পি কে হালদারসহ ছয়জন ভারতে আটক

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০২২

পি কে হালদারসহ ছয়জন ভারতে আটক

রেডটাইমস ডেস্ক: ভারতের অর্থ দূর্নীতি মামলার তদন্ত করে ইডি। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সম্প্রতি তারা অশোকনগর সহ বেশ কিছু এলাকায় তল্লাশি চালায়। গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার সহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার পি কে হালদারসহ ছয়জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

 

শনিবার দুপুরের পর কলকাতার অদূরে সল্টলেকের ইডির দফতরে বাংলাদেশের অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোায়ানাপ্রাপ্ত পি কে হালদার, তার স্ত্রী এবং ভাই সহ ছয়জনকে জেরা শুরু করেন। তখনই এই খবরটি প্রকাশ্যে আসে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া অন্য পাঁচজন হলেন, উত্তম মিত্র, স্বপন মিত্র, সঞ্জীব হালদার, প্রাণেশ হালদার ও তার স্ত্রী।

 

ইডির একটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (১৪ মে) দুপরে তাদেরকে কলকাতার ব্যাংকশাল আদালতের সিবিআই কোর্টে তোলা হয়। সেখানে ইডি তাদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১৭ মে পর্যন্ত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

তবে ইডির অন্য আরেকটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, ইডির পক্ষ থেকে প্রথমে অনলাইনে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। যেহেতু রোববার বিশেষ আদালত ছাড়া বাকি সব আদালতে সাপ্তাহিক ছুটি তাই আদালতের কাছে অগ্রিম আবদেন জানানো হয় এবং সেখানে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে।

 

তবে ইডির অফিসিয়াল সাইটে কিংবা ইডি সরকারিভাবে শনিবার রাত পর্যন্ত পিকে হালদারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কিংবা কোনও ব্রিফিংও দেওয়নি।

 

এদিকে পিকে হালদারের কাছ থেকে আদৌ ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া গিয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করেনি কোনও সূত্র। অশোকনগর এবং এর আশেপাশের এলাকায় ৪০ জনের সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের পর ভারতে পালিয়েও রেহাই পেলেন না বহুল আলোচিত পিকে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদার।

পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রনালয়ের তদন্তকারি সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট-ইডি।

শিবশঙ্কর হালদার নামের ছদ্ম পরিচয়ে তিনি বর্ধমানের কাটোয়া এলাকায় পালিয়ে ছিলেন। একই অভিযানে আটক হয়েছে তার বড় ভাই প্রাণেশ হালদারও।

বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানসহ দশটি এলাকায় অভিযান শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রনালয়ের তদন্তকারি সংস্থা-ইডি।

শুক্রবারের অভিযানে আটক হন পিকে হালদারের ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত সুকুমার মৃধার মেয়ে অতশী। সুকুমার মৃধা এরিমধ্যে বাংলাদেশের কারাগারে আটক রয়েছেন।

অতশীর ফোনে তল্লাশি চালিয়ে শিব শঙ্কর হালদারের ফোন নম্বর পান ভারতীয় গোয়েন্দারা। তাদের কাছে তথ্য ছিলো এই শিব শঙ্করই মূলত পিকে হালদার।

যিনি জালিয়াতি করে ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, রেশন কার্ড ও আঁধার কার্ড নিয়েছেন। আর এভাবেই মেলে দেশের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের হোতা পিকে হালদারের সন্ধান।

তার সাথে আরও আটক হয়েছেন পিকে হালদারের বড় ভাই প্রাণেশ কুমার হালদার, ছোট ভাই প্রিতীশ কুমার হালদার।

এছাড়াও আটক হয়েছে স্বপন ও উত্তম মৈত্র নামের আরও দুই ভাই। এর আগে স্বপনের সঙ্গে সাথে পিকের টাকা পাচারের যোগসূত্র পায় বাংলাদেশে ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

পিকে হালদারের অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ৭০ জনের একটি তালিকা করেছিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ইউনিট এবং দুর্নীতি দমন সংস্থা- ও দুদক।

যাদের অনেকেই ছদ্ম পরিচয়ে ভারতে অবস্থান করছিলো। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তারা নামে বেনামে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তাদের সন্ধানেই শুক্রবার দিনভর বর্ধমানসহ ১০টি এলাকায় অভিযানে নামে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের তদন্তকারি সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট।

আর এই অভিযানেই নিশ্চিত হওয়া যায় শিব শঙ্কর হালদার ওরফে পিকে হালদারের অবস্থান। জানা গেছে ২০১৯ সালে কানাডায় পালিয়ে গিয়েও নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন পিকে।

 

স্থায়ীভাবে সেখানে আত্মগোপনের জন্যই জালিয়াতি করে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব নেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে পিকে হালদার তার সহযোগীদের দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পাচার করেছে।

এই টাকায় বর্ধমান, চব্বিশ পরগনা ও কলকাতার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল পরিমান সম্পত্তি কিনেছেন। নামে বেনামে খুলেছেন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা নিয়ে তদন্ত করছে ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

June 2022
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930