বাংলা সিনেমা ও পরীমণিদের নিয়ে যত ভাবনা

প্রকাশিত: ১:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২১

বাংলা সিনেমা ও পরীমণিদের নিয়ে যত ভাবনা

আজিজুল আম্বিয়া

বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যখন বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সাথে সহ অবস্থানে নিজেদের নিতে গুনতে হয়েছে পঞ্চাশ বছরের চেয়ে বেশি সময়। আর এই অবস্থায় রাষ্ট্রের মানুষের টাকা পাচার কিংবা লুটপাট এই বলেন , পিকে হালদার (প্রশান্ত কুমার হালদার) এর মতো লোকের উপর দুদকের অভিযানে বেরিয়ে আসে কয়েক হাজার কোঠি টাকার আত্মসাৎ এর অভিযোগ । অভিযুক্ত ব্যক্তিটি দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতারের করতে পারেনি সরকার ।মানুষের প্রশ্ন একটা দেশের জন্য এই টাকা কি বেশি বড় কিছু নয়? তাছাড়া এই দেশের সম্পদ যদি বিদেশে পাচার হয় তা কি অর্থনীতিকে পঙ্গু করেনা? কিছু দিন পূর্বেও দেখলাম মুনিয়া হত্যাকাণ্ডে এক বড় ব্যবসায়ীর নাম আসলো কিন্তু কই তখন তো মিডিয়া ছিল নীরব । আর প্রশাসনের তৎপরতায় মানুষ খুশি হতে পারেনি । আর নীরবে হয়ত আইন তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে । কারণ আইনের কাছে ডকুমেন্ট আর সাক্ষী ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মামলা টিকে থাকে না । এভাবে অনেক ঘটনা আমরা বিভিন্ন সরকারের আমলে ও দেখতে দেখতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি । এমন কি ব্যাংক লুটপাট এর মতো বড় ঘটনা ও ঘটেছে কয়েকবার কিন্তু তার কোন বড় অ্যাকশন চোখে পড়েনি। আজকে প্রশাসন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পরীমণিকে গ্রেফতার করল । এরপর থেকে এখন অব্দি সামাজিক মিডিয়া কে সরগরম করে রেখেছি আমরা একটি মেয়ে পরীমণির জন্য । তাঁকে দেখতে এজলাস থেকে শুরু করে কাসিমপুর কারাগার পর্যন্ত আমরা ভিড় করছি । সমস্ত মিডিয়া ব্যস্ত নিউজ কভার এর জন্য কিন্তু তার জামিনের ব্যাপারে কথা বলছেন না কেউ । আজকে কিছু বুদ্ধিজীবী তার পক্ষে কথা বললেও তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র পরিবার সে আইনের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার সদস্য পদ স্থগিত করেছেন । তাহলে এই নয়কি যখন মরবি আগে মর। একটি প্রতিষ্ঠান কি করে এত নিঠুর হয় তা ওনারা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু বিপদ এরকম আসবে বারবার যদি আপনারা আগাছা পরিষ্কার না করেন । মাত্র ২৮ বছরের মেয়ে পরীমণি যার কিনা মা বাবা ও নেই। সে পালিত হয়েছে খালার কাছে এবং গার্জিয়ান বলতে নানাই আছেন এখন ,বয়সের ভারে যিনি ঠিকমত দাঁড়াতে পারেননা । তো কি করে তিনি তার নাতনিকে দেখে রাখতে পারেন ? তাছাড়া সে একজন বাংলা সিনেমার নায়িকা বলে কথা । সেত ইসলামিক আবহে গড়ে ওঠা মেয়েদের চাইতে একটু ভিন্ন হবেই । তবে এটা ও মনে রাখা উচিত ছিল তার এদেশ যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, সেখানে একজন মুসলমান মেয়ের মতো আমার ও থাকা উচিত। আসলে গ্রামের মেয়ে পরীমণি তাই হয়ত নিজের ক্ষমতা, ভালো-মন্দ, কিংবা লড়াই কোথায় করতে হয়। কোথায় এড়িয়ে যেতে হয় সেই অভিজ্ঞতা ছিল না । এটাই হয়ত তার কাল হয়েছে অনেকে মনে করছেন । এদেশে সাবানা ,ববিতার মতো স্বনামধন্য নায়িকারা কাজ করেছেন চলচ্চিত্রে কিন্তু তাদের তো এরকম পরিস্তিতি মোকাবেলা করতে হয়নি কারণ তারা ছিলেন সচেতন এবং নিজেদের একটি সুস্থ সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন বলেই তারা এখনো আমাদের কাছে আদর্শিক মানুষ হিসাবে পরিচিত । আজকে চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা একটা বড় ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু কিছু নির্মাতা আর ছবি পরিচালকের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে। তাদের বীরুদ্ধে যদি সরকার অ্যাকশন এ যেতেন তাহলে হয়ত অশ্লীলতা মুক্ত ছবি আমরা পেতে সক্ষম হতাম। আর আগের দিনে যেভাবে মানুষ তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখতে যেতে পারতেন সেরকম পরিবেশ হয়ত ফিরে আনা সম্ভব হত ।তখন সিনেমা নিয়ে কথা বলতে সবার সামনে লজ্জা পাওয়ার যে ভয় সে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটতো অতি সহজে । সিনেমা শিল্প থেকে যেভাবে চায়না , ইন্ডিয়া প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সেখানে আমরা সব শ্রেণী পেশা ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো ছবি করতে ব্যর্থ হওয়াতে বিশ্ব বাজারে আমরা তাদের মতো ভালো নেই । এছাড়া একটা ভালো ছবি করতে হলেও টাকার প্রয়োজন কিন্তু আমাদের দেশে আজকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ও অভাব রয়েছে অনেকে মনে করেন । সরকার ও হয়তো মান সম্মত ভালো ছবি তৈরি না করাতে এসব ছবিতে ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই ছবি নির্মাতাদের অবশ্যই ভালো মানের ছবি তৈরি করতে হবে, যেখান থেকে মানুষ অনেক ভালো কাজ করার আগ্রহ লাভ করতে পারে,সামাজিক মুল্যবোধ যাতে মানুষের মাঝে গড়ে ওঠে সে দিকে নজর দিতে হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় কিভাবে হয়? এবং এর পরিত্রাণ ও কি করে হয় তা মানুষকে বুঝিয়ে দিতে হবে ছবির অভিনয়ের মাধ্যমে, আর অর্থের লোভে আমারা নায়িকাদের নগ্ন দেহ পরিবেশনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, আগের যুগে যে অশ্লীলতামুক্ত জীবনমুখী ছবি করা হতো তাকি মানুষ দেখত না ? নিশ্চয় দেখেছেন বলে আজকে এত সুনাম । তাই এই অনৈতিক কাজগুলো ও একটা সামাজিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিতে বড় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। তাই আইনের ব্যবহার করে এই ঘৃণিত কাজকে বাদ দিতে হবে। যদি আইন যথার্থ না থাকে তবে ভালো আইন করে নিতে হবে এবং এর প্রয়োগ ও করতে হবে। তাতেই মানুষ মডেলদের ঘরমুখী না হয়ে সিনেমামুখী হবে। পরিচালক ও নির্মাতাদের একটি নায়িকা বা নায়ক নির্বাচনে সুচিন্তার পরিচয় দিতে হবে। এখানে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ কিংবা টাকার বিনিময়ে অদক্ষ,অযোগ্য লোককে দিয়ে নায়ক বা নায়িকা বানানোর পথ থেকে ফিরে আসতে হবে । অবশ্য যারা এ বিষয়ে সজাগ থেকে কাজ করছেন তাদেরকে সাধুবাদ জানাই । ইতোমধ্যে সরকারের দক্ষতার জন্য আমরা অনেক রাতের রানিদের চিনতে পেরেছি কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত রাতের রাজাদের অন্ধকার জগত থেকে সমাজের সামনে বের করে নিয়ে আসতে পারেনি। তাই এবিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। না হয় অ্যাকশন একতরফা হয়ে যাবে । আর এখনো যারা বহাল আছেন তাদের ধরতে হবে । আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জাতি জানাতে চায়, সাংবাদিক রুজিনা , নায়িকা পরীমণিকে যেভাবে গ্রেফতার করেছেন ঠিক সেভাবে টাকা পাচারকারী , মানুষ হত্যাকারী , দুর্নীতিবাজ আমলা যাদের কথা ইদানিং বাজারে উড়ছে, এবং কানাডার বেগম পাড়াতে যারা বাড়ি করেছেন, তাদেরকে এভাবে গ্রেফতার করলে জাতি আপনাদের বাহবা দিবে ।
আর এও বলা দরকার এরকম যারা গ্রেফতার হচ্ছেন নিরস্ত্র নারী তাদেরকে গ্রেফতারে এক ব্যান পুলিশই যথেষ্ট অনেকে মনে করছেন সেখানে এত বড় বাহিনী নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা ছাড়া আর কি হতে পারে । তাই সুব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার পরিচয় আপনাদের দিতে হবে । যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা যেন আইনের বিচার পায় আমরা তাদেরকে অপরাধী বলবনা যতক্ষণ না বিচার হয় । এখানে যেন কোন ব্যক্তি কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের আক্রোশের স্বীকার তিনি না হন । সরকারকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে অনেক বিজ্ঞজন ইতিমধ্যে পরামর্শ ও দিয়েছেন । আর পরীমণিদের বোধোদয় হওয়া উচিত যে, আইন দুনিয়াতে ও আছে এবং আখারাতেও থাকবে। তাই নিজের স্বার্থে আমাদেরকে নিজেরাই সংশোধন করতে হবে । তাহলে আর এ রকম দৃশ্য দেখতে হবেনা। বাংলাদেশের মানুষ চলচ্চিত্রের সুস্হতা ফিরে পেতে চায় আর সরকার এ বিষয়ে মানুষের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। তাই সাবধান হয়ে যান , যারা এখনো নিজেদের সংশোধন করতে পারেননি। বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকার আপনাদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মনে রাখবেন । আসুন চলচ্চিত্র নির্মাতা, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ আমরা দেশবাসী সবাই প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন পর্যন্ত তার হারানো গৌরব ফিরে না পায় ততদিন পর্যন্ত আমরা লড়ে যাব একটি সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় ।

আজিজুল আম্বিয়া
লেখক ও কলামিস্ট
Azizul.ambya@yahoo.co.uk

ছড়িয়ে দিন