বন্ধুরে কই পাবো সখি গো.

প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২১

বন্ধুরে কই পাবো সখি গো.

বিনেন্দু ভৌমিক 

এই দুঃসহ করোনাকালে কত বিচিত্র রকমের সংকট ও শংকার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত, তার যে ইয়ত্তা নেই। আমরা যারা হাসপাতালে কাজ করি, তাদের অনেকেরই এখন রাত কাটাতে হয় বিনিদ্র। প্রতিদিন হাজারেরও অধিক মানুষ আমাদের হাসপাতালে আসেন টিকা নিতে, শতশত মানুষের আগমন ঘটে করোনা টেস্ট করানোর জন্য, প্রতিদিন করোনা আইসোলেশন ইউনিট ও আইসিইউ থাকে রোগীতে পূর্ণ, এছাড়া তো রয়েইছে হাসপাতালের রোজকার সেবা। এই এত এত মানুষের মনমতো চাহিদা মেটানো অপর্যাপ্ত জনবল আর সীমিত সম্পদ দিয়ে কি আদৌ সম্ভব? মোটেই না। তবু আমাদের তো হারলে চলবে না। মানুষ যে যুগে যুগে সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে ঠিক যোগ্য করে তোলে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছে সদম্ভে। সকল কালেই এটা ঘটেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে মানুষের বিপদে কিছু মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছে, হাত বাড়িয়েছে বলে। আমরাও এর প্রমাণ পাচ্ছি চাক্ষুষ। বহু মানুষ একত্রিত হয়ে আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। হাত বাড়িয়েছে মৌলভীবাজার সরকারি স্কুলের আমার উননব্বই ব্যাচের বন্ধুরাও। আজ তারা করোনাসংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের হাতে দিয়ে গেছে একলাখ টাকার একটা চেক।
আমরা অনেকেই ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ করে জীবনের সোপান বেয়ে সামনে এগোই, শিক্ষিত হই, হই ধনবানও। কিন্তু সকলে সমানভাবে মানুষের জন্য সপ্রাণ কাঁদতে শিখি না। যারা কাঁদতে শিখে, তারাই তো প্রকৃত মানুষ। আজ আমার বুকটা গর্বে ভরে উঠলো যখন দেখলাম আমার বন্ধুরা স্ব স্ব সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাগলের মতো ছুট্টে এসেছে অনন্যোপায় একটা দুঃসহ সময়কে নিমেষে হারিয়ে দেবে বলে।
এসব দেখে আমার ম্রিয়মান চোখের কোনে একটু জলও কী গড়িয়ে এলো এই ভেবে যে, আমিও একদা এই উত্তীর্ণ মানুষদের সহপাঠী ছিলাম।
ওরা যখন চলে যাচ্ছিল, তখন অস্ফুটে একটু গেয়েই নিলাম করিমের সেই বিখ্যাত গান—
বন্ধুরে কই পাবো সখি গো
সখি আমারে বলো না?
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে
বুঝাইলে বুঝেনা।

ছড়িয়ে দিন