নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ কতটুকু ছাড় দিবে জানতে চায় কূটনীতিকরা

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৩

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ কতটুকু ছাড় দিবে জানতে চায় কূটনীতিকরা
সদরুল আইনঃ
আগামী জাতীয় সংসদ কিভাবে হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন এবং মতবিরোধ এখনো কমেনি।
বিএনপি যেমন বলছে, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।
এ রকম একটি অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে? – তা একটি কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, রাজনৈতিক সমঝোতার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে একটি রাজনৈতিক সম্মানজনক সমঝোতার জায়গায় এসে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে বিদেশি কূটনীতিকরা।
বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আগামী নির্বাচনে সকল দল যেন অংশগ্রহণ করে, সেজন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে একদিকে যেমন তারা বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কিভাবে বর্তমান সংবিধান কাঠামোর মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করা যায়- তার উপায় উদ্ভাবনের জন্য বলছে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাইছে।
 অন্যদিকে সরকারের সাথেও তারা যোগাযোগ করছে, নির্বাচনকালীন সরকারে আওয়ামী লীগ কতটুকু ছাড় দেবে- এ নিয়েও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের ২০১৪ সালের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রস্তাবটি আওয়ামী লীগ কূটনীতিকদের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করেছে।
ওই প্রস্তাবে ছিল, আওয়ামী লীগের নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং সংসদে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিরোধী দলকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এটিও বলেছে, নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে।
 তবে চারটি বিষয় আওয়ামী লীগ কূটনীতিকদের কাছে খুব স্পষ্ট করেছে। তা হলোঃ
১. সংবিধানের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নাই।
২. নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান নিবার্হী বা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন শেখ হাসিনা।
৩. বিএনপি যদি নির্বাচনে যোগ দেয়, তাহলেই তারা নির্বাচনকালীন সরকারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। যদিও সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই, তারপরও বিএনপিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
৪. কোনো যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকারে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেয়া হবে না এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, পরিকাঠামো- সবকিছু সংসদ নেতার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলোতে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেঃ
প্রথমত, নির্বাচনকালীন সরকার তার কার্যক্রম রুটিন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন সরকারে যারা থাকবেন, তারা তাদের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা প্রটোকল পাবেন না।
তৃতীয়ত, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনলে নির্বাচন কমিশন তার তদারকি করবে।
 প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগ মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ বা পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হলে নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই এবং নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।
তবে নির্বাচনের সময়ের বাইরে অন্য কোনো ছাড় দিতে আওয়ামী লীগ রাজি না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে, তা হলো- নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তখনই আলোচনা করা হবে, যখন বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিবে যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
 অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, তারা সরকারের সাথে তখনই আলোচনা করবে, যখন নীতিগতভাবে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেবে।
তবে কূটনীতিকরা এখনো আশাবাদী, তারা মনে করছেন যে, উভয়পক্ষ শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় আসবে।

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930