নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২০

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে ।
পেঁয়াজ ও চালের দাম সীমা ছাড়িয়েছে ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তা অধিকার রক্ষা নাগরিক সংগঠন ক্যাব এর পক্ষে থেকে মঙ্গলবার বলা হয় , ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ, ২০১৯ সালে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম স্থিতিশীল কিংবা নিম্নমুখী হলেও পেঁয়াজসহ মসলার উচ্চমূল্য জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে পেঁয়াজ নিয়ে নাকাল হতে হয়েছে ভোক্তাদের। এই নিত্যপণ্যের দাম ৬-৭ গুণ বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। দাম বাড়ে আদা-রসুনেরও। বছরের শেষ দিকে এসে চাল, আটা, ডিম, শাকসবজির দামও বেড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

২০১৮ সালে এই পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার এবং সেবাদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য ২৩টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব বের করেছে ক্যাব। তবে বরাবরের মতোই শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াতকে হিসাবে রাখা হয়নি।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা। নভেম্বর মাসে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৫০ বা তার চেয়েও বেশি। ডিসেম্বরে উৎপাদন মৌসুমেও পেঁয়াজের দাম একশ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে ছিল। গড়ে ২০১৯ সালে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ ।

অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে এলাচের দাম বেড়েছে প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৩২ দশমিক ৪৭ থেকে ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশি আদার দাম বেড়েছে ১২দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ক্যাবের বিবেচনায় ২০১৯ সালে শাক সবজির দাম বেড়েছে গড়ে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পটলের দাম ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, গরু-খাসির মাংসের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। তরল দুধের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চা পাতার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খেজুর গুঁড়ের দাম বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নারিকেল তেলের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ।

দেশি থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ; বিদেশি থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ; গেঞ্জি, গামছা, তোয়ালের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বস্তির ঘর ভাড়া বেড়েছে ১০ শতাংশ, মেসের ভাড়া বেড়েছে ৮ শতাংশ, বাসাবাড়িতে দুই বার্নারের গ্যাসের চুলার ব্যয় বেড়েছে ২২ শতাংশ, ওয়াসার পানির দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।

ক্যাবের হিসেবে ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় চাল-ডাল-ভোজ্য তেল-লবণ সাবান, পান-সুপারি ইত্যাদি পণ্যের দাম কমেছে।

চালের দাম আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ডালের দাম কমেছে গড়ে ১০ শতাংশ। ভোজ্যতেলের দাম কমেছে ৬ শতাংশ, লবণের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, চিনির দাম কমেছে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গোলাম রহমান বলেন, “আমরা বাজারের সমস্যা নিয়ে যেমন কথা বলি, তেমনি বাজার ব্যবস্থায় কোনো অগ্রগতি হলে সেটাও তুলে ধরি। যাতে করে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসে, কোনো সমস্যা থাকলে তার সমাধান হয়।”

বিগত বছর যেসব পণ্যের দাম কম ছিল নতুন বছর সেগুলোর দাম বাড়তে থাকায় বিষয়টিকে ‘অশনি সংকেত’ বলেছেন তিনি।

“নতুন বছরের শুরুতেই বাজারে কিছুটা অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে। পেঁয়াজের দাম এখনও দেড়শ টাকার উপরে। এর মধ্যে নতুন করে ভোজ্যতেল, চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সেবাখাতে।

এছাড়া প্রতি মণে সাতশ’ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা আমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়লেও কৃষক দাম পাচ্ছে না। কিন্তু চালের দাম বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

ছড়িয়ে দিন