পদ্মা সেতু নির্মাণ বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

পদ্মা সেতু নির্মাণ বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল : প্রধানমন্ত্রী
এসবিএন ডেস্ক:
পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অনেক বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নিলে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়া তারা দুর্নীতির অভিযোগ আনে। যদিও পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির সেই অভিযোগ তারা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিএনপি সরকারের সময়ের দুটি দুর্নীতির কাগজ দেখায়। আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের উদ্বোধন শেষে শরীয়তপুরের জাজিরায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা নির্মাণে যারা ভিটে-মাটি দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকে আমার চিঠির উত্তর দেয়নি। আমি এ দেশের মানুষের সহযোগিতা, সাহস নিয়ে পদ্মা সেতুর কাজে হাত দিয়েছি। এ দেশের অনেকেই এ সেতু নির্মাণ করতে চেক দিয়েছিল কিন্তু আমরা সেগুলো গ্রহণ করিনি। এ দেশের মানুষ এ সেতু নির্মাণ করতে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এ দেশের মানুষের সাহস ও শক্তিই আমাকে শক্তি হিসেবে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় তিনি অর্থছাড়ে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের হাত আছে এমন ইঙ্গিত করে বলেন, স্বনামধন্য, বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তি (ইউনুস) একটা ব্যাংকের প্রধান ছিলেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে একটা মামলা করেছিলেন। মামলায় হেরে গিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রধানের পদ খুইয়েছেন। এরপরই বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরিচালক তার শেষ কর্মদিবসে পদ্মা সেতুর অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেয়।

সমাবেশে যোগ দিতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর এমনকি গোপালগঞ্জ থেকেও এসেছেন লোকজন। সুধী সমাবেশের পরই মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজের ভিত্তিফলক উম্মোচন করবেন তিনি। সেতুর কাজের উদ্বোধনের পর বিকেলে মাওয়া গোল চত্বরে সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৭ নম্বর পিলার মাওয়া পার থেকে নদীর এক কিলোমিটার ভিতরে। এই পিলারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে, যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নদীশাসনের জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছে। পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।

ছড়িয়ে দিন