পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর চিরবিদায় নিয়েছেন

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর  চিরবিদায় নিয়েছেন

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর আর নেই । আজ সকাল ১০ টায় তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন । গুরুতর অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ভর্তি হয়েছিলেন শাহ আলমগীর । পরিবারের সদস্যরা জানান, আগে থেকেই তার কিছু জটিল শারিরীক সমস্যা ছিল। এর মধ্যে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আরও নতুন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শারিরীক অবস্থা এই মুহূর্তে সেরকম নেই।
বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন বিওএমএ-র সাধারন সম্পাদক সৌমিত্র দেব বলেন , পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে মেয়াদ বৃদ্ধিতে আরেকবার শাহ আলমগীর তার যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছেন । তার সময়ে পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন উন্নয়ন হয়েছে । পিআইবির আটতলা ভবন উদ্বোধন হয়েছে । সাংবাদিকতায় মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে ।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন ,অনলাইন নীতিমালার খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন । সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্যও একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ।তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকদের অপূরণীয় ক্ষতি হলো ।

মো. শাহ আলমগীর ময়মনসিংহের গৌরীপুর কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। এর বাইরে মস্কো ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম থেকে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ও থমসন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সাংবাদিকতায় উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— করাচিতে সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া আয়োজিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিষয়ক কর্মশালা, ফিল্ম আর্কাইভস আয়োজিত ফিল্ম অ্যাপ্রিশিয়েসন কোর্স ও ভারতের গোয়ায় UNDP আয়োজিত ‘South Asian media and its role in attaining the Millennium Development Goal’ শীর্ষক সম্পাদকদের কর্মশালা।

শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতা পেশার শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। এখানে তিনি সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন। চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব আলমগীর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিশু কল্যাণ পরিষদ এবং শিশু ও কিশোরদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান ‘চাদের হাট’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালনা বোর্ডেরও সদস্য তিনি।

পিআইবিতে যোগদানের পূর্বে তিনি সর্বশেষ এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, ‘চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক ২০০৫ ’, ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভকেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ পেয়েছেন।

পারিবারিক জীবনে শাহ আলমগীর এক পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া বেগম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। ছেলে আশিকুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ পাস করে কাজ করছেন এইচএসবিসি ব্যাংকে। মেয়ে অর্চি অনন্যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিতে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

Calendar

March 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

http://jugapath.com