নুরেন নাহার সীমার গুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৩

নুরেন নাহার সীমার গুচ্ছ কবিতা

 

 

 

ইচ্ছে হয়না

তোরকি ইচ্ছে হয়না আগের মতোন হতে?
নিষ্পাপ ভালোবাসায় মন ভরিয়ে নিতে।
নাকি এখন তাকে ভেবে দেখবার সময় টুকুও নেই!
মাঝে মধ্যে স্মরন করিস, ঘৃনা করতেই।

অজান্তে কি পাঠাস চিঠি হরেক রঙা খামে?
লাল কষ্ট নীল কষ্ট বেনামি সেই নামে!
ইচ্ছে হয়না সবুজ ঘাসে ফড়িং ধরে দিতে!
আঙুল ছোঁয়া খেলায় রোজ স্পর্শটুকু নিতে!

ল্যম্পপোষ্টের আলোর তলে যায়না তোকে চেনা
অভিমানে শোধ করেছিস সকল লেনাদেনা!
সন্ধ্যেবেলায় বেলকনিতে দাড়িয়ে থাকে সে যে,
চোখ ছলছল দেখার আশায় জলে ডোবা মেয়ে যে।

 

সময় হত্যার বিচার চাই

মাননীয় আদালত,আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু কথা বলতে চাই, পৃথিবীর কোথাও কি সময় হত্যার বিচার নাই?জানতে চাই? জানতে চাই?

পচে, মরে, গলে যাওয়া, জানাজায় লাশ হওয়া সময়ের ক্ষতো,নুন আর মরিচে পিষে রোজ নির্মম, বৈধতা কতো? শালা মিথ্যুক লম্পট অবৈধ যতো!

রাতজাগা কবি বলে সময়টা নিষ্প্রাণ,চাইলেও পারবেনা দিতে কোনো প্রতিদান! দিনশেষে আলো ডুবে আধারেতে করে স্নান ।

উকিলও আহত করে বলে দাও ক্ষ্যন্ত,আইনের মার প্যচে হেরে উদভ্রান্ত,বিচারের কাঠঘরে আশালয়ে ক্লান্ত। বিবেকের আদালতে আসামিরা ম্লানতো।

সময় হত্যার বিচার চাই! শ্লোগানে মুখরিত আদালত প্রাঙ্গন, ছুটে আয় সরোলারা খিল এটে অঙ্গণ,ভেঙেচুরে গুড়ো গুড়ো অন্যায় লঙ্ঘন। অবিচারি পৃথিবীতে
নিয়মের ভঙ্গন।

এ শহর ভিজে গেছে আজ

এ শহর ভিজে গেছে আজ,
বর্ষার বৃষ্টিতে মেঘেদের ভাঁজ।
নিদ্রায় রমনীরা ফেলে নিজ কাজ।
পাখিরাও পলাতকা গোপনের লাজ।

সড়ক ঠোঁটও দেখো কি ভিষন ফাঁকা,
সবুজ পাতাতে মন ভিজেয়ে যে রাখা।
প্রভাত জলেতে নিজ স্বপ্নকে আঁকা!
জেগে ওঠো হে শহর প্রিয়তম ঢাকা।

পিঁচঢালা পথগুলো চকচকে হীরে,
কেউ কেউ হেটে চলে ছাতা হাতে ধীরে।
একটিও কাক নেই ল্যম্প পোষ্ট নীড়ে,
তিলোত্তমা এ শহর বুড়ি গঙ্গার তীরে।

 

আয়নাটা

রুপালি রঙা শাড়িতে,
লাজুক চোখে আয়না চেয়ে
গোলাপ খোঁপার নারীতে,
সন্ধ্যে ডোবা বাড়িতে!

বৃষ্টি ভেজা যৌবনা
ফিসফিসিয়ে বলতো তুমি
মৌয়ের রানী মৌবোনা।

কাজল নয়ন কৈশোরি
আয়না ডেকে বলতো নিখুঁত
ডানাকাটা অপ্সরী।

আয়নাটাই আপন হয়!
কাঁদলে কাঁদে, হাসলে হাসে
কারন সেতো মানুষ নয় !
আয়না পরম বন্ধু রয়।

কালো ফ্রেমের আয়নাটা,
চোখের তারায় তারা রেখে
ধরে নানান বায়নাটা,
ভেঙে যাবার বায়নাটা!

 

সূর্যোদয়ের আগে

বুক পকেটের ভাঁজে ভিজে গোলাপি রঙা খাম,
মেঘপিয়নের শরির জুড়ে আজ দারুণ জ্বর।
রাশি রাশি তুলোর পাহাড় ডিঙিয়ে গন্তব্যের পথে
বাতাবি নেবুর মৌ মৌ ঘ্রাণে মেঘবালিকার দেশ,
অমরাবতী সুখ জাগে হৃদ্য় চৌকাঠে!
বালক তুমি চলে এসো সূর্যোদয়ের আগে।

 

 

মা যখন চলে গেলো

অর্জুন আর মেহগনি কাঁদে,কাঁদে কড়াইয়ের সারি,
রোজ রাতে বুকে জড়িয়ে ঘুমাই তোমার তাতের শাড়ি।
কোন অপরাধে, কোন ভুলে মাগো নিলে জন্মের আড়ি,
ঘর যেনো আজ শুন্য শ্মশান থমথমে লাগে ভারি!

কোথায় পাবো ওমপালকের মায়া?
চারিদিকে যতো অমঙ্গলের ছায়া!

তাবিজ বেধে কে বলবে অশুভকে ভাগো!
যেই রাতে গেলে সেই রাতে আর চাঁদ ওঠেনি মাগো,
নিকশ কালো অন্ধকারে দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে
নতুন মাটি ভিজলো সারা! ওমা একটু জাগো!

পরিশ্রমের ঘাম ঝড়িয়ে যাদের মুথে দিতে নলা তুলে,
তিন দিন শেষ না হতেই স্বার্থের টানে সবাই গেলো ভুলে!
চাচা পাতে নতুন খাঁচা, মামা লুকায় দলিল নামা,
সেগুন কাঠের আলমারিটায় স্মৃতির দোকান খুলে,
ওমা তুমি কই হারালে?
বুক পাটাতনে ছাদ নেই মাগো তোমার ছবি ঝুলে!
কেমন করে বাঁচবো মাগো আমি তোমায় ভুলে!

 

নুরেন নাহার সীমা সংস্কৃতিমনা পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন ।

ছোটো বেলা থেকে নাচ-গান ছবি আঁকা ও লেখালেখিতে ভীষণ আনন্দ পেতেন। শিক্ষা জীবন কেটেছে বরাবো মোহনপুর সরকারি স্কুল, নুরজাহান রোড গার্লস স্কুল ও কিশলয় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে। খুব কম বয়সে সংসার জীবনে পদার্পন করেন, ।সবার অমতেই তাকে শিক্ষার অধ্যায়গুলো যেমন এস এস সি, এইচ এস সি, স্নাতক শেষ করতে হয়েছে। বাল্য বন্ধুর উৎসাহে তার লেখা প্রথম কবিতার বই আমি নির্ঘুম প্রকাশিত হয, এর পর একে একে পাপড়ির কান্না,যখন বিভোর হই, পবিত্র অপরাধ, বিশুদ্ধ উত্তাপ প্রকাশিত হয়, ব্যক্তিগত জীবনে সকল না পাওয়াকে উপেক্ষা করে সময়ের সুখ স্রোতে ভেসে যাওয় একজন কবি। তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী।