প্রাথমিক,মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের শিক্ষার মান খুব নিম্ন পর্যায়ে

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২১

প্রাথমিক,মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের শিক্ষার মান খুব নিম্ন পর্যায়ে

শিরিণ ওসমান 

আমার পিতা মাতা গ্রামে বড় হয়েছেন। বাবার স্কুল বেশ দূরে ছিলো। তিনি হেঁটে স্কুলে যেতেন। মায়ের স্কুল ছিলো বাড়ির সামনে বড় মাঠ জুড়ে। সেখানে ক্লাস টেন পর্যন্ত বা মেট্রিক পরীক্ষা দেয়া হতো। স্কুল গুলো কোনোটাই সরকারি ছিলো না।পড়াশোনার মান ভালো ছিলো।কোলকাতা ঢাকা কুমিল্লা থেকে পাশ করা শিক্ষকরা ক্লাস নিতেন।আমার মামা, মামাতো ভাই যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন সপ্তাহে একদিন কিংবা ছুটিতে স্কুলে ক্লাস নিতেন।তার জন্য বেতন নিতেন না কেউ। তারা চাইতেন স্কুলটি যাতে মান সম্পন্ন থাকে। ছুটিতে বেড়াতে গেলে আমি আমার মামাতো বোনদের সঙ্গে ক্লাসে যেতাম। ফ্রক পড়ে যেতাম। বেশ ছোট বয়সের স্মৃতি আমার স্পস্ট পনে আছে। ছেলে মেয়ে এক সঙ্গে পডাশোনা করতো। পারস্পরিক সম্মান বোধ বজায় ছিলো। কোনো স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ার প্রশ্নই উঠতো না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা লাভ করতে হবে এটাই ছিলো মূল ব্রত। কো- এডুকেশন ছাড়া পড়ার বিকল্প ছিলো না। এত টাকা পয়সা কারো ছিলো না যে ছেলে মেয়ে আলাদা স্কুলে পড়বে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে। গ্রামের স্কুলে ম্যাট্রিক পাশ করে কলেজ হোস্টেল কিংবা আত্মীয় বাড়ি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। তাঁরাই পরবর্তিতে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পর জীবনে ভাল ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
আজ কো- এডুকেশন পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইংরেজি মাধ্যম নিয়ে স্কুল , মাদ্রাসা নিয়ে কথা উঠছে। প্রতিষ্ঠিত চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীরা পরবর্তিতে গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ফিরেও তাকান নাই। বৃদ্ধ বয়সে চাঁদা তুলে মসজিদ উন্নয়ন করেছেন, পাশাপাশি মাদ্রাসা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন।
রাজনীতি যারা করেন তারাও মসজিদ মাদ্রাসা কলেজ নির্মান করেছেন। সমস্ত বাংলাদেশে কলেজের ছড়াছড়ি ।কিন্তু প্রাথমিক,মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের শিক্ষার মান খুব নিম্ন পর্যায়ে। গ্রামেও কিন্টারগার্ডেন অনেক দেখেছি। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের অভাব নাই। কিন্তু সরকারি স্কুলে ক্লাসের পর কোচিং করেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের অনেক টাকা খরচ করে প্রাইভেট পড়তে হয়।
মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার মান ভালো থাকা জরুরী। সবাই যে কলেজ বিশ্ববিদ্যালযে পড়বে এমন বাধ্যবাধ্যকতার মানে নেই। উন্নত দেশ গুলোতে খুব কম পার্সেন্ট উচ্চ শিক্ষা নেন। কর্ম সংস্থান ও জাগতিক প্রয়োজনে যেসব বিষয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক যারা তারা সেসব বিষয়ে ট্রেনিং নেয়। আমাদের বিএ এমএ পাশের ছড়াছড়ির কিন্তু ওদের কয়জন কর্ম ক্ষেত্র খুঁজে নিতে পারে ? জীবনের সোনালী সময় কর্মহীন পার করার মতো দুঃখজনক আর কি হতে পারে? বড় অংশের যুব সমাজের বিদেশে শ্রম বিক্রয় করে তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
দেশপ্রেমের প্রমান হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা। ছাত্রদের যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সুরক্ষা দেয়া ও কর্ম সংস্থানের সুযোগ করে দেয়া।ফলাফলে সামাজিক নৈরাজ্য, অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশে লাঘব হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

January 2021
S M T W T F S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

http://jugapath.com