নোয়াখালীর রাজনীতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে

প্রকাশিত: ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

নোয়াখালীর রাজনীতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে

নোয়াখালীর রাজনীতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে । একরামুল করিম চৌধুরী এম পি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোম ফাটিয়েছেন । তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন । এ নিয়ে সেতুমন্ত্রীর ভাই বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার সমর্থকরা নোয়াখালীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে। সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অনশন শুরু করেছেন মেয়র।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দেন। সেখানে তিনি ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে ‘রাজাকারের পরিবার’ বলে উল্লেখ করেন।

এই ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও কিছুক্ষণ পরেই সেই ভিডিও মুছে ফেলে পুনরায় নতুন ভিডিও বার্তা দেন একরামুল করিম চৌধুরী। তাতে তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর মির্জা কাদেরদের পরিবার হলো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবার। গত ১৮ বছরের কষ্টের সাধনায় আমি আওয়ামী লীগকে এই পর্যায়ে আনছি নোয়াখালীতে । সেই আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হিসেবে উনি আমার গালে জুতা মেরেছেন।

একরামুল করিমের এসব ভিডিও বার্তার প্রতিবাদে নোয়াখালী পৌর এলাকার রূপালী চত্বরে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রূপালী চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সদ্যঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি বাতিল ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় প্রতিবাদকারীরা।

বক্তব্যে কাদের মির্জা উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার বাবা কি রাজাকার ছিলেন বলেন? (সবাই বলে, না।)’ তিনি আরো বলেন, ‘এদের মতো একরামুল করিম চৌধুরীদের সামলান। নেত্রী, আপনার সব অর্জন ধ্বংস করে দিবে এরা।‘

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আরো বলেন, ‘আমরা লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। আমার বোনেরা, আপনারা দিনের বেলায় এসে সংহতি প্রকাশ করবেন। রাতে আপনারা আসবেন না। আর ভাইদের প্রতি অনুরোধ, যখন যারা পারেন সময় দিবেন।‘

‘আমি কিন্তু লাগাতার থাকব”, যোগ করেন সেতুমন্ত্রী ভাই।

একরামুল করিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন আব্দুল কাদের মির্জা।