‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রেরই জন্ম দেয়’: ড. বদিউল আলম মজুমদার

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮

‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রেরই জন্ম দেয়’: ড. বদিউল আলম মজুমদার

 

‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রেরই জন্ম দেয়, যা কোনো গণতন্ত্রই নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ‘সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি আজ ৩০ জুন ২০১৮, হোটেল মেট্রো ইন্টারনশ্যাল, সিলেটে ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন । নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক স্বেচ্ছাব্রতীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভায় ‘সুজন’ সিলেট জেলা কমিটির সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার, ‘সুজন’-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হালিম, স্থানীয় উজ্জীবক, নারীনেত্রী এবং ইয়ুথ লিডার-সহ ৭৫ জন স্বেচ্ছাব্রতী অংশগ্রহণ করেন। সভায় অংশগ্রহণকারীগণ আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণকরণের লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে নিজ নিজ মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন হলো নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া। এটি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বা সহিংস পন্থায় ক্ষমতার বদল হয়, যা কারো কাম্য হতে পারে না। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা বেশ কয়েকটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেছি। যেমন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে হয়েছে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন। তাই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য এখন থেকে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি এবং নাগরিকদের সোচ্চার হওয়া জরুরি। কারণ নির্বাচন শুধু একদিনের দিনের বিষয় নয়; গণতন্ত্রও শুধুমাত্র ভোট নয়; তা না হলে এটি হবে একদিনের গণতন্ত্র।’

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিশ্চিত করার জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার সভায় কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন: ‘প্রার্থী ও সমর্থকরা যাতে নির্বিঘেœ প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে তা নিশ্চিত করা; নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা; ভোটের দিনে প্রতি পুলিং বুথে এজেন্ট দিতে পারা এবং এজেন্টদেরকে হয়রানি না করা/বের করে না দেওয়া; ভোটারদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা; ভোটারদেরকে হুমকি-ধামকি না দেওয়া; নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা (ভোট কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে কোনোরূপ জটলা না পাকানো/মিছিল না করা); সঠিকভাবে ভোট গননা; ভোটারদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন; নির্বাচিতদেরকে কোনোরূপ হয়রানি না করা/তাদের প্রতি বৈষম্য না করা; ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নেওয়া; নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত হলফনামাগুলো চুলচেরাভাবে যাচাই-বাচাই করা; দ্বৈত শাসনের আবসান ঘটানো। এজন্য প্রশাসন (ম্যাজিস্ট্রেটগণ) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা; কমিশনের পক্ষ থেকে আসন্ন তিনটি সিটি করপোরেশনের জন্যও গ্রেফতারের ব্যাপারে একই ধরনের নির্দেশনা জারি করা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার অনমুতি ছাড়া যেন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করা হয় তা নিশ্চিত করা; ভোটের দিনে সকাল বেলায় ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার কেন্দ্রে সরবরাহ করা এবং খালি ব্যালট বক্স সবাই দেখেছে এই মর্মে সকল প্রার্থীর এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া; ভোট গ্রহণের সময় ৯.০০টা থেকে ৫.০০টা পর্যন্ত করা; প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় কত ভোট পড়েছে তা প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক প্রকাশ করা এবং ঐ প্রকাশিত শিটে প্রার্থীদের এজেন্টদের সাক্ষর থাকা; এবং ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গননার শিটে প্রার্থীদের এজেন্টের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করা।’