বর্ষবরণ মানেই যেন এক নবজন্মের উল্লাস

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৮

বর্ষবরণ মানেই যেন এক নবজন্মের উল্লাস

বর্ষবরণ মানেই যেন এক নবজন্মের উল্লাস ।
বিশ্ববাসীর সঙ্গে খ্রিস্টীয় নতুন বছর বরণ করছে বাংলাদেশের মানুষ ।
২০১৭ পেরিয়ে ২০১৮ সাল নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে, সেই প্রত্যাশা নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হবে কাজ ।

গোলাকার পৃথিবীর আবর্তনের কারণে নিউ জিল‌্যান্ডের অকল‌্যান্ড থেকে শুরু হয় বর্ষবরণের উৎসব; পুবের দেশগুলোর পর বাংলাদেশেও যখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘোষণা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজি আর পটকায় সরব হয়ে ওঠে ঢাকা।

কড়া নিরাপত্তার মধ‌্যে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়সহ অভিজাত হোটেলগুলোতে বর্ষবরণে নানা আয়োজনে মেতে ওঠে অনেকে।

নতুন বছর উপলক্ষে শহরজুড়ে ভবনে ভবনে সন্ধ্যা থেকেই ছিল আলোকসজ্জা। নতুন বছরের প্রথম ক্ষণেই শহরজুড়ে আতশবাজি ফোটানোর পাশাপাশি উল্লাস প্রকাশ করেন মানুষ। তবে তারুণ‌্যের উদ্দাম প্রবাহ দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের টিএসসি এলাকায়।

নতুন ইংরেজি বছরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রাষ্ট্রপতি এক বাণীতে বলেন, নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা।

বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশা করি।

সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।

পুরাতন সব জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে নতুন সূর্যের আলোয় বাংলাদেশ আলোকিত হবে প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, নতুন বছর আামাদের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনুক।

বিদায়ী বছরকে সাফল্যময় উল্লেখ করে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ, অর্জন ও সফলতা তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৭ সাল আমাদের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বছরটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় বছর।”

বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।”

২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ অর্জন বাঙালি জাতি হিসেবে অত্যন্ত গৌরবের। আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।”

নতুন বছরে সবার শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রত্যাশা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, গেল বছরের বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, স্বজন হারানোর বেদনা এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বৎসরে একদিকে যেমন বেদনার্ত করবে আবার অন্যদিকে নুতন উদ্যোমে অধিকার ফিরে পেতে তাগিদ সৃষ্টি করবে। আমরাও আশা করি নতুন বছর আমাদের জন্য নতুন সুখের বার্তা বয়ে আনবে ।