বন্যা চাই না,চাই একটা স্হায়ী সমাধান

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

বন্যা চাই না,চাই একটা স্হায়ী সমাধান

শর্মিলা দেব

কালই ঠিক করে রেখেছিলাম সকালে সিএনজি নিয়ে  গত কয়েকদিনের আমাদের শহরের উপর দিয়ে ঘটে যাওয়া প্রলয়ে বর্তমান অবস্হা দেখতে যাব।১৩তারিখ ছিল সরকারী ছুটি।সেদিন থেকেই মনে হচ্ছিল নিম্নচাপ হয়ত ঈদের আনন্দে বাগড়া দেবে।১৪ জুন রাতেই দৃশ্যপট পালটাতে থাকে।সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটি বাতিল ঘোষনা করেন।মনু নদের গর্জনে চারিদিকে ভীতিকর পরিস্হিতির সৃষ্টি হয়।জেলা প্রশাসন,সেনাবাহিনী এবং পৌরসভার এিমুখী অভিযান চললেও শেষ পর্যন্ত শহর বাঁচানো যায়নি।ঈদের দিন মাঝরাতে বারুইকোনা হয়ে বড়হাটসহ শহরের পশ্চিমদিক ৬,৮,এবং৯নংওয়ার্ডসহ কিছু ইউনিয়ন তলিয়ে যায়।অন্যদিকে ১নংওয়ার্ড সৈয়ারপুরে যারা বাধের ভিতরে ছিল তারা আক্রান্ত হয়।  অফিস খোলার সাথে সাথে আমাদের কয়েকটি টিমে ভাগ করে রিলিফ বন্টনের কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়।তথ্য প্রদান কেন্দ্রে আমাদের প্রধান ছিলেন সহকারী প্রকৌশলি বিজয় দেব । আমাদের নিয়ে তিনি সুষ্ঠুভাবে কাজ করে গেছেন।শুধু জেলা প্রশাসন থেকেই নয়,পৌরসভা থেকেও শুকনা খাবার প্রদান করা হয়েছে। ব্যাবসায়ী মুহিমবাবু পৌরসভার মাধ্যমে হাসি ড্রিংকিং এর পানি বড় বড় জারে সরবরাহ করেছেন যা আমাদের গাড়ী দিয়ে বন্যা কবলিত এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।সিভিল সার্জন অফিস থেকে যে ঔষধ দেওয়া হয়,পৌরসভার তরফ থেকে সেগুলি আমাদের স্বাস্হ্যশাখার মেয়েরাসহ হসপিটালের ডাক্তার এবং কর্মচারীদের মাধ্যমে বন্যা কবলিত ওয়ার্ডে ৫টি সেন্টারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।সরকার এই বন্যায় প্রচুর এাণ দিয়েছেন।ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবংসমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মৌলভীবাজার এসে ত্রাণ কাজে অংশগ্রহন করে গেছেন।ত্রাণর কাজ খুবই শৃংখলার মধ্যে হয়েছে।প্যানেল মেয়র ফয়সল আহমদ এবং ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার মনবীর রায়কে আমরা সবসময় পাশে পেয়েছি।বন্যার আগে এবং পরে যে সমস্ত স্টাফ সবসময় যোগাযোগ রেখে গেছেন তারা হলেন নির্বাহী প্রকৌশলি আবুল হোসাইন ,রণধীরবাবু,বিজয়বাবু,পিয়েবাবু,আব্দুল মতিন,নুরুজ্জামান,আব্দুর সোবহা্‌ন, আব্দুল মালেক, আমিনুল ইসলাম।শ্রীমঙ্গল থেকে যোগাযোগ রেখেছেন উজ্জলবাবু এবং রন্জিত বাবু।বাড়ীতে চলে গিয়েছিলেন কিন্ত কর্তব্যের টানে ফিরে আসেন ঘুরপথে গাড়ী বদলে বদলে আব্দুল মুমিন,সৈয়দ নকীবুর রহমান এবং আমাদের সচিব স্যার ঈসহাক ভুইয়া।রাস্তার ধকল উনি সহ্য করতে না পারায় অসুস্হ হয়ে পড়লে উনাকে মৌলভীবাজার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।ড্রাইভার সহকর্মীরা অনবরত গাড়ী টেনেছেন,বিশেষ করে শেখ ফারুক এবং বিকাশের কোন তুলনা ছিল না। অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা।পৌরসভার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কিছু করতে পেরিছি।অনেক বেসরকারী সংস্হা,ব্যাংক,সংগঠন ব্ন্যায় রিলিফ বিতরন করেছেন।তবে বন্যার প্রকোপ ছিল পৌরসভার চেয়ে ইউনিয়নে বেশী। আমরা আর বন্যা চাই না,চাই একটা স্হায়ী সমাধান।গাইড ওয়াল উচু করে নয়,চাই মনু নদ খনন। অসম্ভব মনে হচ্ছে? বাঙ্গালীর কাছে অসম্ভব বলে কিচ্ছু নাই।মুক্তিযুদ্ধ হলে আমরা জিতব এক ভারত ছাড়া পৃথিবীর কেউ ভেবেছিল?বেশী দূরে যাওয়ার দরকার কি! কোদালীছড়া সংস্কার নিয়ে কত কথা।কিন্তু আমাদের মেয়র মহোদয় কিন্ত ঠিকই সংস্কারের কাজ শেষ করেছেন।তাই ভয় পাওয়া চলবে না।এবারের বন্যায় আমরা দেখেছি প্রচুর তরুন স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে । এরা আমাদের সম্পদ। আমাদের শুধু প্রয়োজন একজন যোগ্য নেতার আর সরকারী পৃষ্টপোষকতা। প্রয়োজনে খরচ যোগাবে নদীর দুইপারের লোকজন প্রত্যেকে একটি করে টাকা দিয়ে। আসুন না আর একটি অসম্ভব কাজে নেমে পড়ি।

লেখক ঃ সাধারণ সম্পাদক , মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্মচারী সংসদ