পুরুষ তুমি অন্তরে বাহিরে

প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০১৮

পুরুষ তুমি অন্তরে বাহিরে

নাজমীন  মরতুজা

মনে আছে ছোট বেলায় যখন পড়ার যত ছেলে মেয়ে জুটে হাডুডু বা চোর পুলিশ , গোল্লাছুট খেলতে মেতে উঠতাম , তখন সমবয়সী ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমার মন খুব খারাপ লাগতো । ভাবতাম আহা ! বেচারিদের অনন্দের দিন শেষ হয়ে গেল । বড় হয়ে তো চাকরী করতেই হবে , ভাল লাগুক চাই না লাগুক । আর আমাদের বেশ মজা , ইচ্ছে হলে চাকরী বাকরী করবো ইচ্ছে হলে ঘর – সংসার করবো ।
বড় হয়ে অবশ্য এ ধারণা কিছুটা পাল্টালো , তবে পুরোটা নয় । দেখলাম মেয়েদের যতটা স্বাধীনতা আছে বলে ভাবতাম , আসলে তার এক শতাংশ নেই । ছোট বেলায় বর বউ বা রান্নাবাটি খেলার সঙ্গে সত্যি কারের ঘর কন্নার অনেক তফাত । তবে পুরুষ দের যতটা স্বাধীন বলে প্রচার করা হয় ততটা স্বাধীন কিন্তু তারা আদতে নয় । বহুযুগ ধরে গড়ে ওঠা একটা ভাবমূর্তির মধ্যে তারাও বন্দী, মেয়েদের মত । পুরুষ মানে তাকে কৃতী হতে হবে , হতে হবে বলশালী ও নির্ভিক । আর মেয়েরা ? একেবারে অসহায় , একটু ভিতু খানিকটা দূর্বল তবেই না মেয়ে । মেয়েদের যেখানে চোখের জল ফেলার অবাধ স্বাধীনতা , পুরুষের সেখানে দঁাতে দাঁত চেপে সমস্ত যন্ত্রনা নীরবে সহ্য করা চাই । তাদের কঁাদতে নেই । ভূতের ভয় পেতে নেই , পাউডার মাখতে নেই , জোড়ে গাড়ি চালাতে আছে , কথায় কথায় আস্তিন গুটিয়ে লড়ে যেতে আছে । সিগারেট খেতে তো আছেই , আসলে পুরুষ নামক জীবটি – যাকে নিয়ে আমাদের একদিকে ঘর করতে হয় আবার অন্যদিকে সহকর্মী হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হয় । আপাত দৃষ্টাতে এই উন্নত স্বাস্হ্য সম্মত , অতীব বলশালী ,নির্ভিক প্রাণীটি কি এবং কে ? দেহ মনে স্বভাবে , মানসিকতায় সে কেমন ? তার কত ভাগ পুরুষ কত ভাগ মেয়ে ? কি কি উপাদানে সে গঠিত ? কতটা আলাদা সে তার অর্ধাঙ্গিনী নারীর চেয়ে । এই জীবটিকে আবেগ বা আশ্লেষের মাইক্রোস্কোপের তলায় ফেলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তার চুল চেরা বিচার আমরা কি করি কখনো ? না , তাকে আবিষ্কার করতে তাকে বুঝতে , তার কাছে পৌঁছুতে তাকে ভালোবাসতে ক জনেই বা মনোযোগী ? এ যুগের বেশীর ভাগ নারী পুরুষের মধ্যে কেন জানি না গড়ে উঠেছে বৈরীভাব । অনেক অধুনিকাই ” ফেমিজম ‘ এর আধিক্যে বিভ্রান্ত হয়ে ধরে নিয়েছেন যে পুরুষ মাত্রই অত্যাচারী । আবার পুরুষদের মনেও জন্মেছে নব যুগের ব্যক্তিত্ব সম্পন্না নারীর সম্পর্কে একটা ভয় , একটা সন্দেহ একটা অবিশ্বাস । পরস্পর কে চেনার সময় আমাদের কই ! যদি পরস্পর কে চেনা যায় তবে নারী পুরুষ হতে পারে একে অপরেরে পরিপূরক ।