পশ্চিমবঙ্গে ফের দিদি দিদি রব উঠেছে

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২১

পশ্চিমবঙ্গে ফের দিদি দিদি রব উঠেছে

পশ্চিমবঙ্গে ফের দিদি দিদি রব উঠেছে । ৮ দফায় ভোটগ্রহণের পর আজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত একটি অঞ্চলের নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে দুপুর ১টা নাগাদ ২০৬ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ৮৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

সব ভোট গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু, দুপুর ১টায় ২০০ পেরিয়ে তৃণমূল। তবে ভারতের করোনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাতে এটা উচ্ছ্বাস দেখানোর সময় নয় বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, ‘এই জয়ে কোনো বিজয় মিছিল হবে না। এটা আনন্দ করার সময় নয়। রাজ্যে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমার নিজের অনেক আত্মীয় মারা গেছেন। এমনকি যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই নেই। এই অবস্থায় বিজয় মিছিল বা আনন্দ করার মতো মানসিক অবস্থা নেই আমার।’

নীলবাড়ির লড়াইয়ে ফিরহাদ নিজে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে দুপুর পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার। তবে জিতবেন বলে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্য, “কোনো দুশ্চিন্তা নেই আমার। টেনশন লেনে কা নেহি, দেনে কা হ্যায়। মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি নিজেকে ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ বলে মনে করি। মানুষ বিবেচনা করে মতামত দিয়েছেন।”

২৯২টি আসনে আট দফায় হয়েছে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। গত ২৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল ভোট প্রক্রিয়া। যা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়ায় সেই দুই আসনে নির্দিষ্ট দিনে ভোট হয়নি। আগামী ১৬ মে সেখানে ভোট হবে। ফলপ্রকাশ হবে আগামী ১৯ মে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। এরই মধ্যে তৃণমূল সে ফিগার ধরে ফেলেছে বলে দেখা যাচ্ছে।

তিন দশকের বেশি সময়ের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসেছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মূলত বাম ও কংগ্রেস। এবারই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে আসছেন বিশ্লেষকেরা।

অথচ পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সেই বিজেপিই ১৮টি আসন দখল করে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপির জনপ্রিয়তা। তৃণমূলের অনেক সংসদ সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিতই এ রাজ্যে সভা-সমাবেশ করে গেছেন।