বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে কেনা-বেচা শুরু হয় :তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে কেনা-বেচা শুরু হয় :তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেনা-বেচা শুরু হয়। খেলার মৌসুমের শুরুতে যেমন খেলোয়াড় কেনা-বেচা হয়, তেমনি বিএনপি মতা দখলের আগে মতার উচ্ছিষ্ট কেনা-বেচা করেছে। কিন্তু আদর্শবিহীন শুধু মতার জন্য রাজনীতি টেকসই হয় না। এ কারণে আন্দালিব পার্থ যেমন ২০ দল ছেড়েছেন, তেমনি আরো অনেকেই ২০ দলীয় জোট থেকে চলে যাবেন বলেই মনে হয়।’
বুধবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসকাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

‘পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেনা-বেচা শুরু হয়। খেলার মৌসুমের শুরুতে যেমন খেলোয়াড় কেনা-বেচা হয়, তেমনি বিএনপি মতা দখলের আগে মতার উচ্ছিষ্ট কেনা-বেচা করেছে। কিন্তু আদর্শবিহীন শুধু মতার জন্য রাজনীতি টেকসই হয় না। এ কারণে আন্দালিব পার্থ যেমন ২০ দল ছেড়েছেন, তেমনি আরো অনেকেই ২০ দলীয় জোট থেকে চলে যাবেন বলেই মনে হয়।’

ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপির প্রধান তারেক রহমান, যিনি লন্ডন থেকে মাঠের কর্মীদের নির্দেশ দেন, তিনি দুর্নীতির দায়ে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্ত, তার নেতৃত্বে কোনো দল পরিচালিত হবার কথা নয়। তার নেতৃত্বেই বিএনপি আজ সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত। নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে সন্ত্রাসী দল থেকে জনমুখী দল হতে পারে বিএনপি। কারণ এই ধরণের নেতৃত্বে দল কখনো মতায় আসে না।’

তথ্যমন্ত্রী এসময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা চট্টগ্রামের প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, ‘দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন পরিচালনা ও প্রাণ উৎসর্গ করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা।

স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জাকির আহম্মেদের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড. শামসুল হক টুকু এমপি এবং আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির যুগ্মসম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, এড. বলরাম পোদ্দার, স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি মোঃ জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সহসভাপতি শেখ নওশের আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদত হোসেন টয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সুবীর নন্দীর অন্তিম যাত্রায় তথ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দীর অন্তিম যাত্রায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সুবীর নন্দীর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।

মন্ত্রী এসময় সাংবাদকিদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘কালজয়ী সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী দীর্ঘ অর্ধশত বছরের সঙ্গীত জীবনে আড়াই হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন তিনি। এই গুণীশিল্পী চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একুশে পদকে ভূষিত হন। গানের মধ্যদিয়েই তিনি এদেশের মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

মন্ত্রী প্রয়াত সুবীর নন্দীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মঙ্গলবার ভোরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৬ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগকারী সুবীর নন্দীর মরদেহ বুধবার সকালে দেশে এসে পৌঁছে। গ্রিন রোডের বাসায়, ঢাকেশ্বরী মন্দির হয়ে শহীদ মিনারে জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, চ্যানেল আই ও পরে রামকৃষ্ণ মিশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য হয় রাজধানীর সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালী মন্দির শ্মশানে।