পাশের  দেশের পুলক

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

পাশের  দেশের পুলক

মহুয়া দাস

পাশের  দেশে থাকেন। কাঁটাতার তখনই পেরোন,যখন বিভিন্ন সাহিত্য সমাবেশে এ দেশের আমন্ত্রণ তাঁকে টানে। তেমনই বেশ কিছু অনুষ্ঠানের টানে, হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে ছুটে এলেন কবিমঞ্চ সাহিত্য পত্রিকার বাংলাদেশ শাখার সম্পাদক পুলক কান্তি ধর। সিলেট থেকে গতকাল কলকাতায় পা রেখেই ফোন করলেন আমাকে এবং বিকেলের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালেন।আমার মনমেজাজ, শরীর কিছুই ভালো ছিল না।তবু গেলাম শুধু ওঁর কথা ভেবে। আন্তরিকতা ও টান কতটা তা বুঝলাম,যখন তিনি তাঁর ঝোলা ব্যাগ থেকে বের করলেন কবিমঞ্চ সাহিত্য পত্রিকা। আমাকে দিলেন। আমি খুব ব্যস্ততার মধ্যেই, ওঁর অনুরোধে, আমার চিত্র প্রদর্শনীর ঠিক আগের রাতে, তুলির শেষ টান দেওয়ার ফাঁকে,রং মাখা হাতেই ,মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে কবিতাটি লিখে পাঠিয়েছিলাম। ফলে আমার মনোমত হয় নি ঠিক। তবু কবিতা তো কবিতাই। আর বন্ধুরা এমনভাবেই চিরকাল আমাকে তাড়া মেরে কবিতা চেয়ে পাঠালে,তবেই দেওয়া হয় ওঠে। কারণ নিজের কবিতা ব্যক্তিগতভাবে কোনোকালেই কবিতা বলে মনে হয় না আমার।
আর চোখে জল এসে গেল,যখন পুলক ইম্ফল থেকে পাওয়া তাঁর নিজের উত্তরীয়টি আমাকে পরিয়ে দিলেন ।এটার অবশ্য অন্য তাৎপর্য আছে। আমি যেহেতু বিশ্ব কবিমঞ্চের কলকাতা শাখার সম্পাদক,তাই এই সম্মাননা প্রদানের অন্য গুরুত্বও আছে। খুব ভালো লাগল।
আরো যেটা প্রাপ্তি ঘটল,সেটা হল কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী গতকাল উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানটিতে। আমার সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর আলাপ পরিচয় ছিল । সে আমার সৌভাগ্য। পুলক ও আমি তাঁর হাতে তুলে দিতে পারলাম পত্রিকাটি।
আর আমার আরও একটি প্রাপ্তি ঘটেছে। প্রতিদিনের পাতায় বেরোনো ,কল্যাণী কাজীর লেখা, কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কিত একটি রচনার কিছু কিছু অংশ আমি একটি অনুষ্ঠানে পাঠ করেছিলাম বলে কাল নিজে থেকে বললেন
“আয়, তোকে একটা হামি খাই”
সেই হামির ছবিও রয়ে গেল আমার মনের মণিকোঠায়….

ছড়িয়ে দিন