বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২১

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হয় এবং রেলওয়েসহ সাতটি প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।আজ শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্যদিকে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির নেতৃত্ব দেন। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরুর আগে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইগার গেইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই নেতা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

এ সময় দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে যে পাঁচটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ২. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অব ইন্ডিয়ার (আইএনসিসি) মধ্যে সহযোগিতা ৩. বাণিজ্য বিকাশে অশুল্ক বাধা দূর করতে একটি সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা ৪. বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিজিএসটি) সেন্টারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, কোর্সওয়্যার ও রেফারেন্স বই সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতা ৫. রাজশাহী কলেজ মাঠের উন্নয়নে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন।

যে সাতটি প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ১. শিলাইদহের সংস্কারকৃত কুঠিবাড়ি ২. মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া হয়ে কলকাতা পর্যন্ত স্বাধীনতা সড়ক ৩. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসমাধি ৪. ভারতের উপহার ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স ৫. চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল ৬. দুটি সীমান্ত হাট উদ্বোধন এবং ৭. স্মারক ডাকটিকিটের মোড়ক উন্মোচন।

এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন উপহার বিনিময় করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বানানো একটি করে স্বর্ণ ও রুপার কয়েন মোদিকে উপহার দেন শেখ হাসিনা। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাজানো একটি রুপার কয়েন দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে ভারত সরকারের দেওয়া করোনা প্রতিরোধক ১২ লাখ ডোজ টিকা উপহারের প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতে তুলে দেন মোদি। এ ছাড়া শেখ হাসিনার হাতে ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্সের প্রতীকী চাবি দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বৈঠক শেষ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে যান। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁকে স্বাগত জানান।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে দুই দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ রাতেই তিনি দেশে ফিরে যাবেন।