নূর হোসেন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিতে বিরোধ

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

নূর হোসেন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিতে বিরোধ

এবার গণতন্ত্রের জন্য শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিতে বিরোধ ।সম্প্রতি এক বক্তব্যে শহীদ নূর হোসেনকে “মাদকাসক্ত” বলেছেন
দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ।এরপর থেকে সকল মহলের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি । তার এই বক্তব্যকে “ধৃষ্টতাপূর্ণ ” বলেছেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

রাঙ্গাঁর বক্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার সংসদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা সমালোচনায় মুখর হন । এর প্রেক্ষিতে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মহাসচিবের ওই বক্তব্যের দায় জাতীয় পার্টি নেবে না।

এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ রশীদ আওয়ামী লীগ নেতাদের খোঁচা দিয়ে বলেন, বান্দরকে লাই দিলে মাথায় উঠে…আমরা তো লাই দিইনি; এ সংসদ তাকে লাই দিয়েছে। যার ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, কিছু নেই, হঠাৎ করে এনে মন্ত্রী করা হয়েছে। যুবদল করেছে সে..বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমন কথা বলার দুঃসাহস কোথায় পায়?

গত সংসদ নির্বাচনের আগে এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারকে সরিয়ে পরিবহন মালিক সমিতির নেতা রাঙ্গাঁকে দলের মহাসচিব করেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রাঙ্গাঁকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল। তার সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল জাতীয় পার্টির আরও দুই নেতাকে। পতিত সামরিক শাসক এরশাদকে করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

রাঙ্গাঁ গত ১০ নভেম্বর দলের এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত সামরিক শাসক এরশাদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘মাদকাসক্ত’ বলেছিলেন। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমালোচনা করেন।

ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিজের ওই বক্তব্য রাঙ্গাঁ প্রত্যাহার করলেও তার সমালোচনা থেমে নেই।

মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনেও অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ রাঙ্গাঁকে নিয়ে সমালোচনায় মুখর হন আওয়ামী লীহের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অধিবেশন কক্ষে ছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন না রাঙ্গাঁ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর বক্তব্য শুনেছি। তার বক্তব্য বাংলার মানুষের হৃদয়ে ব্যথা দিয়েছে। তার বক্তব্যে ঘৃণা প্রকাশ করছি। তার জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট না হলে রাঙ্গাঁ সংসদ সদস্যও হতে পারতেন না বলে দাবি করেন তোফায়েল।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা, বর্তমানে গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, রাঙ্গাঁ সাহেব সংসদকে অবমাননা করেছেন। স্বৈরাচারের পতন না হলে রাঙ্গাঁ সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। রাঙ্গাঁর এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের চরিত্র, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মার পরিবর্তন হয়নি। রাঙ্গাঁর গণবিরোধী, সুবিধাবাদী চরিত্রও স্পষ্ট হয়েছে।

দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে পাশে রেখে রাঙ্গাঁ সেদিন কথা বললেও তার বিতর্কিত বক্তব্যের দায় জাতীয় পার্টি নেবে না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু।

চুন্নু বলেন, আমি জাতীয় পার্টি করি, আমার নেতা এরশাদ। রাঙ্গাঁ যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার করতে চাই, তার বক্তব্যটা দলীয়ভাবে ওন (ধারণ) করে না, এটা বক্তব্য তার ব্যক্তিগত।

তিনি আরও বলেন, শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির কী দৃষ্টিভঙ্গী, তা তৎকালীন চেয়াম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যক্তিগতভাবে নূর হোসেনের বাড়ি গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন, পরিবারকে সাহায্য করেছেন। এটা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031