পাখির পা বিঁধেছে মাটিতে 🍂

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০১৮

পাখির পা বিঁধেছে মাটিতে 🍂

নাজমীন মর্তুজা
এও কি হতে পারে , যে সত্যি কারে জানবার মত জরুরী কথাগুলো জানাই হয়নি আজো ! আমার জীবনে আমি দুটো জিনিস কে খুব ভালো বুঝি , জানি একটা হলো নদী , অন্যটা হলো আষাঢ়ের বৃষ্টি । নদীকে বোঝার কারণ আমি নারী , নদীকেও আমার নারী মনে হয় , কেন হয় তার ব্যখ্যা আমার জানা নেই । নদীগণ ভদ্রবংশোদ্ভুত , তারা কোন রমণীর নিক্ষিপ্ত কাঁচুলী কিংবা কোন অন্তর্বাস চৌর্য্যব্রত তুলে বসনহরণ প্রিয় হয় না । হবে না । কারণ নদীদেরও আছে রিপুর তাড়না , নদীদের ও আছে বিড়ম্বনা , স্রোতে রক্তে কামে ক্রোধে , মাছে গুল্মে আছে আলোড়ন বিলোড়ন। কামুকতাও আছে যুক্তি সঙ্গত ভাবে বুঝি আমি নদী কাশবনে আমার পরিত্যক্ত অন্তবর্াস যদি ভেজায় , ভিজিয়ে দেয় শ্রাবণের অবিশ্রান্ত তৃপ্তবর্ষন শেষে – সেই পরিত্যক্ত বসন হৃদয়ে নিয়ে নদী ছোটে গর্জনে প্রলয়ে কামে মত্ত শার্দুলের মত , তেমতাবস্থায় নদীকে কি কোনভাবে দোষী করা যায় ? জীবন ও স্বরচিত কবিতায় নদী ও প্রকৃতির কাছে মনোনিবেশিত যত্নে ফিরে পেয়েছি নিজেকে – কারকে বিভক্তিতে , সমাসে সন্ধিতে , শুদ্ধ পদ বিন্যাসের স্থাপত্য শৈলীতে । আমি বহুবার পাখি দেহ ধারণ করেছি । যখনি কানে এসে বাজতো পাখি রব , তখন আমি সত্যি সত্যি পাখি আবেগে দ্রুত শ্রুতির এন্টেনা প্রবণ করি , স্বয়ংক্রিয় অস্থি মাংসে । প্রকৃতি বিরাজে রুপ রসে গন্ধ স্পশের্ আমি নির্মাণ করি পৃথিবীর সিনেমা গৃহের জন্য মোশান পিকচার । ধরে ফেলি সমস্ত পাখির ডানায় ও হৃদয়ের নিবিষ্ট বৃষ্টির কীতির্ মোচনের শব্দ । আমার জীবনের সকল গদ্য হ্রস্ব কিংবা দীঘর্ উচ্চারণে কমা কিংবা সেমিকোলনে ইকার কিংবা আকারের অভ্যন্তরে , কোলাহল ও ব্যস্ততা , প্রভাত ও মধ্যাহ্নে , অতীত কিংবা বতর্মানে স্মৃতি ও বিস্মৃতির শয্যায় আমি কখনো ভুল করেও প্রকৃতি থেকে নিজেকে আলাদা করিনি । কারণ পলিমাটি আমার ভালোবাসা , শেকড় আমার আলিঙ্গন । আমি নারী ও নাভীর মাঝে শস্যই আমার সন্তান ।