বাংলাদেশের “গ্লোবাল আইসিটি এক্সসেলেন্স এওয়ার্ড” অর্জন এবং করণীয়

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২১

বাংলাদেশের “গ্লোবাল আইসিটি এক্সসেলেন্স এওয়ার্ড” অর্জন এবং করণীয়

-মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল
১১- ১৪ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তির অলিম্পিকখ্যাত বিশ্ব সম্মেলন ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (ডাব্লিউসিআইটি-২০২১) ‘ই-এডুকেশন এন্ড লার্নিং’ এ “গ্লোবাল আইসিটি এক্সসেলেন্স এওয়ার্ড” পাওয়ার গৌরব অর্জণ করেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে সুপরিচিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মুকুটে আর একটি পালক সংযুক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, এ অর্জণের মধ্য দিয়ে অনলাইন এডুকেশনে শুধুমাত্র বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং বিশ্ব দরবারেও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করল ডিআইইউ। কারন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলোর জোট ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সার্ভিসেস এলায়েন্স (উইটসা) কর্তৃক এ স্বীকৃতি পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি। পুরস্কার ঘোষনার প্রাক্কালে উইটসার চেয়ারম্যান ইয়ান্নিস সিরোস বলেন, এবারের গ্লোবাল আইসিটি এক্সেলেন্স এওয়ার্ড এর জন্য ১০০টি একক ও উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয় তার মধ্যে জুরি বোর্ডের বিচারে সবার সাথে প্রতিযোগীতা করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বিশ্বের ৮৫টি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করে থাকেন। বাংলাদেশ থেকেও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি সার্বিক মূল্যায়নে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। ডিআইইউ বাংলাদেশে একটি পরিপূর্ন ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং তথ্যপ্রযুক্তির দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবহার, উল্লেখযোগ্য মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল প্রদান, বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার, বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতনতা ও অনুপ্রেরনা প্রদানের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখার স্বীকৃতি, আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্তি এবং অনলাইন টিচিং ইভালুয়েশন সিস্টেম এবং সর্বোপরি করোনা অতিমারীকালে ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন শিক্ষাকার্যক্রম নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোর ব্যাপক প্রচলনের জন্য বিশ্বে অনন্য নজীর স্থাপন করায় এ পুরস্কারে ভুষিত হয় এবং দেশের জন্য দূর্লভ সম্মান বয়ে আনে।
এ সাফল্য একদিনে আসেনি। এর পিছনে সংশ্লিষ্ট সবার রয়েছে হাজার দিন ও বিনিদ্র রজনীর অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রচেষ্টা। সেই প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান স্বপ্ন দেখতেন একটি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, একটি বিশ্বমানের পরিবেশ সমৃদ্ধ সবুজ ক্যাম্পাসের। তিনি নিজেও দেশেসেরা দশজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের একজন। যিনি ছাত্রজীবনেই দূরদর্শিতা দিয়ে নিজ হৃদয়ের নিভৃত কুঞ্জে অনুভব করেছেন তথ্যপ্রযুক্তির অপার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। তাইতো সরকারি-বেসরকারি চাকরির লোভনীয় সব প্রস্তাব উপেক্ষা করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা শুরু করেন ১৯৯০ সালে এবং গড়ে তুলেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় আইসিটি কংগ্লোমারেট ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স যার ইতিহাস কমবেশী সবারই জানা। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি, বেসিসের একজন সক্রিয় নীতি নির্ধারক, সরকারের আইসিটি টাস্ক ফোর্সেরও ছিলেনএকজন সক্রিয় সদস্য। তার সুবাদেই তিনি সেই ১৯৯২ সাল থেকে ব্যবসায়িক জীবনের প্রারম্ভ থেকেই দেশ বিদেশে পরিভ্রমন করেছেন । আর যেখানে যা কিছু ভাল অনুকরনীয় ও অনুসরনীয় তথ্যপ্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন দেখেছেন তাই সংগ্রহ করেছেন, নিজের মানসপটে এঁকে নিয়ে এসেছেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠানে তা বাস্তবায়ন করেছেন।

মূলতঃ নববই দশকের শুরুতেই তথ্যপ্রযুক্তির হাওয়ায় পাল তুলে গোটা বিশ্ব, সেই পালের হাওয়া আমাদের বাংলাদেশেও এসে লাগে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের নির্বুদ্ধিতায় যদিও আমরা বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবল সংযুক্তির সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হই এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বের তুলনায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে তার দূরদর্শিতা দিয়ে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অবারিত করতে কম্পিটার সামগ্রী আমদানীকে ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এতে করে দেশে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটতে শুরু করে। মানুষ ধীরে ধীরে কম্পিউটার ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী মেনিফেস্টুতে শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মের কাছে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার প্রত্যয় ও ওয়াদা ব্যক্ত করেন। অবশ্য এক্ষেত্রে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন আজকের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এদেশের তরুণ সমাজ তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিরঙ্কুশভাবে তাকে সমর্থন দেয় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ।

দীর্ঘদিনের পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা তুলে দাড়িয়েছে। আমরা যেভাবেই মূল্যায়ন করি না কেন, আজকের এই উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশেরই অবদান। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে ‘উদ্ভাবনী বাংলাদেশ’ গঠনের দিকে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচী প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উইটসা এমিনেন্ট পার্সনস এওয়ার্ড-২০২১ পুরস্কার পেয়েছেন। আমি সবসময় একটি কথা মনে –প্রাণে বিশ্বাস করি যে প্রযুক্তির সাথে প্রজন্মের একটা নিবিঢ় সম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রজন্ম খুব সহজেই এবং দ্রুততার সাথে নতুন নতুন প্রযুক্তিকে আয়ত্ত্বে নিতে অভ্যস্থ যা আমরা প্রবীনরা অনেক সময় সহজে পারি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হয়ত এ দর্শনের ভিত্তিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়কে তাঁর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

আমি দেখেছি সেই ২০১০ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটারাইজেশন ও অটোমেশন পদ্ধতি প্রবর্তনকালে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিরলস পরিশ্রম এবং প্রশাসনিক স্টীম রোলারের তান্ডব। প্রতিটি শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে তিনি বাধ্য করেছেন প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্থ হতে। এমনও দেখা গেছে প্রযুক্তি ব্যবহারে সিদ্ধ হস্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তার মাস শেষে বেতন পেতে বিলম্ব হয়েছে, তবুও তাকে শিখিয়ে ছেড়েছেন। তৎকালীন উপাচার্য প্রয়াত প্রফেসর আমিনুল ইসলাম স্যারকে বর্ষীয়ান হয়েও যুগের চাহিদা পূরণে সফটওয়্যার ব্যবহারে পারদর্শী ও অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হয়েছে। তিনি অবশ্য এ বিষয়টিকে দারুন উপভোগ করতেন। সেসময় অনেক শিক্ষক কর্মকর্তা এ বিষয়টিতে অনীহা প্রকাশ করলেও কিছু বাধ্য-বাধকতার কারণে চর্চা করতে শুরু করেন এবং উপাচার্য হিসেবে আমিনুল ইসলাম স্যারের মেনে নেয়ার একাগ্রতা ও পারদর্শিতা দেখে পরবর্তীতে তা অনেকের নিয়মিত চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমশঃ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপ নিতে থাকে।

শুরু থেকেই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কর্মকান্ডসমূহ ধাপে ধাপে কম্পিউটারাইজড এবং অটোমেটেড হওয়ার ফলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ অনলাইনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। ফলে ডিআইইউ’র শিক্ষার্থীরা তথ্য প্রযুক্তির সর্বশেষ আবিস্কার ও প্রয়োগ সমূহের সাথে পরিচিতি এবং বিশ্ববাজারের উপযোগী প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। ২০১২ সাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পাঠ্য কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেয় এবং ক্রমশঃ তা বাস্তাবায়ন করতে সক্ষম হয়।

করোনা অতিমারীকালে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ মাসেরও বেশী সময় বন্ধ ছিল। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবাই উদ্বিগ্ন ছিল শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অথচ এমন ক্রান্তিকালেও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যা সার্বক্ষণিক সচল ছিল। একটি মূহুর্তের জন্যও শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া বিঘিœত হয়নি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টার’ ও ‘গো-এডু’র মত প্ল্যাটফর্ম সক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকায়এবং শিক্ষার্থীরা আগে থেকে অভ্যস্থ থাকার কারণে। করোনা মহামারির এই কঠিন সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ব্লেনডেড লার্নিং সেন্টারের (বিএলসি)’ সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, ফেস-টু-ফেস অতিক্রম করে ২য় পর্যায় অর্থ্যাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটালে আছে। যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইতিমধ্যে ব্লেন্ডেড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হলো অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশ এখনও বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাষ্ট্রিতে তার উপস্থিতি জানান দিতে পারেনি। যদিও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনলাইন ডিগ্রি চালুর ব্যাপারে তাদের সামর্থ্য বিশ্বদরবারে জানান দিয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের তৃতীয় স্তরের শিক্ষায় প্রথমবারের মত প্লাটফর্ম ভিত্তিক শিক্ষাদান শুরু করেছে। এ পুরো প্রক্রিয়াটি পাঠদান এবং শিক্ষাকে ইন্টারেক্টিভ করে তোলে, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে, শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার অভিজ্ঞতাগুলি শিক্ষকদের সাথে ভাগ করে নিতে পারে।

২০০৮ সাল থেকেই ডিআইইউতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেপাল , ভারত, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া,আফগানিস্থান, জর্ডান তুরস্ক, জিবুতি, ইথিওপিয়া উল্লেখযোগ্য। এসকল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে দেশ একটি বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে যা আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে উক্ত দেশ সমূহ থেকে বিপুল সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়াশোনা করে অনলাইন ডিগ্রিী নিতে আগ্রহী যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো উচুঁতে নিয়ে যাবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় যেন কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে অনলাইন ডিগ্রী শুরু করতে আগ্রহী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কাছে ইতিমধ্যে অনলাইন ডিগ্রিী প্রদানের অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি আবেদনও করেছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেই এখন অনলাইন ডিগ্রিী প্রদান শুরু করেছে, সম্প্রতি ভারতের ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন তাদের দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইন ডিগ্রিী প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে। উন্নত বিশ্ব এটি শুরু করেছে অন্তত ১০ বছর আগে।

অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে অনলাইন শিক্ষার বাজারমূল্য ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এল এম এস, লার্নিং এনালিটিক্স) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করা গেলে এটি সহজেই রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টসের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে। তাই আশা করব, দেশের পরিকল্পনাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনবেন যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

ছড়িয়ে দিন