পুরুষদের টেকোমাথা সকলে মেনে নিলে নারীদের নয় কেনো ?

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২২

পুরুষদের টেকোমাথা সকলে মেনে নিলে নারীদের নয় কেনো ?

 

সাবিনা শারমিন

 

পুরুষদের টেকোমাথা সকলে মেনে নিলে নারীদের নয় কেনো ?
যে কোন বিষয়ে লিঙ্গ বৈষম্য হ’লে ওই সময়কাল ও সেই পরিবেশের উপর আমার ভীষণ হতাশ লাগে। আর যারা এসব উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অহরহই ,’ইল মোটিভ’ নিয়ে এসব করে তাদের প্রতি আমার করুণা না হয়ে হয় তাদের পিতামাতার উপর। মনে হয়, আহারে! বৃথাই এদের পিতামাতা রাত জেগে,খেয়ে না খেয়ে মানুষের বাচ্চাগুলোকে অমানুষ করেছে। আর শিক্ষিত, আলোকিত ব্যক্তিত্বরা বাহবা কুড়াতে লোক সমাগমে এমন আচরণ করলে তাদের আমার কাছে ধূর্ত হায়েনা অথবা গোবর গণেশ এই দু’টোর যে কোন একটি মনে হয়। আফসোস ! লেখাপড়া করে যদি অন্যকে হেয় করার মাধ্যমে নিজের অতৃপ্ত ঈর্ষা কাতর আত্মাকে প্রশান্ত করতে হয় তবে সেই অবস্থাটি দাড়ায় পোশাক পরা অবস্থায় একেবারে উলঙ্গ হওয়া অবস্থান।
রাস্তার নগ্ন অনাহারী উন্মাদকে দেখে যতোটানা কষ্ট হয় ,তার চেয়ে বেশী কষ্ট হয় এসব নামে মাত্র শিক্ষিত লোকদের দেখলে। মাঝে মাঝে দেখবেন কেউ নতুন ঝকঝকে গাড়ী দেখলে ঢিল ছুঁড়ে মারে। জনসম্মুখে উদ্দেশ্য করে কাউকে অপমান , এরকম একটি মানসিক অবস্থা! মানুষ সামাজিক ভাবে যতো বড়ই হোক না কেন এই অবস্থা থেকে অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বরাও এই অবস্থা থেকে মুক্তি পায়না। আপনারা অনেকেই দেখে থাকবেন ,আপনার আশেপাশে অনেকেই একটি বৃহৎ লোক সমাগমের এরকম একটি সময়ের জন্য এসব লোকেরা অধীর প্রতীক্ষায় থাকে।
আচ্ছা, আগে বলে নেই বৈষম্যটা কোথায় হ’লো ?
পুরুষের মাথায় চুল নেই, কিন্তু দাড়ি আছে এমন নায়ক কি আপনাদের চোখে পড়েনি ? হ্যাঁ দেশে বিদেশে অনেকই এমন উদাহরন রয়েছে। কিন্তু সেরকম কাউকে কি কোন নারী ভরা অনুষ্ঠানে কোন উপস্থাপক এমন হাস্যরস করবে ? নাহ ! নারীরা পুরুষদের নিয়ে এমন করবেনা,সাধারণ ভাবে এটি বলা যায়। কিন্তু পুরুষরা এই কাজটি নারীদের সাথে অহরহই করতে থাকে। লোক সমাগমে নারীদের বডি শেমিং করা,অনেক পুরুষই জাল পেতে ওত পেতে থাকে।মনে হয় নারীর শরীর কব্জায় না পেলে তারা যা খুশী তাই বলা গ্র্যান্টেড।
বিষয়টি উইল স্মিথ এর চড় মারা এবং ক্রিস রকের চড় খাওয়া প্রসঙ্গে !
রসিকতা বিষয়টি আমার ভীষণ প্রিয়।মানুষকে হাসিয়ে আনন্দ দেয়া অনেক বড় একটি গুণ।সবাই এটি পারেনা।এর জন্য বুদ্ধিমত্তা এবং প্রত্যুতপন্নমতিতার প্রয়োজন রয়েছে।স্মারটনেস এর প্রয়োজন রয়েছে। কারো শারীরিক সমস্যা নিয়ে কাউকে হেয় করার মতো জঘন্য হীন আচরণ এর কি হতে পারে ?
ক্যান্সারে অনেকেই চুল হারায়।এতে পুরুষরা যতোতা না আক্রমণ হয় তার চেয়ে নারীরা হয় বেশী। একজন পুরুষের ন্যাড়া মাথা সবাই যদি মুখ বন্ধ করে মেনে নিতে পারে,তাহলে নারীর ন্যাড়া মাথা পুরুষদের সর্বাঙ্গে এতো জ্বালা ধরায় কেনো? আমি অনেক নারীকে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর ন্যাড়া হ’লে উইগ পরতে দেখেছি। আবার অনেক নারীকে ওই অবস্থাতেও অনুষ্ঠানে মেরুদন্ড সোজা করে অনড় থাকতে দেখেছি।সোনালী বেন্দ্রে ,মনীষা কইরালা ,আমাদের জাঁদরেল নৃত্য শিল্পী অরুনাদিকে সাহসের সাথে চুল বিহীন মাথায় অনুষ্ঠান করতে দেখেছি। আসলে সকল পরিস্থিতিতে জীবন সামলে নিয়ে এগিয়ে যাবার জন্য উদারতা এবং স্মারটনেস লাগে। আমার সেঝবোন সোনিয়ার যখন অসুস্থতা ধরা পরলো, তখন চোখের সামনে তাঁর লম্বা ঝলমলে চুলগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে মেঝেতে পড়তে লাগলো তখন সে একবার হাসছিলো, আরেকবার কাঁদছিল। আমরা পাঁচবোন,এক ভাই এর ,দুলাভাইরা তখন শক্ত অবস্থান নিয়ে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। আজকের এই সুস্থ্য আমি কি জানি আগামীকাল আমার বা আপনার বোনের অথবা আপনার স্ত্রীর অথবা এই পুরুষ আপনার শরীরে ক্যান্সার বা অন্য কোন অসুস্থতা হানা দেবেনা? এই চুল চিরদিন আপনার ঐ গোবর মাথায় থাকবে ভাই?তবে মৌখিক অন্যায়ের প্রতিবাদের ভাষা যদি শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে করতে হয় তবে তাতে জয়ের চেয়ে পরাজয়ই ঘটে।এটি বুঝতে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করতে হয়না।পারিবারিক শিক্ষা এবং এবং পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারার সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
পুরুষদের টেকোমাথা সকলে মেনে নিলে নারীরটি নয় কেনো ?