বাবা মায়েরা দূর থেকে জানে ,ওরা ভাল আছে

প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৮

বাবা মায়েরা  দূর থেকে জানে ,ওরা ভাল আছে

শিরিণ  ওসমান

আমরা পাঁচ ভাই বোন । আমি বড় । আমরা চার ভাইবোন পিঠাপিঠি ছিলাম। আমি ছোট বেলা থেকে নাকি খুব কথা বলতাম। যেচে কথা বলতাম। কথা শেষ হতো না। আম্মা সংসারের কাজে ব্যস্ত। আব্বা আমাকে নিয়ে অনেক মজা করতেন। আমার সবার ছোট ভাইটি বেশ পরে এসেছে। তখন আমরা ভাই বোনরা বলা যায় যে যার দায়িত্ব, নিয়ম শৃংখলা বুঝে নেবার মত বয়স হয়েছে।সবার ছোট ভাইটি বাড়ীর সবার আদরের ছিল। এত আদরের যে বলার নয়। খুব লক্ষি আর বাধ্য ছিলো। সারাক্ষন আমার পিছু পিছু। বলা যায় মায়ের দায়িত্ব নিয়ে আমিই তাকে বড় করেছি। একুশ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তখন আমি বি এ সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । খুব কষ্ট হয়েছিল আমার নয় বছরের ছোট ভাইটিকে ছেড়ে এসে স্বামীর বাড়ী থাকতে। যত কষ্টই হোক দিন চলে যায়। বিয়ের তের বছর পর ঘর আলো করে আমার কন্যা এই পৃথিবীতে আসে। এর দুবছর পর আসে ওর ভাই।খুব খুশী হয়েছিলো সবাই। সবার ভালবাসা আর আনন্দে আমার বাচ্চারা বড় হতে লাগলো।পিঠাপিঠি ভাই বোন। সবসময় চোখে চোখে রাখতে হতো। ওদের বাবা বাচ্চাদের অসুখ বিসুখ হলে ভীষন ঘাবড়ে  যেতেন। সেরে গেলে যথারীতি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।বলা যায় এক হাতেই বাচ্চাদের বড় করেছি। গৃহকর্মীদের সহযোগিতা এবং ওদের আদর যত্ন আমার বাচ্চাদের বিশেষ পছন্দের ছিল।ঢাকার ব্যস্ত জনজীবনে বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেয়া,হোম ওয়ার্ক কারানো সেই সাথে ছবি আঁকার স্কুল, মেয়ের নাচের ক্লাস, মহা ব্যস্ত জীবন। বাসা থেকে স্কুলের দুরত্ব অনেক। ছুটির পর ধানমন্ডি থেকে গুলশান আসতে দেড় দুই ঘন্টা লেগে যেতো। আমার বাচ্চাদের মারধর করার অভ্যাস ছিল না। ছোট ভাইদের কখনো মেরেছি বলে মনে পড়ে না। কে জি টুতে পড়ে তখন মাইশা। পড়াচ্ছিলাম । কেন জানি কী নিয়ে তর্ক করায় গালে চড় দিয়েছিলাম। মাইশা অবাক। কোনো কান্না নয়। ছয় বছরের মেয়ে আমার, আমাকে শাসনের সুরে বললো, ‘ তুমি এত ছোট একটা বাচ্চার গালে চড় দিয়েছো ? ‘ আমি যেন বিমুর হয়ে গেলাম। এইটুকু মেয়ে এমন করে প্রতিবাদের সুরে কথা বলতে পারে ? ও তো ছোট্ট পাখি আমার। আসলে শিশুদের ব্যক্তিত্ব জন্মের পর থেকে তিল তিল করে গড়ে ওঠে। দুই বছরের বাচ্চা বুঝে যায় সে আর সবার মতো একজন ব্যক্তি। তাদের সাথে সাবধানে কথা বলতে হয়, যখন বলার প্রয়োজন পড়ে। সন্তানরা পিতা মাতার কাছে চির শিশু। অপত্য স্নেহ ভালবাসা আমৃত্যু থেকে যায়। মায়েদের জীবন যেন সন্তানদের জন্যই সমর্পিত। ওরাই বাবা মায়ের কাছে সব। কিন্তু তাই বলে কী ওদের ধরে রাখা যায়? যায় না। ওরা নতুন জীবনের পানে এগিয়ে চলে। বাবা মায়েরা  দূর থেকে জানে ওরা ভাল আছে, সুখী আছে। এতেই ওরা সুখী।