বঙ্গবন্ধু কর্নার ঃ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু কর্নার ঃ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সৌমিত্র দেব

আর মাত্র এক বছর পরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে ।জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সকলেই । কিন্তু প্রায় ১০ বছর আগে একজন মানুষ জাতির পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। যেখানে শোভা পাচ্ছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির আবক্ষ ভাস্কর্য। থরে থরে সাজানো রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা এবং তাঁকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত লেখকদের বই। বক্তৃতার সিডি, অ্যালবামসহ অনেক কিছু। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন ২০১০ সালে। অগ্রণী ব্যাংক মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সেখানে তিনি স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু কর্নার।

২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করেন শামস-উল ইসলাম। তখন তিনি সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। একই পদ নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকে ফিরে তিনি সেখানে আবার গড়ে তোলেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। গত বছরের জুনে এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছিলেন তিনি। তার দেখাদেখি এখন দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠায় সরকারি এ উদ্যোগে অভিভূত শামস-উল ইসলাম। তার প্রত্যাশা, এ ভাবনা ছড়িয়ে পড়বে দেশের সব প্রতিষ্ঠানে।
শামস-উল ইসলাম জানান, গত বছর সংসদ সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে জানাই বঙ্গবন্ধু কর্নার সম্পর্কে। এ বিষয়ক কয়েকটি ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেই। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এরপর গত জুলাইয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি জানতে পারেন জাতীয়ভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৯৮৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ২০১০ সালে কিছুদিন আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে তিনি প্রথম এই উদ্যোগ কার্যকর করেন। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিয়ে ১০০ দিনের মধ্যে প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের ফ্লোরের প্রবেশমুখে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করেন তিনি। সেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ১১৭ কেজি ওজনের ব্রোঞ্জের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য। আরও আছে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বিভিন্ন বই, বক্তৃতার সিডি, অ্যালবামসহ বিভিন্ন প্রকাশনা। এখানে স্থাপিত মনিটরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার ব্যবস্থা রয়েছে। শামস-উল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন নিয়ে ব্যাংকের ভিতরে নানা সমালোচনা ছিল। সেসব উপেক্ষা করে তিনি এটা করেছেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্যই আজ আমি ব্যাংকের এমডি হয়েছি। বঙ্গবন্ধু পুরো জাতির। তাকে জানতে হবে সবাইকে। আমার ভালো লাগছে রাজশাহী অঞ্চলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহস াধিক বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সারা দেশে যেখানে আমাদের নিজস্ব ভবন রয়েছে সেখানেই বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হবে। উল্লেখ্য, এই ব্যাংকারের প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু কর্নারের আদলে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।