ঢাকা ১৪ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


পেঁয়াজের বাজারে আগুন আপাতত নিভছে না

redtimes.com,bd
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
পেঁয়াজের বাজারে আগুন আপাতত  নিভছে না

পেঁয়াজের বাজারে আগুন আপাতত নিভছে না । দামে আসে নি নিয়ন্ত্রণ । সামাল দিতে তুরস্ক ও মিশর থেকে বিপুল পরিমাণ আমদানি হয়েছে । কিন্তু সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশে পৌঁছতে আরও সপ্তাহখানেক লাগবে ।
বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন ।

মিয়ানমার থেকে আমদানির পরও পরিস্থিতি না ঘোরায় তুরস্ক ও মিশর থেকে ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে, নিত্য পণ্য পেঁয়াজের বাংলাদেশে বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টনের মতো। দেশে উৎপাদনের পর ১০ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার বেশিরভাগই আসে ভারত থেকে।

গত সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে; ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ কয়েক দিনেই পৌঁছে যায় ১০০ টাকায়।

তখন সরকার মিয়ানমার থেকে আমদানি শুরু করে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি এবং আড়তগুলোতে অভিযানের পর দাম কিছুটা কমলেও গত সপ্তাহে দাম আবার উর্ধ্বমুখী হয়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, ১৫/২০ দিন আগেও মিয়ানমারের পেঁয়াজের ‘ল্যান্ডিং কস্ট’ ছিল প্রতিকেজি ৪২ টাকা। কিন্তু রোববার সেটা ৭০ টাকায় পৌঁছে গেছে।

“তারাও প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য দ্বিগুণ করে ৮০০ ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে। প্রকৃত পক্ষে আমরা এখন সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি।”

এই অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। তা এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমবে।

বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন রাতে বলেন, মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপকে দিয়ে মিশর ও তুরস্ক থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

কবে নাগাদ তা আসবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই পণ্য দেশে পৌঁছাবে। তখন দাম কমে আসবে। সেই সময় পর্যন্ত ভোক্তাদের সহনশীল হওয়ার অনুরোধ করছি।”

সমুদ্র পথে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে এই পেঁয়াজ আসতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।

এক ব্যবসায়ী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন করে এলসি নিষ্পত্তি করে তুরস্ক কিংবা মিশর থেকে পেঁয়াজ আনতে আরও অন্তত ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।”

দ্রুত এলসি খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পেঁয়াজের আমদানিকারকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

গত দুই মাসে ভারতের বিকল্প উৎস থেকে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, তার চূড়ান্ত তথ্য নেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের আংশিক তথ্যে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে। আর চলতি মাসের ১৩ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে ৯ হাজার ৩৬৪ টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে।

তবে সিটি গ্রুপের পেঁয়াজের একটা বড় চালান দেশের পথে যাত্রা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আনতে এলসি করে ফেলেছি। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে পণ্য বন্দরে পৌছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

প্রথম চালানে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ আসছে জানিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, “সবগুলো চলে এলে বাজারে ৪০ টাকার ওপরে পেঁয়াজ যাবে না।”

বাণিজ্য সচিব বলেন, “সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপ যৌথভাবে ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আনছে মিশর ও তুরস্ক থেকে। আর এস আলম গ্রুপ একাই আনছে প্রায় ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ।”

আমদানি করা পেঁয়াজ ১২ নভেম্বরের পর যেমন আসতে শুরু করবে, তার মধ্যেই দেশের ক্ষেত থেকেও নতুন পেঁয়াজ তোলা শুরু করবেন কৃষকরা।

এতে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হিসাবে, দেশে দৈনিক পেঁয়াজের চাহিদা ছয় হাজার টনের মতো। বর্তমানে বাজারের মজুদের সঙ্গে দৈনিক দুই হাজার টন পেঁয়াজ যুক্ত করা গেলে দাম এমনিতেই কমে আসবে।

পেঁয়াজের দর যে হারে বেড়েছে, তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য সচিব জাফর বলেন, “বাজারে মজুদের ঘাটতি আছে বলে আমরা মনে করি না।”

তাহলে দামের এত বৃদ্ধি কেন- এর উত্তরে মজুদদারিকেই দায়ী করছেন সবাই। তা ঠেকাতে অভিযান চালালেও দাম কমানো যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইঙ্গিত করেছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই মজুদদারি চলছে।

তিনি বলেন, “পেঁয়াজ কিন্তু অলরেডি আছে। তাছাড়া পত্রিকাতেই খবর আসছে যে অনেক স্থানে পেঁয়াজ রয়ে গেছে। কিন্তু তারা কেন বাজারে ছাড়ছে না?

“যারা এখন মজুদ করে রেখেছে, তারা কতদিন ধরে রাখতে পারবে, সেটাই বড় কথা। কারণ পেঁয়াজ কিন্তু পচে যায় আবার। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদের লোকসানই হবে, লাভ হবে না।”

বাণিজ্য সচিব বলেন, “এই দুই মাসের সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অভিযান চালিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট করে দাম বাড়ানোর কারণে ২০০০ ব্যবসায়ীকে শাস্তি দিয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে অন্তত দুই কোটি টাকা। কিন্তু পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেছে খুবই সামান্য। আসলে এটা মার্কেট ট্রেন্ড। এই মুহূর্তে আমরাও হতাশ।”

মজুদদারদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠলেও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মনে করেন, তাতে সমাধান আসবে না।

তিনি কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেন, “যারা মজুদ করছে, আমরা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সমস্যাটা হল হঠাৎ করে চাপ দিলে.. বেঁকে গেলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাদের নিয়ে যে জেলখানায় ভরব, এমন কিন্তু নয়। তাদের প্রো অ্যাক্টিভ করতে চাই, বোঝাতে চাই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031