ঢাকা ১২ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


পৌষের পড়ন্ত বিকেলে একঝাঁক পায়রা উড়ে গেল গ্লোরিয়াসে

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২১, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
পৌষের পড়ন্ত বিকেলে একঝাঁক পায়রা উড়ে গেল গ্লোরিয়াসে

 

জোহরা রুবী

হঠাৎ মেসেঞ্জারে বার্তা আসল,,,
“গ্লোরিয়াস রেষ্টুরেন্টে আপনার নিমন্ত্রণ,,
আপনার একখানা ছবি ও নামের বানানটা লিখে পাঠান”।
৩১.১২.২০২০ তারিখ বেলা চারটা থেকে বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান সাহিত্য ও গুণীজন সম্মাননা স্মারক প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে।
সত্যি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
কয়েকবার পড়লাম। বুঝার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি গড়িয়ে পড়ছে জল। চুপচাপ মন ভরে কেঁদে নিলাম। এর মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে। প্রাপ্তির আনন্দ সবার ক্ষেত্রেই এক। প্রকাশভঙ্গিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও থাকতে পারে। তখন থেকেই সুবোধ বালিকার মত মানসিক প্রস্তুতি, মনের অতলে গভীর উত্তেজনা।
কোভিড পরিস্থিতিতে এরকম আয়োজনে আমার উপস্থিতি এই প্রথম।
অনলাইন ভিত্তিক জীবন যাপনে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে এটা একেবারে খাপছাড়া মনে হচ্ছিল । পারিবারিক পারমিশনটা দ্রুত পেয়ে গেলাম।
বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান এর গল্পটা বাসায় সবার জানা।
সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি অনর্গল মানবতা আর উদারতার চাষবাস করেন।
একজন মানবিক ও মহানুভূতিসম্পন্ন অভিজাত সফল চাষী।
সেদিন তাঁর নিমন্ত্রণে ছিল হান্ড্রেড পারসেন্ট উপস্থিতি।
জাতীয় সংগীতের সাথে সবাই সুর মিলিয়ে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য, মতামত এতটাই সুন্দর ও সাবলীল ছিল যে টানা পাঁচঘন্টা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি।
সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল,, একজন কবি এ-ই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নতুন শাড়ী কিনেন এবং নিজেকে সাজিয়ে তোলেন পার্লারে গিয়ে।
সরলতা, আন্তরিকতা, ছেলেমানুষি,শ্রদ্ধাবোধ এখনও আমাদের মাঝে টিকে আছে।
এটাই এর জলন্ত দৃষ্টান্ত।
কবি লেখকদের প্রতি বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের আলাদা একটা মমতা কাজ করে। তিনি নিজেও চমৎকার লিখেন। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়কে, কিছু বাস্তবতাকে তার নিজস্ব ভঙ্গিতে রম্য রচনার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
তিনি উৎসাহিত করতে আনন্দবোধ করেন।
প্রত্যেকের মধ্য থেকে বের করে আনেন নানান প্রতিভা।
প্রতিভা তুলে আনার খনন প্রক্রিয়া তাঁর নেশা।
নিজেকে বিলিয়ে দেন, মিলিয়ে নেন উঁচু নীচু ছোট বড় সবার সাথে। বিধাতা প্রদত্ত গুন।
তাঁর সহনশীলতা আতিথেয়তা ও পারিবারিক বন্ধন ছিল নজর কাড়া।সুন্দর একটি পারিবারিক পরিবেশে ঘরোয়া আড্ডায় জমিয়ে রেখেছিলেন অনুষ্ঠান টি।
ভীষণ মনোমুগ্ধকর আয়োজন ছিল।গানে, কবিতায়, আলোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল গ্লোরিয়াস।
চমৎকার ডিনারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি টানা হলেও অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তার আশীর্বাদ নিতে এবং পেতে আরও কিছু সময় ঘনিষ্ঠভাবে কাটান,,
পরিবারের সদস্যদের সাথে ফটোসেশান করেন।
কোভিডের অত্যাচারে সারাবিশ্ব অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও সেদিনের মিলনমেলা যেন সেটাও জয় করেছিল।
নতুন বছরের জন্য অশেষ শুভকামনাই ছিল আমাদের পরম চাওয়া।
নিরাপদ, সুস্থ , সুন্দর, শান্তিপূর্ণ পৃথিবী আবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জেগে উঠবে এটাই ছিল স্রষ্টার কাছে আমাদের একমাত্র নিবেদন ।
দুহাজার একুশ হোক
মহামারী মুক্ত বিপদ মুক্ত এবং প্রশান্তিময়।
শুভ সময়
হ্যাপী নিউ ইয়ার
০৩.০১.২০২১

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031