পিরোজপুরে অপহরণের পর ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২১

পিরোজপুরে অপহরণের পর ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণের মামলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান শান্তি জোমাদ্দার (৫৫) উপজেলার পত্তাশী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

 

বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শান্তি জোমাদ্দারকে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির। তাকে মঙ্গলবার ভোর রাতে পত্তাশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পত্তাশী গ্রামের ওই ছাত্রীকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্ত্যক্ত করতেন শান্তি জোমাদ্দার। একসময় বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়ের বাবা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ক্ষোভে মেয়ের পরিবারকে হুমকিও দেন শান্তি। পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাধ্য হয়ে মেয়েকে গত মার্চে বিয়ে দেন।

 

বিয়ের কিছু দিন পরে ১৬ এপ্রিল বাবার বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী মোড়েরগঞ্জের কালিকাবাড়ি গ্রামে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার সময় ওই মেয়েকে মোটরসাইকেলযোগে তুলে নিয়ে যান শান্তি।

 

পরে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে মোড়েলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর আবারও ইন্দুরকানী থানায় ১৩ আগস্ট জিডি হয়। যার সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার ইন্দুরকানী থানা পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধার করে আনেন।

 

উদ্ধারের পর ছাত্রী জানায়, তাকে প্রথমে মোড়েলগঞ্জে শান্তির বোনের বাড়িতে নিয়ে রাখেন। সেখানে নাটকীয় বিয়ের আয়োজন শেষে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে তাকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে।

ওই ছাত্রীর বাবা জানায়, মেয়েকে অপহরণ করে মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় শান্তির বোনের বাড়িতে নিয়ে বিবাহের নাটক সাজিয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে রাখেন। মেয়ে শান্তির হাতে ধর্ষণের শিকার হয় ও আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় নিখোঁজ মেয়ের কথা জানতে চাইলে শান্তি জোমাদ্দার বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে আমাকে বিদায় করে দেন এবং থানায় অভিযোগ না দিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেয়। এলাকায় মীমাংসা করার জন্য ব্যবস্থা হলেও কোনো ফয়সালা হয়নি।

 

ওসি হুমায়ুন কবির জানান, থানায় মেয়ের বাবার জিডির পরে আমরা মেয়েকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করি। পরে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে অপহরণপূর্বক ধর্ষণের মামলা করলে আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করি। পরে অভিযুক্তকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ছড়িয়ে দিন