বাঙালির ইতিহাস কাঁপানো একটি অর্জন হলো পদ্মা সেতু

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২২

বাঙালির ইতিহাস কাঁপানো একটি অর্জন হলো পদ্মা সেতু

সৌমিত্র দেব

বাঙালির ইতিহাস কাঁপানো একটি অর্জন হলো পদ্মা সেতু।

 

একটি মাইলফলক। অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি এই সেতু বাঙালির জীবনে অনেক প্রভাব বিস্তার করেছে। । এই সেতুর সাথে মিশে আছে ১৭ কোটি বাঙালির সুখ-দুঃখ আর আর্থ-সামাজিক মুক্তির সোপান।

বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেখানোর মতে সাধ্য কারো ছিলনা। নিজস্ব অর্থায়নে এতো বড় বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেখানোর সেই দুঃসাধ্য দেখালেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু এখন আর বাঙালির কাছে স্বপ্ন নয়। পদ্মা সেতু এখন বাঙালির কাছে এক গৌরবোজ্জ্বল সোনালী অহংকার। এই পদ্মা সেতুই আবার বিশ্বকে জানান দিল বাঙালিদেরকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। খরস্রোতা পদ্মার বুকে মাথা উচুঁ করে উদ্বোধন   হয়েছে স্বপ্নের সেতুটি। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। এ প্রকল্পের সাথে মিশে ছিল বাঙালির অস্তিত্ব, টিকে থাকার সংগ্রাম।

পদ্মা সেতু প্রকল্পটি বিভিন্ন প্রকৌশল বিস্ময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ প্রত্যক্ষ করেছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য একটি বিস্ময়কর কাঠামো হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় শিল্প যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিভাবে ব্যবহার করা হয় তা জানা যায়।
রাজনৈতিক বিবেচনায় সেতুটি নির্মানে বৈদেশিক অর্থায়ন বন্ধ করে কার্যত এই উদ্যোগ বাতিল করার সূক্ষ্ম প্রচারণার মধ্যে এই প্রকল্প বহুমুখী বাধার সম্মুখীন হয়েছিল।
বেশ কিছু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিশ্লেষক এমনকি কিছু বিদেশী অংশীদারদেরও অনুমান ছিল যে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত , শক্তিশালী পদ্মা বিজিত হয় এবং উভয় তীরের মানুষ এখন আর অসহায় থাকবে না, কারণ তারা উভয় পাড়ের সাথে সংযোগ পেয়েছে।
রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সেতুর উপর দিয়ে মাত্র ৬ মিনিটে ফেরি ঘাটের ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন ছেড়ে সড়কপথে সরাসরি ঢাকায় যাবেন।
স্বপ্নের সেতু শুধু রাজধানী ঢাকা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগই স্থাপনই করবে না এটি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ ও বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেবে।
পদ্মা সেতুতেও অগ্রণী ভুমিকা রেখেছে
দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।

পদ্মা সেতু তৈরিতে এককভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে এই প্রতিষ্ঠান । এখন পর্যন্ত ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে ব্যাংকটি। আরও ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করবে অগ্রণী ব্যাংক। নিজস্ব রফতানি এবং প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়েই ব্যাংকটি এই অর্থ সরবরাহ করেছে ।

রেডটাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্ম মর্যাদার প্রতীক । এই সেতুর জন্য কথা ছিল বিশ্বব্যাংক ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে । কিন্তু কাল্পনিক অভিযোগ এনে তারা ঋণ প্রত্যাহার করে।বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে উদ্যোগ নিলেন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার। অগ্রণী ব্যাংকও উৎসাহের সঙ্গে এই প্রকল্পের পুরো বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের দায়িত্ব নিল। শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকা-কে গতিশীল করবে।

সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর আতিউর রহমানকে ধন্যবাদ দেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি। তিনি বলেন, ‘এই তিনজন ব্যক্তিত্ব পদ্মা সেতুতে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা জোগান দেয়ার ব্যবস্থাটি আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সেতু বিভাগের সচিব, গবর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের সবাইকে অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ।’ ২০১২ সালে পদ্মা সেতুর হিসাব খোলা হয়। সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ডলার সরবরাহ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ডলার সরবরাহ করা হয়েছে ১.৪ বিলিয়ন ডলার। আরও অন্তত এক বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে হবে এই প্রকল্পে।

 

নি:সন্দেহে বলা যেতে পারে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন- পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, চট্রগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, মেট্রো রেলসহ একাধিক উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্পের শীর্ষে ছিল এই পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি। শুধু শীর্ষেই নয় বরং এটি ছিল আওয়ামীলীগ সরকারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প।

পদ্মা সেতুতেও অগ্রণী ভুমিকা রেখেছে
দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।

পদ্মা সেতু তৈরিতে এককভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে এই প্রতিষ্ঠান । এখন পর্যন্ত ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে ব্যাংকটি। আরও ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করবে অগ্রণী ব্যাংক। নিজস্ব রফতানি এবং প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়েই ব্যাংকটি এই অর্থ সরবরাহ করেছে ।

রেডটাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্ম মর্যাদার প্রতীক । এই সেতুর জন্য কথা ছিল বিশ্বব্যাংক ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে । কিন্তু কাল্পনিক অভিযোগ এনে তারা ঋণ প্রত্যাহার করে।বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে উদ্যোগ নিলেন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার। অগ্রণী ব্যাংকও উৎসাহের সঙ্গে এই প্রকল্পের পুরো বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের দায়িত্ব নিল। শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকা-কে গতিশীল করবে।

সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর আতিউর রহমানকে ধন্যবাদ দেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি। তিনি বলেন, ‘এই তিনজন ব্যক্তিত্ব পদ্মা সেতুতে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা জোগান দেয়ার ব্যবস্থাটি আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সেতু বিভাগের সচিব, গবর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের সবাইকে অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ।’ ২০১২ সালে পদ্মা সেতুর হিসাব খোলা হয়। সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ডলার সরবরাহ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ডলার সরবরাহ করা হয়েছে ১.৪ বিলিয়ন ডলার।