মন কেন এত কথা বলে

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

মন কেন এত কথা বলে

লুনা হাসান

( আমার নিজের মনের কথা প্রকাশ করলাম…. আমার যাপিত জীবন হতে।
কারো মনে কষ্ট লাগলে মাফ চাইছি। আর আমার এই লেখা যদি কেউ পড়েন তাঁকে আগাম ভালোবাসা। আর অনুরোধ থাকল…
সমালোচনা করার জন্য। কারণ আমি ভালো কিছু লিখতে চাই। যা আপনাদের সাহায্য ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব না।)

যাই মনের বাড়ী….

আজ আমরা কথা বলব মনোনিবেশ নিয়ে। মনের সব চেয়ে বড় শক্তি যোগান দেয় মনোযোগ।আমরা যখন কোন কাজ করব বলে স্থির করি….তখন ঐ কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারলেই তৈরি হয় মনের এক নতুন উঠোন। এই উঠোনে যে যত যত্ন করে আদর , ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে পারবে। তার কাজটা ততটাই সুস্থ- সবল ডাল- পালা ছড়াতে থাকবে।

মনের জগতের ভাণ্ডারটা বিশাল হতে বিশাল তর। এখানে আপনি আপনার জিনিষ পত্র সাজায়ে- গুছায়ে ও রাখতে পারেন। আবার ছড়ায়ে- ছিটায়েও রাখতে পারেন। আপনার / আমার রুচি।

এবার আমি মা – বাবার সাথে কথা বলব।

এই ধরুন….
কার কথাই বা বলি বলুন? আমার কথাই বলি।আমি কিন্তু লিখতে ভালবাসতাম সেই কিশোরী বয়স হতেই। তখন নতুন কোন খাতা বানালে তার মলাটে ২/৪ লাইনের কবিতা বা ৫/৭ লাইনের গল্প লিখতাম খাতাটা সুন্দর দেখাবার জন্য।সেই কিশোরী থেকে ১ বছর আগ পর্যন্তও বাতাসের কাছেই জমা রাখতাম লিখে লিখে। ১ মাস আগেও যা ভাবছি এখন তা আর মনে করতে পারি না। কষ্ট করে মনে করলেও গুছায়ে আর আনতে পারি না। মনের মত হয় না। তখন মনোযোগ টা নষ্ট হয়ে যায়। ঐ বিষয়টার উপর মনোযোগ হারায়ে যায়। এটা হল আগোছাল মন।

আর আমি যদি সেই ছোট বেলা হতে যদি লিখে রাখতাম বা কেউ আমাকে সাহায্য করতেন….তবে হয়তোবা আজ কিছু সংগ্রহ থাকত। থরে থরে গুছানো থাকত মনের কক্ষে ।চাইলেই ঘুরে আসতে পারতাম।

[এই গুছায়ে রাখার কাজটা অবশ্যই মা –বাবাকে করতে হবে প্রথমত]

মনের কাজ শুধু লেখা বা কাজই না। একটা মনের কাজ অনেক।
সে অনেক কিছু ভাবে।
সে অনেক কিছু আশা করে।
সে আশাহত ও হয়।

সে অনেক কিছু বিশ্লেষন করে।
সে অনেক ভালবাসতে চায়।
সে বঞ্চিত ও কম হয় না।

সে অনেক দুঃখ পায়।
সে কখন ও আসামী হয়।
সে মাঝে মাঝে বেওয়ারিশ ও হতে চায়।

সে কখন ও বিচারক হয়।
সে কখন ও ভবিষ্যৎ ভাবে।
সে কখন ও অতীতের চুলচেরা বিশ্লেষন করে।

সর্বোপরি মন কিন্তু একান্তই নিজের। তাই যত্ন নেবার দায়িত্ব ও নিজের। ভালোর ভাগ কেউ নিলেও নিতে পারেন। কিন্তু খারাপের ভাগ নেবার লোক খুবই নগন্য… খুব।

দেখবেন একটা মন যদি একই সময় মনের ২/৩ অংশের সাথে কথা বলে। আর চিন্তা গুলো হয় এলো- মেলো। মনোযোগ হয় দুর্বল। অনেক সময় অনেক সিদ্বান্ত নেয়া যায় না। জানবেন উপরওয়ালা একজন আছেন। সে কিন্তু সবার। তাই ভরসা রাখি তার উপরে।
আল্লাহ্‌ মালিক।
তাই আসুন , আমরা যখন যে কাজ করি মন দিয়া করার চেষ্টা করি। মনের উপর চাপ কমাই। মনকে ভালোবাসি। আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা রাখি।

“ আসুন মনের যত্ন নেই”