বাজেটে এবারও সমতার প্রশ্নটি উপেক্ষিত : ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮

বাজেটে এবারও সমতার প্রশ্নটি উপেক্ষিত  : ওয়ার্কার্স পার্টি

আগামী বছরের বাজেট প্রস্তাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রয়ায়  ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, বাজেটে এবারও সমতার প্রশ্নটি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উপসংহারে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সাথে এযাবতকাল সমতা বিধানের অসামঞ্জস্যতার কথা স্বীকার করে একে ভবিষ্যতের জন্য রেখেছেন। আগামীতে “প্রবৃদ্ধিকে সুসংহত ও টেকসই” করার কথা বলা হলেও ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য দূরীকরণের কোন পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। এই আয় বৈষম্য ও অসমতা অর্থনৈতিক সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরী করে ঐ উন্নয়নের পথকেই বরং বন্ধুর করে তুলবে। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিক্রিয়ায় বলা হয় এবারের বাজেট বড়লোক, বিশেষ করে ব্যাংক মালিকদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। ব্যাংক মালিকদের জন্য আরও বড় ধরনের ছাড়, ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরোধ, ঋণখেলাপী ও বিদেশে অর্থপাচার সম্পর্কে নিশ্চুপতা এই পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ।
সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের উপর নতুন কোন করারোপ না করা, তাদের ব্যবহার্য কিছু কিছু জিনিসের উপর ছাড় প্রদান নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। কিন্তু কর্মহীন বিশাল যুবগোষ্ঠীর জন্য কোন সুসংবাদ এ বাজেটে নাই। বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় সে খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা না থাকায় দেশের বৃহদাংশ জনগোষ্ঠী তরুণদের ক্ষোভও হতাশা আরও বাড়বে। ব্যাংক মালিকদের মুনাফার লোভ, সুদের বিশাল অংক, ব্যাংক ঋণের জন্য জামানত প্রদান করতে না পারা তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে।
তবে সামাজিক সুরক্ষা যাতে উপকার ভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান, তাদের শিক্ষা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, সার্বজনীন পেনশন স্কীমের প্রস্তাবনা বাজেটের উজ্জল দিক।
ওয়ার্কার্স পার্টি গত দশ বছরে অর্থনীতি একটি সাবলীল জায়গায় প্রতিস্থাপিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় বলা হয় কিন্তু একে টেকসই ও প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব করতে প্রবৃদ্ধির সাথে সমতার মেলবন্ধন অবশ্যই ঘটাতে হবে। তাহলেই কেবল “সমৃদ্ধির আগামীর পথযাত্রা” নিশ্চিত হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত “সমতা মানবিক মর্যাদাবোধ ও সামাজিক ন্যায় বিচার” প্রতিষ্ঠিত হবে।