নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন নারীর প্রতি সম্মান চর্চা

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২১

নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন নারীর প্রতি সম্মান চর্চা

সুলতানা লাবু

বেল বাজতেই রুবি বলল, ‘মা তোমার পড়শি বান্ধবীরা চলে এসেছেন মনে হয়।’ মা তখন রুবির জন্য বিকেলের নাস্তা বানানো শেষ করলেন। ড্রইং রুমে ঢুকে বান্ধবীদের দেখে খুব খুশি হলেন রুবির মা। কুশল বিনিময় করে বসলেন সবার সাথে।

এরই মাঝে রুবি মায়ের বান্ধবীদের সম্মান জানিয়ে কুশল বিনিময় করে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল তড়িঘড়ি। রুবিকে দেখে ভাবিদের একজন রুবির সৌন্দর্যের দোহাই দিয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন। মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের রুবিকে নাকি বিয়ে দেয়া জরুরি।

রুবির মা কিছু একটা বলতে যাবে, তখনই কাবেরি বৌদি বললেন, ‘বিয়ে দিলেই চিন্তামুক্ত, এটা তোমাকে কে বলেছে’? আরেকজন ভাবি এরই মধ্যে বলে বসলেন, চারপাশে যে নির্যাতন বেড়েছে, ভয়ই লাগে। একথা শুনে রুবির মা বললেন, ‘যে কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হতে পারে। বিবাহিত, অবিবাহিত, শিশু, কিশোরী, যে কোনো বয়সের নারী। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাও তো ঘটে’।

এ প্রসঙ্গেই আরেক ভাবি মন্তব্য করেন, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা নিজেদের নিশ্চিত করতে মেয়েদেরও একটু সামলে চলা দরকার। পর্দা করা উচিত মেয়েদের। শালীনতারও দরকার আছে। তাহলে আর এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না।’

রুবির মা আর চুপ করে থাকতে না পেরে বললেন, ‘শালীনতা মানে কি? মেয়েরা কি পোশাক ছাড়া বাইরে যায়? নাকি মেয়েরা আচার আচরণে অশালীন? বিষয়টা তো পোশাকের না। বিষয়টা আসলে মানসিকতার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। মানসিকাতাই মানুষের পরিচয় বহন করে। মানুষের মধ্যে দুটো রূপ থাকে। একটা তার মানুষ রূপ। অন্যটি পশু রূপ। একমাত্র মানুষই পারে তার মানুষ রূপটা জাগিয়ে রাখতে। আর পশুরূপ দমন করতে। সমাজে কিছু পশু পুরুষ আছে, যারা মানুষ নামের কলঙ্ক।’

মানুষের চরিত্র গঠনের প্রথম পাঠশালা তার পরিবার। আর ছেলে মেয়ের মধ্যে বৈষম্যের সূত্রপাতটাও পরিবার থেকেই। পরিবার ছেলে মেয়েকে কী শিক্ষা দিচ্ছে, বিষয়টা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ছোটবেলা থেকে ছেলে মেয়েরা বৈষম্য শেখে পরিবার থেকেই। আমারাই ছেলেকে তৈরি করি একভাবে আর মেয়েকে আরেকভাবে। পরিবারে স্বামী যখন স্ত্রীকে সম্মান দেয়, তখন তা সন্তান শিখে। পরিবারে নারীর প্রতি সম্মান চর্চা হলে তা সন্তানের মধ্যেও প্রবাহিত হয়।

ধর্ষণের মতো জঘন্য নির্যাতনের জন্য পোশাক দায়ী নয়। দায়ী হলো আমাদের মানসিকতা। বোরখা বা হিজাব পরলে ধর্ষণ হবে না, একথা মোটেই ঠিক না। পোশাক কারণ হলে নুসরাতকে এবং নুসরাতের মতো আরো অনেক মেয়ের প্রাণ দিতে হত না।

অনেক ক্ষেত্রে নারীর পোশাকের বিষয়ে ধর্মের কথা উল্লেখ করা হলেও আমাদের মনে রাখা উচিত। ধর্মে নারী-পুরুষের সমান পর্দা এবং অধিকারের বিষয়ে উল্লেখ আছে। ধর্মে নারীদের জন্য ঠিকই সম্মান আছে, সম্মান নেই আমাদের মানসিকতা ও চর্চায়, ফলে সমাজে।

কোনো ধর্মই অন্যায় অপকর্মের পক্ষে কথা বলে না। সব ধর্মেই অন্যায় আর অপকর্মের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ যেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে জন্যই তো ধর্ম। অনুশীলনের পদ্ধতি শুধু আলাদা আলাদা।

সাবেক আইজিপি শহিদুল হকের একটি লেখাতে তিনি বলেছেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ শূন্যের কোঠায় আনা হয়তো কখনো সম্ভব হবে না, বিশে^র কোনো দেশই তা সম্ভব করতে পারেনি। উন্নত, শিক্ষিত ও সভ্য দেশ হিসেবে পরিচিত দেশেও ধর্ষণ হয়। মুসলিম-অমুসলিম কোনো দেশই ধর্ষণ থেকে মুক্ত নয়। বিশে^র যে সব দেশ সভ্যতার মানদ- অনেক উপরে, শিক্ষা-দীক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচারে যাদের প্রশংসনীয় অবস্থান আছে, সে সব দেশেও ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সুইজ্যারল্যান্ডে প্রতি এক লাখে ৭৭.৫ জন নারী ধর্ষিত হয়। সুইডেনে এই হার ৬৩.৫, অস্ট্রেলিয়ায় ২৮.৬, বেলজিয়ামে ২৭.৯, যুক্তরাষ্ট্রে ২৭.৩, নিউজিল্যা-ে ২৫.৮, নরওয়ে ১৯.২, ফ্রান্সে ১৬.২, ফিনল্যা-ে ১৫.২, অস্ট্রিয়ায় ১০.৪, জার্মানিতে ৯.৪, নেদারল্যা-ে ৯.২। ইউরোপের এ সকল দেশের জনগণ বেশ সভ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও ধর্ষণের হার সেসব দেশে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই হার ৯.৮২। সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেখানে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৩২.৪ জন ধর্ষিত হয়। সবচেয়ে কম মিশরে ০.১০। তিনি আরও লিখেছেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে দুর্বল ভাবা ও নারীকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে মনে করার যে বিকৃত মানসিকতা আছে তা নারীর প্রতি সহিংসতার একটি অন্যতম কারণ। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের নৈতিক মূল্যবোধেরও উন্নয়ন আবশ্যক।

আমাদের দেশে এ সংশ্লিষ্ট আইন আছে ঠিকই, তবে তার বাস্তবায়ন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে একজন নারীকে মামলা, তদন্ত করা থেকে শুরু করে লম্বা সময় ধরে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগোতে হয়। কিন্তু বিচারে গিয়ে সেই নারীকেই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হয়, যদিও এ নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা অনেক আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এজন্য তারা পুরোনো সাক্ষ্য আইনকেই দায়ী করছেন। মানবাধিকার কর্মী নীনা গোস্বামী বলেছেন, মামলার শুনানিতে আইনের সুযোগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে তার চরিত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের আইনজীবী এমন সব প্রশ্ন করেন, তার মাধ্যমে তাকে আরেকবার হেনস্তা করা হয়। “সাক্ষ্য আইন অনেক দিনের পুরোনো আইন। এই আইনে বলা আছে, ডিফেন্স নেয়ার জন্য ডিফেন্সের আইনজীবী ক্ষতিগ্রস্ত নারীর চরিত্র তুলে প্রশ্ন করতে পারবেন। এর ফলে সারভাইভার কোর্টে সাক্ষ্য দিতে আসলে আসামী পক্ষের আইনজীবী ডিফেন্সের নাম করে তাকে চরিত্র তুলে নানা রকম হয়রানিমূলক প্রশ্ন করেন। এসব কারণে অনেকেরই নিরাপত্তার অভাব আর প্রচুর হয়রানির পরও বিচার পাবে কিনা এই আশংকা তৈরি হয়। একারণে অনেকে আবার অভিযুক্ত পক্ষের সাথে আপোষ করতে বাধ্য হয় অনেক সময়। যদিও আইনমন্ত্রী বলেছেন, চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ এখন বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও আইনমন্ত্রী বলেছেন।

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে আইনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। আমাদের দেশের মতো সব দেশেই ধর্ষকের জন্য শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু কথা হলো ধর্ষক কতো দ্রুত শাস্তি পাবে, তা নিয়ে। চীনে ধর্ষণ প্রমাণ হলেই বিশেষ অঙ্গ কেটে ফেলা এবং সেই সাথে মৃত্যুদ-ও কার্যকর করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধর্ষণের অপরাধীর সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। আর সৌদি আরবে জুম্মার নামাজ শেষে জনসমক্ষে ধর্ষকের শিরচ্ছেদ করা হয়। উত্তর কোরিয়ায় তো ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে গুলি করা হয়। আফগানিস্তানে আদালত রায় দেওয়ার চারদিনের মধ্যে অভিযুক্তকে মাথায় গুলি কিংবা ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকর করা হয়। ইরানেও ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ-। সেখানে ফাঁসি অথবা প্রকাশ্যে পাথর মেরে কার্যকর করা হয় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি। যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য স্টেট ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার ভিন্ন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী দোষীর সাজা কয়েক বছরের কারাদ- থেকে যাবজ্জীবনও হতে পারে। রাশিয়ায় এই অপরাধের জন্য তিন থেকে ছয় বছরের জন্য কারাদ- দেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি বিচারে দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে এই শাস্তি। আর নৃশংসতার উপর নির্ভর করে এই শাস্তি বিশ বছর পর্যন্তও হতে পারে। নরওয়েতে সম্মতি ছাড়া যে কোনো যৌনতা ধর্ষণের মধ্যে পড়ে। এর শাস্তি অপরাধ অনুযায়ী তিন থেকে পনের বছরের কারাদ-। সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় মিশরে। এর কারণ কিন্তু একটাই। ধর্ষককে এমন শাস্তি দেয় হয় যেন অন্যরা তা থেকে শিক্ষা পায়। ধর্ষণের মতো এমন জঘন্য অপরাধ করার কথা যাতে কেউ চিন্তাও করতে না পারে। সেই জন্যই যেখানে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি হলো জনসমক্ষে মৃত্যুদ-।
আমাদের দেশেও ধর্ষণের অপরাধকে হালকাভাবে দেখা হয় না। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান আছে এখানেও। বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঘটে পারিবারিক সহিংসতা। অথচ এই পুরো আইনেই কিন্তু পারিবারিক সহিংসতাকে কোনো অপরাধ হিসেবে দেখা হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু এই আইনের কোনো বিধিমালা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধ এবং বিচার সম্পর্কে খুঁটিনাটি সব বিষয়ে ব্যাখ্যা বা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকে বিধিমালায়, যা আইনে থাকে না। এজন্য প্রতিটি আইনের ক্ষেত্রেই বিধিমালা প্রয়োজন হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধিমালা তৈরির আদেশ উচ্চ আদালত থেকে রয়েছে। আইনজীবীরা বলেছেন, বিধিমালা না থাকায় ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মামলায় একেক বিচারক একেকভাবে বিচার করেন। নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলকারী মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী বলেছেন, আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা রয়েছে তাও সীমিত। সে কারণেও ধর্ষণের অনেক ঘটনার সঠিক বিচার হয় না। ধর্ষণের সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত করতে হবে।

ধর্ষণের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল থাকলেও তদন্তের ব্যাপারে বিশেষভাবে কোনো ব্যবস্থা নেই। পুলিশ অন্য অনেক মামালার সাথে ধর্ষণ বা নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত করে থাকে। আর সেজন্যই এত লম্বা সময় লাগে। নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা মনে করেন, দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের অভাবে তদন্তে দুর্বলতার প্রভাব বিচারের ক্ষেত্রে পড়ছে। জবাবদিহিতা এবং গাফিলতির কারণে শুধু দেরি হয়, তা নয়, প্রসিকিউশনের গাফিলতির কারণে মামলার সবল দিকগুলো আদালতে ঠিকমত তুলে ধরা সম্ভব হয় না। যদিও আইনে বলাই আছে, ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যেই বিচার শেষ করতে হবে। তদন্তের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং সেল গঠন প্রয়োজন। ধর্ষণের শিকার সেই নারী আর তার পরিবারের জন্য দ্রুত বিচার খুব জরুরি।

দ্রুত বিচারের সাথে অপরাধী দমনের জন্য প্রয়োজন আইনের সঠিক ব্যবহার। দেখা যায় অনেক সময় প্রতিপক্ষকে হেনস্তার কাজে ব্যবহার হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি। পুলশের মতে, অনেক মামলার কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায় না। এটাও বিচার দীর্ঘ হওয়ার আরেক কারণ। নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাক, এটা কাম্য নয়। তবে আশার কথা হলো নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার আরো কঠোর হয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, “আমাদের সরকার নারী নির্যাতন বন্ধ, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-’Ñএর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের’ বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে।” “অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আন্ত:মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে সরকারের সঙ্গে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতামুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী, আর নারী সুরক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে, সে দেশের নারীদের কোনো ভয় নেই। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে আমাদের সন্তানদের পরিবার থেকেই সুশিক্ষা আর সাহস দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।

রুবির মায়ের মতো আর সকল কন্যা সন্তানদের মায়েরা যেন নিশ্চিন্তের সাথে যার যার জীবনযাপন করে। অনেক সাহস আর বিশ্বাসের সাথে- মুজিব বর্ষে এমনটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার আর প্রত্যয়।

ছড়িয়ে দিন