প্রশাসনে প্রতিটি স্তরে আবদুল হাইদের প্রয়োজন

প্রকাশিত: ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৭

প্রশাসনে প্রতিটি স্তরে আবদুল হাইদের প্রয়োজন

 

রিফাত কান্তি সেনঃ

আমি সব সময় একটা কথা বলি, ‘যদি সাগর দেখতে চাও তবে সাগরের কিনারায় ছুটে যাও,যদি নদী দেখতে চাও তবে নদীর কিনারায় ছুটে যাও,পাহাড়ে যেতে চাইলে- পাহাড়ের কাছে ছুটে যাও-আর ভাল মানুষ হতে চাইলে, ভাল মানুষের কাছে ছুটে যাও,ভাল কিছু বই পড়,ভাল মানুষের গাড়িতে চড়ো।’

তেমনি একজন ভাল মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখেছি আমি।ঐ মানুষটি এতটাই ভাল যে হাজার বিশেষণে তাকে বিশেষায়িত করে ও তাঁর ভালবাসার ঋণ শোধ করা যাবে না।সেই মানুষটার অহঙ্কার নেই বললেই চলে।সদা হাস্যউজ্জল,মজার মানুষ তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা অবাদ বিচরন।বলছিলাম একজন প্রশাসনের সৎ,নির্ভিক,কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তার কথা।

তিনি আর কেউ নন, মোঃ আবদুল হাই।২০১৬ সালের ২০ মার্চ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে চাঁদপুরে যোগ দেন তিনি। রাজস্ব, শিক্ষা ও আইসিটির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মাঝে তিনি ডিডিএলজি এর দায়িত্ব ও পালন করে আসছিলেন।এমন কী কক্সবাজারের উঁখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে ও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এত কথা বলছি কেনো জানেন? তিনি আমাদের চাঁদপুরের একজন নিবেদিত প্রাণ।চাঁদপুরের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমি আমারটাই বলি,আমরা সবাই স্বার্থ খুঁজি,তাই আমাদের সম্পর্কটা একটু ব্যতিক্রম হয়।আমরা খুঁজি কিভাবে নিজের ষোলআনা কিভাবে উশুল করবো সেটা।আমি নিজেও অতো ভাল মানুষ নই,প্রতিনিয়তই তো অন্যায় করছি,আবার অন্যায় আবদার ও করছি।যা হোক সেটা শুধু তিনিই বুঝবেন।

পরিচয়টা অল্প সময়ের।কিন্তু আমাদের পথচলাটা যেনো যুগ-জনমের।উনি যেমন চিন্তা করতেন ঠিক তেমন আমিও।সাধারন জনগন একজন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তির কাছে যা চায়, ঠিক তাই দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।ফেসবুকে ভোগান্তির গল্প পোষ্ট হতে দেরি,ওনার এ্যকশন নিতে দেরি  হয়নি। গরীব শিশুদের সাহায্য করতে ও কৃপণতা করেননি তিনি।যার চাক্ষুস প্রমাণ আমি নিজেই পেয়েছি।

তিনি  বলতেন  আমার নাকি আবেগ বেশী।হ্যাঁ সত্যি আমার আবেগ বেশী।আমি জানি এ বর্তমান পৃথিবীর জন্য আমি ফিট নই তবু আমি দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছি। ছোট মানুষের বড় গল্প থাকতে নেই,তবে বড় স্বপ্ন থাকতে পারে।তিনি বলতেন,’আমি যেনো আমার লেখাগুলোর পান্ডুলিপি বের করি।’ বলতেন,আমি যেনো বিসিএস দেই।

মজা,ঠাট্টা,উপদেশ কিছুর ই কমতি ছিল না।খুব মজা করতাম এবং ভবিষতে ও করবো। ভাবছেন এত কথা বলছি কেনো? ও হ্যাঁ একটা সুখবর আছে,বর্তমানে তিনি নির্বাচন কমিশনের ’আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনফরমেশন একসেস টু সার্ভিস প্রকল্পের’ উপ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বদলী হয়েছেন।

আরে সেজন্য নয়,তিনি তো চাঁদপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, সেজন্য। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে তিনি জনগনের মাঝে যে সেবক হয়ে উঠেছিলেন তা শুধু চাঁদপুরবাসীই উপলদ্ধি করতে পারে।

আজ সকালে হঠাৎ তাঁর এই বদলির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে খুব খুশি হয়েছি।যদিও আনন্দ অশ্রু ছিল চোখে।

ক’দিন আগে আমার লেপটপটি নষ্ট হয়ে যায়।কী করবো বুঝতে পারছিলাম না।ওনাকে জানাতেই তিনি একটি ঠিকানা দিলেন, যেনো সেখানে গিয়ে তাঁর কথা বলি,তিনি পাঠিয়েছেন। ওনার কথা বলতেই খুব যন্ত-সহকারে আমার লেপটপটি ঠিক করে দেন তাঁরা। তবে যে কোন একটা কারণে তিনি ব্যাথিত হয়েছিলেন।সেটা বলা যাবে না,কারণ সব আবেগ প্রকাশের জন্য নহে।

“ফরিদগঞ্জে একটি গাছ জনগনের চলাচলের স্থানে পরেছিল।অনেকেই বলে সেটিকে সড়াতে পারে নি।আমি ওনার কাছে বলতেই,উনি সাথে সাথে ইউ,এন,ও কে ফোন দিয়ে গাছটি সড়ানোর ব্যবস্থা করে দেন।”

বিদ্যুতের জন্য ফরিগঞ্জে রাস্তার তালগাছ গুলি কাটার সিদ্ধান্ত ছিলো কিন্তু তিসি সড়ক ও জনপথ কে কাটতে দেয় নাই সেই তাল গাছ গুলো, শুধুমাত্র বজ্রপাত ঠেকানোর জন্য।
‘ক্লিন চাঁদপুর,গ্রীন চাঁদপুর’ প্রকল্পে ও তাঁর অবদান সত্যি ভুলবার মত নয়।২০১৬ সালে আইসিটি খাতে সেরা অবদানের জন্য চাঁদপুর কে সেরা জেলা এবং ২০১৭ সালে সেরা ব্র্যান্ডিং জেলার স্বীকৃতি দেয় সরকার,এখানে ও তাঁর অবদান ছিল ব্যাপক এছাড়া বাল্যবিবাহ,ইউডিসি শক্তিশালী করণ,ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল করণ, বাল্য বিবাহ রোধ,যৌতুকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ,ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল করণ,সকল ইউনিয়নে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার মেশিন ও ইন্টারনেট মডেম ক্রয় সহ

চাঁদপুরের যুব সমাজের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে সমর্থ্য হয়েছিলেন।

এভাবেই তিনি আমাদের পাশে ছিলেন,থাকবেন চিরকাল।

মিঃ হাই,আমরা তোমাকে ভুলি নাই।
ভালবাসা থাক চিরন্তন।

লেখক:সংবাদকর্মী

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com