পুলিশের হাতে আটক লাল মিয়া সিলেটের শীর্ষ ডাকাত আলম!

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২০

পুলিশের হাতে আটক লাল মিয়া সিলেটের শীর্ষ ডাকাত আলম!

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার: গত শনিবার মৌলভীবাজারের নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামের ছালিক বেগ মাষ্টারের বাড়িতে মধ্যরাতে সংঘটিত দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা শেষে ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় কাগাবালা ইউনিয়নের আতানগিরি গ্রামের বুরুতলা এলাকার পাশ্ববর্তী প্রাইমারী স্কুলের সামনে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে ডাকাত সর্দার বুলু নিহত হয়।
এঘটনায় ডাকাতদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে বেঁচে যাওয়া মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক এএসআই কুরবান আলীসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হলেও ১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ভোরের অন্ধকার ভেদ করে এসময় অন্যরা পালিয়ে যায় বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশের সুত্রে সর্বরাহ করা তথ্যে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, ওই দিন পুলিশের হাতে আটক দুই জনের একজন সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাল মিয়া (৪৪) । এমন তথ্য ঘটনার দিন বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম,প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খবরে প্রকাশ হলেও পরবর্তীতে মৌলভীবাজার মডেল থানায় আটক ঐদিনের লাল মিয়া সিলেট বিভাগের শীর্ষ ডাকাত নাককাটা ছয়ফুল আলম ওরফে আলম ডাকাত বলে ঘটনার একদিন পর নিশ্চিত করে পুলিশ। শীর্ষ ডাকাত আলম সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার জয়পুর গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমান কোটাই এর ছেলে বলে জানা গেছে। তবে আটকের সময় সে পুলিশকে জানিয়েছিলো তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানী বাজারে।

রবিবার (১ মার্চ ) দুপুরের দিকে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন আটক লাল মিয়াকে সিলেটের শীর্ষ ডাকাত আলম বলে নিশ্চিত করেন এ প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৩টি ডাকাতির মামলা থাকলেও তার বিরুদ্ধে আরো অনুষন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সে একেক সময় একেক মিথ্যা নাম ব্যবহার করে আসলেও আমরা তাঁর ব্যাপারে বিভিন্ন থানায় খোঁজখবর ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে জানতে পারি তার প্রকৃত নাম ছয়ফুল আলম ওরফে কানকাটা আলম।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আহত (এসআই) জিয়াউল ইসলাম জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর প্রাথমিকভাবে তার নাম লাল মিয়া বলে পুলিশের কাছে জানালেও পরবর্তীতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় তাঁর ব্যাপারে খোঁজ নিলে জানা যায় সে লাল মিয়া নয় তার প্রকৃত নাম নাককাটা ছয়ফুল আলম ওরফে আলম ডাকাত। তিনি আরো জানান ,আটক আলম ডাকাতসহ সংঘবদ্ধ ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা পক্রিয়াধীন রয়েছে। আলমসহ আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে প্রেরণ করে পরবর্তীতে ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য: গত শনিবার (২৯ ফেব্রæয়ারিা) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামের ছালিক বেগ মাস্টারের বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছে । ৯৯৯ এর মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান ও মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ১২জনের সংবদ্ধ ডাকাতদলের পিছু নেয় ।

একপর্যায়ে ডাকাতরা দুটি সিএনজি অটোরিকশা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় কাগাবালা ইউনিয়নের বোরুতলা গ্রামে পৌঁছলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাইপগান দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ডাকাতরা। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতদলের সর্দার বুলু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

ওই সময় আটক ডাকাতদের কাছ থেকে ডাকাতিকৃত দুটি ল্যবটব,দুটি স্বর্নের চেইন,৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪৫ হাজার টাকাসহ উদ্ধার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি সিএনজি অটোরিকসা,দুটি পাইপগানসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মালামালও উদ্ধার করা হয়।

ছড়িয়ে দিন