বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ

মিল্টন বিশ্বাস

আমরা যারা মোহম্মদ শামস্-উল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু কর্নারের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে জানি, তারা এককথায় স্বীকার করব যে, তিনি নিবেদিতপ্রাণ বঙ্গবন্ধু গবেষক, তার জানার পরিধি ব্যাপ্ত। তিনি সফল ব্যাংকার কিন্তু একইসঙ্গে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখানোর জন্য কলমজীবী। তিনি নিরলসভাবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অজানা ও অনুদ্ঘাটিত বিষয় উন্মোচনে অজস্র প্রবন্ধ রচনা করে চলেছেন। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হলে নিজের অবস্থান থেকে প্রত্যেকেরই কিছু করার আছে- তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম। তার ‘গণমানুষের অর্থনীতি ও বঙ্গবন্ধু’ বইটি মুজিববর্ষের এক অনন্য সংযোজন। এই বইয়ে লেখক বাংলাদেশের অর্থনীতির গোড়াপত্তনের মূল ভিত্তি কৃষি অর্থনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিন্তাভাবনা এবং অবকাঠামো তুলে এনেছেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এদেশে অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি ও কৃষক, যেহেতু বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের শতকরা ৮০ জন প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। মানুষের খাদ্য সম্পূর্ণভাবে কৃষিকেন্দ্রিক। প্রাচীনকাল থেকে এদেশের মানুষ কৃষিকাজ করে আসছে এবং মাটিতে ফসল ফলিয়ে জীবন ধারণ করেছে। তাই বলা হয়, এদেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি ।
লেখক মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম বিভিন্ন প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুর কৃষি ভাবনা এবং কৃষকের অর্থনীতি অর্থাৎ গণমানুষের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার- কৃষি ও কৃষক নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রতি পাতায় পাতায়। এই বই সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, ‘সত্যি বলতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রামের মূল জায়গাতেই ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে প্রান্তিক মানুষের স্বপক্ষের একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা। স্বাধীনতার আগে তিনি এই ভূখণ্ডের মানুষ অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, ‘দুই অর্থনীতি’র তথ্যের ভিত্তিতে জনমত গঠন করে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছেন এবং সফল হয়েছিলেন। কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জনরায়ের ভিত্তিতে নির্বাচনে জিতেও পাকিস্তানিদের চক্রান্তে সংসদে যেতে পারেননি।’
‘গণমানুষের অর্থনীতি ও বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থে গণমানুষের অর্থনীতি ও বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-ভাবনা তুলে আনতে লেখক ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করে সে বিষয়গুলো সুন্দর এবং সহজ-সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন। সেগুলো বর্ণনা করতে তিনি বাংলার মানুষের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং কৃষির ইতিহাস, বাংলা-বাঙালির অর্থনৈতিক ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান অর্থনীতির নানান দিকের বিবরণ দিয়েছেন। বিশেষ করে তুলে ধরেছেন বঙ্গবন্ধুর কৃষিভাবনা ও বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির স্বরূপ। পাল আমল, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে বাংলাদেশের কৃষির উন্নতি এবং কিসের আকর্ষণে বিদেশি শাসকরা এদেশে এসে শোষণ করে ক্ষমতা দখল করতে উৎসাহী ছিল তার বিস্তারিত চিত্রও। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ভাবনা, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কৃষি উন্নয়ন কর্মপ্রণালী, বঙ্গবন্ধুর জাতীয়করণ কর্মসূচি, গণমানুষের উন্নয়নের এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, সর্বশেষ পঞ্চম অধ্যায়ে লেখক বলেছেন বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী ।


বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান কাল বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জাতির পিতার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র এবং সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম।

 

স্বাধীনতার পর শূন্য হাতে যেখানে বিশেষ কিছু ছিল না একমাত্র কৃষিজমি ছাড়া, বঙ্গবন্ধু সেখানে কৃষি থেকেই শুরু করেন এদেশের প্রথম উন্নয়নের ধারা। কৃষি কাজ করে মানুষ বেঁচেছে, স্বাবলম্বী হয়েছে। পাট উৎপাদন করেছে, মসলা উৎপাদন করেছে, তুলা উৎপাদন করে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করে গড়ে তুলেছে অর্থনৈতিক ভিত্তি। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, এদেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। এজন্য বার বার বিদেশি আক্রমণ এসেছে, এসেছে পর্তুগিজ, ফরাসি, ইংরেজ, পাকিস্তান। বাংলাদেশের মাটি ও অতীত বাংলা যদি এত উন্নত না হতো তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমরা এমনটা দেখতে পেতাম না।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একচেটিয়া রাজস্ববিহীন বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের শিল্প ও কৃষিসহ সকল বৃত্তি প্রায় ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়। ব্রিটিশদের চুষে খাওয়ার পর পাকিস্তান আসে। বাংলাদেশ হয়ে যায় তলাবিহীন ঝুড়ি। সে তলাবিহীন ঝুড়িকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু কৃষক ও কৃষি নিয়ে ভাবনা শুরু করেন এবং বাংলার মানুষকে এক করে গড়ে তোলেন কৃষি-অর্থনীতি। এক বছরের মধ্যে প্রণয়ন করেন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানপন্থি কিছু বাংলাদেশি চক্র এবং বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে কিছু পাকিস্তানের সমর্থক। এরপর ১৯৭৩-৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও বঙ্গবন্ধু গড়ে তোলেন কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)। সেই বাকশাল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হতো সোনার বাংলা, উন্নত অর্থনৈতিক দেশ কিন্তু কিছু কিছু বিদেশি চক্র বাংলাদেশকে উন্নত হতে দেবে না, তলাবিহীন ঝুড়ি করে রাখবে এজন্য তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ষড়যন্ত্র আসে। তারপর এক কালো অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাংলার মানুষের বাঁচার আশা একের পর এক অধোমুখী হয়ে পড়ে। শুরু হয় বাংলার মানুষের কষ্টের দিন। ২১ বছর স্বৈরশাসন চলার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু তখনও উন্নয়নের গতিধারায় পা দিতে পারেনি এদেশ। অবশেষে ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে হাত দিলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠে। রূপকল্প ২০৪১ ও বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং পদ্মা সেতুর মতো বিভিন্ন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ আজ উন্নত অর্থনীতির দেশ। এটির ভিত্তি গড়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই।
লেখক ও ব্যাংকার মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি প্রাচীনকাল থেকেই উন্নত ছিল তা তুলে ধরেছেন। এ দেশের সাধারণ মানুষের পেশা ছিল কৃষি এবং উৎপাদন করার সুযোগ ছিল, বিপণনের ব্যবস্থা ছিল। এসব অর্থনৈতিক কর্মকা- তারা মুক্তভাবে করতে পারত ফলে তাদের গ্রামীণ জীবন একরকম নির্বিঘœ ও নিরাপদ ছিল। আবহমান বাংলার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫০ জনেরও বেশি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মাটি কৃষি কাজের উপযোগী ছিল এজন্য ব্রিটিশ সরকার নীল চাষ করতে বাধ্য করে এবং নীল বিদ্রোহ হয়। উপমহাদেশে সমৃদ্ধ কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনীতি ধ্বংসে ব্রিটিশদের কূটকৌশলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলা অঞ্চল। আবহমান বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে পাকিস্তানিরাও একই কৌশলে এদেশের ক্ষুদ্র কৃষি শিল্পকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করে ব্যবসা-বাণিজ্যের একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছেড়ে দেয় ব্যক্তিমালিকানার ওপর।
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈষম্যহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল দু’মুখো- একদল শোষিত হতো, একদল শোষণ করতো। এ অবস্থা দূর করার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা করেন বৈষম্যহীন অর্থনীতির। ধনতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা দূর করার জন্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো তিনি গড়ে তোলেন গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক এক অর্থব্যবস্থা যা বিশ্বে বিরল ।
লেখক ‘গণমানুষের অর্থনীতি ও বঙ্গবন্ধু’ বইতে উল্লেখ করেছেন এন্থনি মাসকারেনহাসের বর্ণনা। তার মতে, বহু বিদেশি পর্যবেক্ষক দেশ বিভাগের সময় পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরবর্তী দুই দশকে পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে থাকে। লেখক উল্লেখ করেছেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্র, আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স প্রদান, শিল্প কারখানার কর্তৃত্ব, বরাদ্দকৃত ঋণ, বৈদেশিক সাহায্য ব্যয়, রাজস্ব ব্যয়, কৃষিক্ষেত্র, বন্যা ও সেচ প্রকল্প ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছে পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরে। এরই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি প্রচারণায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ পোস্টার বিলি করা হয়।’
বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক মানবদরদী মহান মানুষ। তিনি আজীবন বাঙালি এবং বাংলার মেহনতী মানুষের কথা চিন্তা করেছেন, চিন্তা করেছেন দুঃখী মানুষের, চিন্তা করেছেন কৃষকদের নিয়ে। কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তার পরিকল্পনা ছিল এই বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার। তিনি দেখেছিলেন এদেশে একমাত্র কৃষিনির্ভর এবং কৃষি পারে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও উন্নত করতে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মন্ত্রিসভায় তিনি কো-অপারেটিভ ও ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মন্ত্রিসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী। সেখান থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করি। ২১ দফার প্রত্যেকটি দফায় ছিল কৃষি এবং কৃষকের ভাগ্যের কথা, ১৯৬৬ সালের ছয় দফায় একই চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।
বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। জমিদার রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন লেখায় বাংলার কৃষকের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কৃষকদের উন্নত করার জন্য প্রথম কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং কৃষকদের একত্র করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু অনুপ্রেরণা পান। বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের মতো মহান ব্যক্তি হতে চেয়েছিলেন এবং তাকে অনুসরণ করতেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালির সেই সমবায়ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করেন। তিনি শুধু কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাননি, কৃষির পাশাপাশি শিল্পকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পসমৃদ্ধ হয়েছিল। কৃষকের জমিতে উৎপাদিত পাট ব্যবহারের জন্য তিনি পঞ্চাশটির বেশি পাটকল প্রতিষ্ঠা করেন, সে চিত্র উঠে এসেছে প্রাবন্ধিকের লেখায়। কৃষকের উন্নতি, কৃষি গবেষণা, উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষিকাজে উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়- বঙ্গবন্ধু সেদিকেও দৃষ্টি দিয়েছিলেন। ছয় দফা সর্ব বিচারেই বাঙালির মুক্তির সনদ ছিল। এই মুক্তি ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়া, স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যাতে আর কোনোদিন অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার না হয়। গ্রামপ্রধান, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের মেহনতী মানুষ মেরুদ- সোজা
করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য তিনি মাত্র ১০
মাসের মধ্যে কারুকার্যময় হাতে লেখা সংবিধান প্রণয়ন করেন।
ইতিহাসের অনেক প্রসঙ্গই মোহম্মদ শামস্-উল ইসলামের ভালো করে জানা। যেমন, ১৯৭২ সালের ৩ জুন ‘জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একটি ভাষণ দেন। সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু গ্রামভিত্তিক সমবায় গড়ে তুলে কিভাবে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিলেন তার সুস্পষ্ট রূপরেখা আছে এই বইয়ের ‘অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ভাবনা’ প্রবন্ধে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং সেই কর্মসূচি প্রতিষ্ঠিত হলে লেখকের মতে, সেই আদর্শে বাংলাদেশে সমবায়ভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে সকল মানুষ সমানভাবে বাঁচতো, বৈষম্য থাকতো না।।
মূলত মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম গণমানুষের অর্থনীতি, কৃষক ও কৃষি নিয়ে সর্বোপরি এদেশের মানুষ নিয়ে, এ দেশের মানুষের অর্থনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে যে চিন্তাভাবনা বঙ্গবন্ধু করেছিলেন তারই একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে এনে নিজস্ব কৌশলে বর্ণনা করেছেন ‘গণমানুষের অর্থনীতি ও বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে। এই বই পড়লে পাঠক এদেশের ইতিহাসকে পাঠ করতে পারবেন। কারণ বঙ্গবন্ধু সারাজীবন দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন, কৃষির জন্য কাজ করেছেন, ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করেছেন, দু’মুঠো খাবার জন্য চিন্তা করেছেন- এসব চিত্র উঠে এসেছে গ্রন্থের বিভিন্ন বয়ানে।

গণমানুষের অর্থনীতি ও বঙ্গবন্ধু
মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম
প্রকাশক : আলোঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : শতাব্দী জাহিদ
প্রকাশ : অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১
দাম : ৩৫০ টাকা

ছড়িয়ে দিন