প্রতিপক্ষ আমাদেরই কিছু নেতাকর্মীর উদ্ধত আচরণ: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২০

প্রতিপক্ষ  আমাদেরই কিছু নেতাকর্মীর উদ্ধত আচরণ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখেছেন, দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে হলে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী এবং সুবিধাবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

রোববার দুপুরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মেলনে দেয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও আজ তাদের রাজনীতি বেগম জিয়ার অসুস্থতা আর স্কাইপের মধ্যে আটকে আছে। তাদের বক্তব্যের একমাত্র বিষয় বেগম জিয়ার অসুস্থতা আর বেগম জিয়ার পুত্র তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমের বিএনপির সভায় সভাপতিত্ব করেন।’

একইসাথে কিছু দলীয় সদস্যের উদ্ধত আচরণ ও সুবিধবাদীদের বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে ড. হাছান বলেন, ‘আমাদের অপর প্রতিপক্ষ হচ্ছে আমাদেরই কিছু নেতাকর্মীর উদ্ধত আচরণ। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে উদ্ধত আচরণ করলে জনসমর্থন কমে। তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে, তাদের উদ্ধত আচরণের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। আর পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতা থাকার কারণে আমাদের মধ্যে কিছু সুযোগসন্ধানী-সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে।
এদের হাত থেকে সংগঠনকে রক্ষা করতে হবে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর মনে করতো যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবে না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে আমরা অর্থনৈতিক-সামাজিক-মানব উন্নয়নসহ সমস্ত সূচকে সেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। পাকিস্তানের মানুষ আজ তাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলে ১০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানকে সুইডেন নয়, বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করুন, যা সেদেশের প্রধানমন্ত্রীও অকপটে স্বীকার করেন। কিন্তু বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন এবং আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই ক্ষমতায় থাকতে চাই।’

এশিয়ার নিকটবর্তী উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘১৯৬৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় একই দল ক্ষমতায় ছিল। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আজ পর্যন্ত একই দল রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সিঙ্গাপুরের নেতা লি কুয়ান ৪০ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। আজকে তার পুত্র রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। আমরা একদিনও জনগণের ম্যান্ডেট ব্যতি রেখে ক্ষমতা থাকতে চাই না। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে অব্যাহতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে আজকের যে অগ্রগতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে, তা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই জনগণ আমাদেরকে অব্যাহতভাবে সমর্থন জানাবেন। আমরাও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে পারবো।’

বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকার থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেমন আমরা জয়ী হয়েছি, আজ জননেত্রী শেখ হাসিনা, যার ধমনী-শিরায় বঙ্গবন্ধুর রক্তস্্েরাত প্রবহমান, তাঁরই নেতৃত্বে জাতি অদম্য গতিতে এগিয়ে চলে পৃথিবীর সামনে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

ছড়িয়ে দিন