পৈতৃক সূত্র

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৩

পৈতৃক সূত্র

হাসিদা মুন

 

পৈতৃক সূত্রে আমার একটা আমি
বংশগতি প্রবাহের এক ‘জাতবৃক্ষ’ – সে আমিই
যা কিনা আমার পিতা রোপণ করেছিল একদা
কোন এক বাগানের নির্জন একপাশে
যে কিনা খানিকটা উভচর …

 

যার কিছুটা পানিতে –
কিছুটা রয়ে যায় বিরান ভূমিতে
ভাবো- আশে পাশের বনের বৃক্ষরাজী
তারা সকলেই আমার সরল বন্ধু
আর কিছু – কথা না বলা লতাগুল্ম
যেন চেয়ে চেয়ে দেখা পড়শী
দূরে এক ঝর্ণাধারা –
বয়েযায় ভালোলাগার স্ফুরণে
মাঝে মাঝে বাতাসের ফল্গুধারায়
তার হিমপ্রবাহ ভেসে আসে ক্ষণে ক্ষণে…

 

তুমি মনেহয় – আমার ভালবাসার একজন্‌
যে কিনা গুড়িতে এসে বসো
মাঝে মাঝে স্মৃতির বই খুলে পড়ো
ইতিহাস, কবিতা, প্রেম আর যুদ্ধের গল্প-
সেই শব্দে আমি চকিত হই বার বার
কায়মনে অপেক্ষা করি তোমার …

 

আমার শাখায় চড়ুই বসে দোল খায়
উড়ে আসে বর্ণিল সব প্রজাপতি –
সেই মুহূর্তটা ক্ষণেক ভাললাগার
সুড়ঙ্গ করেছে ওই দুষ্টু কাঠবিড়ালি
ভাবো না , জীবনের কষ্টের ক্ষতগুলো বোধহয় !
আমি উভচর কেন …..?

 

দ্যাখো , আমার কিছুটা থাকে সিক্ত
কিছুটা খরায় অতিবাহিত হয়
না পাওয়া ব্যথার বাকলে – ফাটলে
জীবনের কিছুটা তাই শুষ্ক কাঠ
বাকিটা সবুজ পেলবতায় …

 

কিছু বীজ যা পড়েছে মাটিতে
তা অঙ্কুর হয়ে কিশলয়ে সজীবতায় উজ্জ্বল
কিছু ভেসে যায় – পানির প্রবাহে
দূর দুরান্তে – অজানায় …

 

এভাবে আমি বংশরক্ষা করে চলেছি
বহমান – আমার মানব পিতার ……