের জন্য আশার কথা এইযে, বর্তমাণে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেক নারী উদ্যোক্ত স্ব স্ব বিষয়ে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়েই কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হচ্ছে এবং সাফল্যের মুকুট মাথায় ধারণ করছে।
আমাদের সমাজে এখন কৃষিবিদ, বৈমানিক, রেলচালক, লেদার ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি রয়েছে। এইসব দৃষ্টান্ত কারিগরি ক্ষেত্রে ক্রমগ্রসর মিছিলের সামনে থেকে আরো অনেক নারীকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। এখন নারীর জন্য বহুলহারে কারিগরি শিক্ষাগ্রহণ ও কর্ম ক্ষেত্রে প্রয়োগ সময়ের ব্যাপার মাত্র।

১। নারীর জন্য কারিগরি শিক্ষা কেন প্রযোজ্য?
• কারিগরি শিক্ষা একটি দেশের ভবিষ্যত, কারিগরি শিক্ষা ছাড়া কখনোই কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সামাজিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি , কখনো পুরুষের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকে নারী। সমাজ বা দেশের উন্নতির জন্য নারীকে হতে হবে সুশিক্ষিত। তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির সমন্বয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য নারীকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে।
২। কারিগরি শিক্ষার দ্বারা কিভাবে একজন নারী তার পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে পারে?
• বর্তমানে ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত জনগোষ্ঠির জন্য চাকরিক্ষেত্রে প্রায় সংকুচিত হয়ে আসছে। তুলনামূলকভাবে করিগরি কর্মক্ষেত্রে এখনও বিশাল সুযোগ রয়েছে। এখন দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় আবাসিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে নারীরা সহজেই প্রশিক্ষণ গ্রহণশেষে চাকরিতে নিয়োজিত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে বর্তমান নারীবান্ধব সরকার বেশ সহযগিতামূলক মনোভাব পোষন করছে।
৩। কারিগরি শিক্ষা সমাজে নারীকে কিভাবে অগ্রসরণে সহায়তা করতে পারে?
• পৃথিবীর বিভিন্নদেশে বিভিন্নজাতি যেভাবে এগিয়ে গেছে ও যাচ্ছে, তার ধারাবাহিকতায় অংশ হতে হলে নারীকেও এগিয়ে যেতে হবে। দ্রুত বিকাশমান উন্নয়নের গতিধারার সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে না পারলে নারীর কর্মক্ষেত্রেও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হয় না। সংসারক্ষেত্রেও তাই। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত নারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রে সহজেই নেতৃস্থানীয় পদে নিয়োজিত হতে পারে, যা দীর্ঘদিন পর্যন্ত পুরুষের কুক্ষিগত ছিলো। একই সাথে তার পারিবারিক অবস্থান দৃঢ় ও সম্মানজনক হয়।
৪। কারিগরি শিক্ষা কিভাবে ‘নারীউদোক্তা’ সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে?
• বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ‘নারী উদোক্তা’র বিষয়টিকে উৎসাহিত করছে। সফল নারী উদোক্তা হওয়ার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত কারিগরি শিক্ষা। যেকোন নারী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকার প্রবর্তিত সহজশর্তের ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে , নিজের সাথে সাথে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কারগরি শিক্ষা শুধু নারী উদোক্তাই সৃষ্টি করে না, দেশের উন্নয়নেও সফল ভুমিকা রাখে।
৫। কারিগরি শিক্ষা কি সত্যিই নারীসমাজসাদরে গৃহিত হয়েছে বা হবে?
• আশার কথা এইযে, আমাদের সমাজের নারীরা অনেক আগে থেকেই কারিগরি ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। অন্যান্য দেশের চেয়ে তা কিছু কম হলেও এটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে আমাদের মধ্যে প্রচুর কৃষিবিদ, বৈমানিক, রেলচালক, স্থপতি, লেদার ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, ছাড়া কলকারখানায় কর্মরত নারী আছে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের দেশের চালিকা শক্তি। এটি সম্ভব হয়েছে ক্রমবর্ধমান কারিগরি শিক্ষার ফলে। আমরা আশা করি এই ধারাবাহিকতা আরো গতিশীল হবে। একদিন হয়তো আমরাই হবো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তিশিক্ষিত জাতি, এটি সম্ভব হবে নারীকে আরো অধিক হারে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ফল হিসেবে।